<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264</id><updated>2012-02-16T00:52:02.727-08:00</updated><category term='ড্রোন'/><category term='যুক্তরাষ্ট্র'/><category term='ইরান'/><title type='text'>বায়তুল হিকমাহ</title><subtitle type='html'>‍আশরাফ রহমানের ব্লগস্পট</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>23</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-1674322110020422108</id><published>2012-01-22T11:51:00.000-08:00</published><updated>2012-01-22T12:10:11.553-08:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='যুক্তরাষ্ট্র'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ড্রোন'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ইরান'/><title type='text'>ইরানে মার্কিন ড্রোন ও সিআইএ’র গুপ্তচর আটক : হোয়াইট হাউজের উদ্বেগ</title><content type='html'>&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/-9517HcaX5qs/Txxr0Hc6b9I/AAAAAAAAAOA/O4UxSDrWwW0/s1600/1.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 400px; height: 225px;" src="http://1.bp.blogspot.com/-9517HcaX5qs/Txxr0Hc6b9I/AAAAAAAAAOA/O4UxSDrWwW0/s400/1.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5700549771441893330" /&gt;&lt;/a&gt;
ইরানের সেনাবাহিনীর হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান বা আরকিউ-১৭০ ড্রোন আটকের ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। মার্কিন ড্রোনটি  ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে ইরানের সশস্ত্রবাহিনী সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। ইরানের এ সফলতাকে একদিকে সাইবার যুদ্ধে মার্কিনীদের জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে অন্যদিকে সাইবার প্রযুক্তিতে ইরানের দক্ষতারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্কিন ড্রোন আটক নিয়ে আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই  ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একজন গুপ্তচরকে আটকের খবর দিয়েছে। গুপ্তচর আটকের ঘটনা মার্কিন তথ্য ও গোয়েন্দা বিভাগের জন্য আরেকটি আঘাত বলে অনেকে মনে করছেন।  

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;আরকিউ-১৭০ ড্রোন : রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম!&lt;/span&gt;

৪ ডিসেম্বর, রোববার।  আফগান সীমান্ত থেকে ইরানের প্রায় আড়াইশ' কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ার পর  ইরানি সেনাবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট মার্কিন চালকবিহীন  আরকিউ-১৭০ সেন্টিনাল স্টিলথ বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। ‘বিস্ট অব কান্দাহার’ নামে পরিচিত ড্রোনটির সঙ্গে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম মার্কিন অত্যাধুনিক বিমান বাহিনীর বোমারু বিমান বি-২ নকশার মিল রয়েছে।  এছাড়া এফ-৩৫ জঙ্গী বিমান নির্মাণে যে ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে সেই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে আরকিউ-১৭০ ড্রোনে। ফলে এ ড্রোনের গুরুত্ব আরো কয়েকগুণ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, আরকিউ-১৭০ ড্রোন দিনের পর দিন আকাশে ভেসে থাকতে পারে।  ড্রোনটি তার উড্ডয়ন পথের বিশাল এলাকা জুড়ে সব ধরনের বেতার যোগাযোগের বিরুদ্ধে আড়ি পাততে পারে। এমনকি প্রয়োজনে ড্রোনটি তার উড্ডয়নে পথের বিশাল অঞ্চল জুড়ে সব ধরনের বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যামও করে দিতে পারে। আরকিউ-১৭০ ড্রোনে যে রাডার বসানো আছে তাও অনন্য এবং অত্যাধুনিক । এ ড্রোনে বসানো আছে নানা ধরনের ক্যামেরা, লেন্স ও সেন্সর এবং এ সবের সাহায্যে অনন্য ছবি তুলতে পারে ড্রোনটি। কিন্ত এতো কিছুর পরও ইরান ড্রোনটিকে ভূপাতিত ধারণা করা হচ্ছে- ইরানিরা ড্রোনটির নেভিগেশন সিস্টেম হ্যাক করেছিল, আর তাতেই এটি নিরাপদে মাটিতে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে ইরানের মাটিতে নামিয়ে আনার ঘটনা তেহরানের জন্য বিশাল সাফল্য এবং ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করা হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানকে কোন কৃতিত্ব দিতে নারাজ। তারা দাবি করেছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাদের ড্রোন ইরানে ভূপাতিত হয়েছে। এ দাবির মাধ্যমে তারা এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চান। একদিকে দেখাতে চান, তারা ইচ্ছে করে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেননি এবং অন্যদিকে ইলেকট্রনিক যুদ্ধে ইরানের সক্ষমতাকে উপেক্ষা করতে চান তারা। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;ড্রোন ফেরত চেয়েছেন ওবামা, ইরানের ‘না’&lt;/span&gt;

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অবশেষে স্বীকার করেছেন যে, ইরান তাঁর দেশের একটি চালকবিহীন বিমান আটক করেছে।  ওয়াশিংটনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকিকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ওবামা ওই ড্রোনটি ফেরত চান। তিনি বলেন, ‘এর পর ইরান কি আচরণ করবে সেটি যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করবে।’ তবে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান আলাউদ্দিন বুরুজারদি বলেছেন, ভূপাতিত মার্কিন  ড্রোন ফেরত দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরো বলেছেন, ‘ইরানের আকাশসীমা লংঘনের জন্য বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রমিন মেহমানপারাস্ত বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানে ভূপাতিত হওয়া ড্রোন ফেরত চেয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিতান্তই তাদের মুখ বাঁচানোর কৌশল। তিনি আরো বলেছেন, ইরানের আকাশসীমা লংঘন করার অপরাধে মার্কিন সরকার ক্ষমা না চেয়ে বরং তারা উল্টো অসৎ কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। মেহমানপারাস্ত আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে হয় ভুলে গেছেন যে, তাদের গোয়েন্দা বিমান ইরানের আকাশসীমা লংঘন করে গুপ্তরচরবৃত্তির কাজ করছিল। এ ছাড়া, মার্কিন প্রশাসন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে হস্তক্ষেপ করে আসছে। এ সবই আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লংঘন বলে মন্তব্য করেন রমিন মেহমানপারাস্ত। 
অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি বলেছেন, ভূপাতিত হওয়া মার্কিন ড্রোন এখন ইরানের সম্পদ। তিনি জানিয়েছেন, এ ড্রোন এখন নিজস্ব সম্পদ হিসেবেই ইরানে থাকবে এবং ইরানি জাতিই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;আরকিউ-১৭০ বিমানের উন্নত সংস্করণ তৈরি করবে ইরান&lt;/span&gt;

যুক্তরাষ্ট্র যে ড্রোনটিকে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে দাবি করেছিল, সেটি ইরানের হস্তগত হওয়ায় মার্কিন সরকারের রাডার ফাঁকি দেয়ার সব কলাকৌশল এখন ইরানের আয়ত্বে চলে এসেছে।  ইরান ঘোষণা করেছে, আরকিউ-১৭০ বিমানের উন্নত সংস্করণ তৈরি করবে তেহরান। আরকিউ-১৭০ খতিয়ে দেখে তারচেয়েও উন্নত মানের ড্রোন তৈরির ক্ষমতা যে ইরানের আছে, তা  স্বীকার করেছেন মার্কিন দৈনিক 'ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরের' সাংবাদিক পিটার গ্রিরিয়ার। তিনি এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নিম্ন অবস্থানে রয়েছে এমন একটি দেশ মার্কিন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অনুকরণ করতে পেরেছিল। তিনি জানান, ১৯৪৭ সালের আগস্টে অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন 'তু -৪ বুল'নামের বিমান প্রদর্শন করে। এ বিমানটি মার্কিন বোমারু বিমান বি-২৯-এর অনুকরণে তৈরি করা হয়েছিল। এর আগে অর্থাৎ ১৯৪৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি ঘাঁটিতে বি-২৯ বিমান জরুরী অবতরণে বাধ্য করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত সরকার।‘ 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;হোয়াইট হাউজের বিস্ময় ও শংকা&lt;/span&gt;

ইরানের সেনাবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট মার্কিন অত্যাধুনিক পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোন ইরানের মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা হতভম্ভ ও বিস্মিত হয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা প্রথম দিকে  মার্কিন ড্র্রোন ইরানের হস্তগত হওয়ার ব্যাপারে নানা সন্দেহ ও সম্ভাবনার কথা বললেও ইরান বিষয়টিকে গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের কথাবার্তায়ও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে । মার্কিন দৈনিক ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এর আগে খবর দিয়েছিল, আরকিউ-১৭০ ড্রোন ইরানীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার অথবা তা ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু ইরানি সেনাবাহিনী পাল্টা আঘাত হানতে পারে এ আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সে চিন্তা থেকে সরে আসে। 
ওয়াশিংটনের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো- ড্রোনটি আটক হওয়ার পর রাশিয়া ও চীন তা পরিদর্শনের অনুমতি চেয়েছে ইরানের কাছে।  রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ কুইন্টানা এ বিষয়ে বলেছেন, রাশিয়া ও চীনকে ইরান ড্রোনটি দেখতে দিলে তারা অত্যাধুনিক বিমানটি নকল করবে। তারা এ ড্রোনের রাডার ফাঁকি দেয়ার বিষয়টির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে স্টিলথ প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গী বিমান অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। চীন ও রাশিয়া এ প্রযুক্তি সংগ্রাহের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। কুইন্টানা বলেন, মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের জন্য চীন খুবই আগ্রহী। চীন ও রাশিয়া ড্রোনের সেন্সর পর্যবেক্ষণ করতেও খুব আগ্রহী। এ সেন্সরের মাধ্যমে ড্রোনটি বিশাল এলাকার ওপর নজর রাখতে সক্ষম। এছাড়া রাডার ফাঁকি দিতে ও মাটি থেকে ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে উড়তে সক্ষম। মার্কিন নৌবাহিনীর পি-৩ ওরিয়ন ২০০১ সালে চীনের হস্তগত হয়। এর ফলে চীন গোয়েন্দা ব্যবস্থার পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম হয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার পুরো নৌবহরকে আরও উন্নত করতে বাধ্য হয়। কুইন্টানা বলেন, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান মার্কিন ড্রোন নামিয়ে আনায় একদিকে যেমন ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধে তাদের দক্ষতার প্রমাণ মিলেছে অন্যদিকে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে পরিচিত অত্যাধুনিক এ ড্রোন এখন ইরানী বিশেষজ্ঞদের নাগালে চলে এসেছে। এটি ইসরাইল ও মার্কিনীদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর একটি ঘটনা। 


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;ড্রোনের পর সিআইএ’র গুপ্তচর আটক&lt;/span&gt;

ইরানে  মার্কিন ড্রোন ভুপাতিত হওয়া নিয়ে মিডিয়ায় যখন তোলপাড় চলছে ঠিক তখন (১৭ ডিসেম্বর)  ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএ’র একজন গুপ্তচরকে আটক করার দাবি করেছে।  ১৮ ডিসেম্বর সিআইএ'র গুপ্তচর আমির মির্জা হেকমাতি  ইরানের টেলিভিশনে প্রচারিত এক স্বীকারোক্তিতে আমির মির্জা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় তার বাড়ি এবং ২০০১ সালে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এরপর এক দশক ধরে তিনি গুপ্তচরবৃত্তির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় বাগরাম বিমান ঘাঁটিতেও তিনি কাজ করেছেন। এছাড়া তেহরানে আসার আগে তাকে মার্কিন গোয়েন্দারা বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। স্বীকারোক্তিতে আমির মির্জা জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি কিছু তথ্য দিয়ে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের আস্থা অর্জন করতে চেয়েছিলেন। এ মিশন সফল হলে তাকে সিআইএ আরো বড় মিশনের পাঠানোর কথা বলেছিল। এ জন্য তাকে বিপুল অংকের অর্থও দিতে চেয়েছিল সিআইএ। আমির মির্জা ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। তবে তার মিশন শুরু হওয়ার আগেই এই মার্কিন গুপ্তচর ইরানের গোয়েন্দা সেনাদের হাতে আটক হয়। সিআইএ'র ওই চর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফগানিস্তানের বাগরাম সেনাঘাঁটিতে পৌঁছার পর থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল ইরানের গোয়েন্দা সেনারা। পরবর্তীতে ইরানের ভূমিতে প্রবেশ করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;গুপ্তচরকে ফেরত চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র&lt;/span&gt;

ইরানে আটক মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ'র একজন গুপ্তচরকে অবিলম্বে ফেরত দেয়ার আহবান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড হেকমাতিকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন,যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে নিযুক্ত সুইস দূতাবাসের মাধ্যমে হেকমাতির সঙ্গে সাক্ষাত করতে সুযোগ দেয়ার জন্য ইরানের কাছে আবেদন জানিয়েছে। নুল্যান্ড দাবি করেছেন, ইরানে আটক মার্কিন গুপ্তচর হেকমাতির পরিবার গত সেপ্টেম্বরে তার আটকের খবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানিয়েছে। তিনি আরো দাবি করেছেন, হেকমাতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিযোয়ানা অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর মার্কিন মেরিন বাহিনীতে যোগ দেন।

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;‘সিআইএ'র শ্রেষ্ঠত্বের দাবি ভেঙ্গে দিয়েছে ইরান'
&lt;/span&gt;
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য হাসান কামরান বলেছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ'র গুপ্তচর আটকের মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের গোয়েন্দা শক্তি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সিআইএ'র এ গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনাকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন। হাসান কামরান আরো বলেন, ‘এ ঘটনার আগে শত্রুরা কখনই চিন্তা করেনি যে, তাদের গুপ্তচরেরা ইরানের গোয়েন্দাদের হাত ধরা পড়তে পারে।’
ইরানে এর আগেও সিআইএ'র গুপ্তচর আটক করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে সিআইএ'র গুপ্তচর ও সন্ত্রাসী চক্রের ৩০ সদস্যকে আটক করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর আরো ১২ জন সিআইএ এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ইরানের পরমাণু স্থাপনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাশকতামূলক তৎপরতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তবে ইরানের হাতে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান আরকিউ-১৭০ ভূপাতিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইহুদিবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই -সিক্সকে একসঙ্গে ইরান বিরোধী তৎপরতার জন্য নতুন কর্মসূচি গ্রহণে মার্কিন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি আলাদা বাজেটও দিয়েছেন। 
প্রশ্ন হচ্ছে, একটি দেশের আকাশসীমা লংঘন করা এবং গুপ্তচর পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির আলোকে সমর্থনযোগ্য কিনা। এ বিষয়ে  জাতিসংঘ সনদের চার নম্বর অনুচ্ছেদের দু'নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, "কোন দেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি বা বলপ্রয়োগ নিন্দনীয়। ১৯৭৪ সালে এ ধারায় আনা এক সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোন দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনকে ওই দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। " 
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর জন্যই সিআইএ ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে  ড্রোন  ও গুপ্তচর পাঠিয়েছিল। কাজেই আন্তর্জাতিক আইনে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মাদ খাযায়ি এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মার্কিন ড্রোন কর্তৃক ইরানের আকাশসীমা লংঘনের ব্যাপারে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;হুমকি পাল্টা হুমকি&lt;/span&gt;

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একপেশে রিপোর্ট, ইরানে 'স্টুক্সনেট' ভাইরাসের মত সাইবার হামলা,  ইরানের কয়েকজন বিজ্ঞানীকে হত্যা,  ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে হত্যার কথিত পরিকল্পনা,  তেহরানস্থ ব্রিটিশ দূতাবাসে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের হামলা, ব্রিটেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং মার্কিন ড্রোন ও সিআইএ’র গুপ্তচর আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হুমকি-পাল্টা হুমকি অব্যাহত রয়েছে।    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন 'দ্য আর্লি শো' নামের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'ইরানকে একঘরে করার জন্য বিশ্বকে একতাবদ্ধ করা জরুরি হয়ে উঠেছে এবং এ ভাবেই কেবল কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে।' ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছেন।  ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, উইলিয়াম হেগ বলেছেন, ব্রিটিশ সরকার দীর্ঘমেয়াদে ইরানের ওপর সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। অন্যদিকে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ বলেছেন, ইরানের ওপর হামলার সম্ভাবনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধমন্ত্রী ইহুদ বারাকও একই রকমের হুমকি দিয়েছেন।
তবে এসব হুমকির বিরুদ্ধে ইরানী কর্মকর্তারাও পাল্টা হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদি বলেছেন,  ইরান আক্রান্ত হলে ইসরাইলকে ভালো মতো শিক্ষা দেয়া হবে। তিনি আরো বলেছেন, ইরানের ওপর সামরিক হামলা হলে ইসরাইলের টিকে থাকার সামান্যতম সম্ভাবনা নেই। ইসরাইলের সব জায়গায় ইরান হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মারবে। ইরানের দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের জন্য অপেক্ষা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর যে হুমকি দিচ্ছে তা তেহরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ছাড়া আর কিছু নয়।  
 
ইরানের শীর্ষস্থানীয় সেনা কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল যদি ইরানের পরমাণু স্থাপনায় একটা ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে তাহলে ইসরাইলের প্রতি ইঞ্চি ভূমি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এ হামলা থেকে ইসরাইলের পরমাণু স্থাপনাও বাদ যাবে না। ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্যের জবাবে তিনি আরো বলেছেন, "ইরান শুধু শত্রুদের হামলা প্রতিহতই করবে না বরং শত্রুর ভূখণ্ডেও ধ্বংসাত্মক পাল্টা হামলা চালাবে।" 
 
&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;‘ইসরাইল-আমেরিকার পিছটান’&lt;/span&gt;

এতদিন ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা পিছু হঠেছে। ইসরাইলের সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী শাঁওল মোফায বলেছেন, ইরানে হামলা করার সিদ্ধান্ত হবে মস্ত বড়ো ভুল।  ইসরাইলী যুদ্ধমন্ত্রী ইহুদ বারাকও তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে বলেছেন, ইসরাইল ইরানে হামলা করবে না। এর আগে ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোমানো প্রোদি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইহুদবাদি ইসরাইলের হুমকি কোনো ফল বয়ে আনবে না।  
এদিকে চীনের প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজর জেনারেল ঝাং ঝাওঝোং বলেছেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে চীন সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে দ্বিধা করবে না এবং এ জন্য যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধেও যায় তার পরোয়া করবে না বেইজিং। 
তিনি বলেন, ইরান রক্ষায় এগিয়ে আসতে চীন কোনো দ্বিধাই করবে না। তিনি বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে বোমা বানানোর চেষ্টা করতে পারে বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইল মাঝে মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিচ্ছে। 
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের যে মিডিয়া যুদ্ধ চলছে, তাতে ঝাং ঝাওঝোং এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করল । বিশ্লেষকদের মতে ঝাং ঝাওঝোং এই মন্তব্য পশ্চিমা বিশ্বের জন্য এক সতর্ক বার্তা। আর এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখানো থেকে বিরত রয়েছে। #&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-1674322110020422108?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/1674322110020422108/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=1674322110020422108' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/1674322110020422108'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/1674322110020422108'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2012/01/blog-post.html' title='ইরানে মার্কিন ড্রোন ও সিআইএ’র গুপ্তচর আটক : হোয়াইট হাউজের উদ্বেগ'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/-9517HcaX5qs/Txxr0Hc6b9I/AAAAAAAAAOA/O4UxSDrWwW0/s72-c/1.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-8184670369420514656</id><published>2011-07-24T00:47:00.000-07:00</published><updated>2011-07-24T00:48:04.576-07:00</updated><title type='text'>চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোযা</title><content type='html'>আত্মসংযম আর আত্মশুদ্ধির কষ্টিপাথরে নিজেকে যাচাই করার ও বিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সব সুযোগে ভরা মাস রমজান ৷ বেহেশতি সৌরভ ও খোদা প্রেমের ফুলেল জলসার এই মাস মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্যে সবচেয়ে বড় রহমতের উৎসব ৷ মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী (রহঃ) যেমনটি বলেছেন,

সত্যের সুগন্ধি শীতল সমীর
এ সময় নিয়ে আসে ঐশী পাঠ
অপূর্ব এ উপহার থেকে সন্তর্পনে
যতো পারো করে যাও লুটপাট।
রহমতের সমীরণ এসে আবার চলে যায়
যাকে ইচ্ছে তাকে সে প্রাণবায়ু দিয়ে যায়
আবার এসেছে আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ
প্রস্তুতি নাও হে গোলাম,করো অবগাহন।

হিজরী পঞ্জিকার বারোটি মাসের মধ্যে নবম মাসের নাম রমযান। নবীজি বলেছেন,রজব মাস হচ্ছে আল্লাহর মাস, শাবান মাস হচ্ছে আমার মাস আর রমজান মাস হচ্ছে আমার উম্মতের মাস। এ মাসটিকে উম্মতের মাস হিসেবে ঘোষণা করলেও আল্লাহর কাছে এ মাসটির মর্যাদা অসামান্য । মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আস সাওমু লি, অ-আনা আজযি বিহী' অর্থাৎ ‘রোযা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেবো।' পরকালে তিনি কী পুরস্কার দেবেন তার কিছুটা ইঙ্গিত নবী করিম (সাঃ) আমাদের দিয়েছেন। রাসূলে খোদা বলেছেন, "রমযান এমন একটি মাস যে মাসে আল্লাহ তোমাদের জন্যে রোযা রাখাকে ফরজ করে দিয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রোযা রাখবে, তার জন্যে রোযার সেই দিনটি হবে এমন যেন সবেমাত্র সে মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে, অর্থাৎ রোযাদার তার সকল গুণাহ থেকে মুক্তি পেয়ে নিষ্পাপ শিশুটির মতো হয়ে যাবে।"

রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেন, "তুমি যদি চাও তোমার বুকের ভেতরের অশান্তি কমে যাক তাহলে রমযানের রোযা এবং প্রতিমাসে তিনটি করে রোযা রাখো।" অন্য এক হাদিসে আছে, রাসুলেখোদা বলেছেন, "রোযা রেখে অটুট স্বাস্থ্যের অধিকারী হও।" এর মানে হচ্ছে, রোযা রাখলে স্বাস্থ্য ভাল থাকে। কোন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় না। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ)ও বলেছেন, "প্রতিমাসে তিনটি রোযা এবং রমযান মাসের রোযা বুকের ভেতরকার জটিলতা এবং পেরেশানীগুলো দূর করে দেয়।"

রোযা থাকা অবস্থায় কমপক্ষে ১৫ ঘন্টা যাবতীয় খানাপিনা বন্ধ থাকে। এ সময় পাকস্থলী, অন্ত্রনালী, যকৃত, হৃদপিন্ডসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায়। তখন এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিজেদের পুনর্গঠনে নিয়োজিত হতে পারে। অন্যদিকে দেহে যেসব চর্বি জমে শরীরের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেগুলো রোযার সময় দেহের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য ছুটে যায়। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী তার "সুপিরিয়র নিউট্রিশন" গ্রন্থে ডা. শেলটন বলেছেন, উপবাসকালে শরীরের মধ্যকার প্রোটিন, চর্বি, শর্করা জাতীয় পদার্থগুলো স্বয়ং পাচিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলোর পুষ্টি বিধান হয়।

সত্যি বলতে কী, দেহ এবং আত্মার ওপরে প্রভাব সৃষ্টিকারী এই রোযার উপকারীতা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বহু আগেই প্রমাণ করেছে। আল্লাহ যেহেতু আমাদের জন্যে এই বিধানটি দিয়েছেন, ফলে এতে যে অবশ্যই কল্যাণ নিহিত থাকবে-তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই। রোযা বা উপবাসের মধ্যে শারীরিক কী কী কল্যাণ রয়েছে সে সম্পর্কে আরও কয়েকজন চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতামত জানা যাক :

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ঔষুধ ও শল্য চিকিৎসার প্রখ্যাত ডাঃ অ্যালেকসিস বলেছেন, উপবাসের মাধ্যমে লিভার রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয় ফলে ত্বকের নিচে সঞ্চিত চর্বি, পেশীর প্রোটিন, গ্রন্থিসমূহ এবং লিভারে কোষসমূহ আন্দোলিত হয়। আভ্যন্তরীণ দেহ যন্ত্রগুলোর সংরক্ষণ এবং হ্নদপিণ্ডের নিরাপত্তার জন্য অন্য দেহাংশগুলোর বিক্রিয়া বন্ধ রাখে। খাদ্যাভাব কিংবা আরাম-আয়েশের জন্য মানুষের শরীরের যে ক্ষতি হয়, রোজা তা পূরণ করে দেয়।" ডাঃ আইজাক জেনিংস বলেছেন, " যারা আলস্য ও গোড়ামীর কারণে এবং অতিভোজনের কারণে নিজেদের সংরক্ষিত জীবনী শক্তিকে ভারাক্রান্ত করে ধীরে ধীরে আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যায়, রোযা তাদেরকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করে।" বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী নাষ্টবারনার বলেন, "ফুসফুসের কাশি, কঠিন কাশি, সর্দি এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা কয়েকদিনের রোযার কারণেই নিরাময় হয়।" ডাক্তার দেওয়ান এ,কে,এম, আব্দুর রহীম বলেছেন, "রোযাব্রত পালনের কারণে মস্তিস্ক এবং স্নায়ুতন্ত্র সর্বাধিক উজ্জীবিত হয়। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী ডা. আব্রাহাম জে হেনরি রোযা সম্পর্কে বলেছেন, "রোযা হলো পরমহিতৈষী ওষুধ বিশেষ। কারণ রোযা পালনের ফলে বাতরোগ, বহুমূত্র, অজীর্ণ, হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত ব্যাধিতে মানুষ কম আক্রান্ত হয়।" পাকিস্তানের প্রখ্যাত প্রবীণ চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ হোসেনও একই ধরনের কথা বলেছেন। তারমতে, "যারা নিয়মিত রোজা পালনে অভ্যস্ত সাধারণত তারা বাতরোগ, বহুমূত্র, অজীর্ণ, হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত কম হন।" চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. ক্লাইভ বলেন, "রোযার বিধান স্বাস্থ্যসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত । সেহেতু ভারত, জাপান, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ নাইজেরিয়াতে অন্যসব এলাকার তূলনায় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় রোগ ব্যাধি অনেক কম দেখা যায়।"

এভাবে বিশ্বের অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানী রোযার উপকারিতা বর্ণনা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, রোযাদার ব্যক্তি ধুমপান না করার কারণে ফুসফুস রোগমুক্ত থাকে। পেপটিক আলসারের রোগীরা রোযা রাখলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি রোগীদের জন্যও রোযা উপকারী। ডাক্তারদের মতে, রোযার ফলে মস্তিষ্কের সেরিবেলাম ও লিমরিক সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ার কারণে মনের অশান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর হয়-যা উচ্চ রক্তচাপের জন্য মঙ্গলজনক। বহুমূত্র রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে রোযা খুব উপকারী। ডাক্তারী পরীক্ষায় দেখা গেছে, একাধারে ১৫ দিন রোযা রাখলে বহুমূত্র রোগের অত্যন্ত উপকার হয়। রোযা চর্মরোগের জন্যও খুবই উপকারি। পুষ্টির সঙ্গে চর্মরোগের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই চর্ম রোগের কিংবা ত্বকের উপর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় রোযা খুবই কার্যকর পদ্ধতি। কিডনী সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা রোযা রাখলে এ সমস্যা আরো বেড়ে যাবে ভেবে রোযা রাখতে চান না। অথচ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোযা রাখলে কিডনীতে সঞ্চিত পাথর কণা ও চুন দূরীভূত হয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে, সারা বছর অতিভোজ, অখাদ্য, কুখাদ্য, ভেজাল খাদ্য খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে যে জৈব বিষ জমা হয় তা দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এক মাস রোজা পালনের ফলে তা সহজেই দূরীভূত হয়ে যায়।

কোরআন, হাদিস এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে বলা যায়, রোযা হচ্ছে মুসলমানদের জন্য এক বিরাট রহমত এবং স্বাস্থ্যের জন্য অনন্য নেয়ামত স্বরূপ। রোযার গুরুত্ব সম্পর্কে হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী (রহঃ) বলেছেন, "রোযা শ্রেষ্ঠ পুণ্যের কাজ। কেননা রোযা সুপ্রবৃত্তিকে সবল এবং কুপ্রবৃত্তিকে দুর্বল করে দেয়। আত্মার পরিচ্ছন্নতা এবং প্রবৃত্তিকে দমন করে রাখার জন্য রোযার ন্যায় কার্যকর অস্ত্র আর কিছুই নেই।"
পরিশেষে কবি ফজলে খোদার ভাষায় বলতে চাই-

হে রমজান,হে রমজান!
দাও স্বস্তি দাও শান্তি
ধরণীকে করো মনোরম,
তোমারে হেরিয়া বিশ্ব-বিবেক
সংযম হোক দুর্দম ৷&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-8184670369420514656?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/8184670369420514656/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=8184670369420514656' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8184670369420514656'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8184670369420514656'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2011/07/blog-post.html' title='চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোযা'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-2915384514150297744</id><published>2010-09-05T08:01:00.000-07:00</published><updated>2010-09-07T21:47:24.686-07:00</updated><title type='text'>বাংলা  কবিতা ও গানে  ঈদ উৎসব</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/TIOxEg6Oy6I/AAAAAAAAAG8/sWisVhVR8vA/s1600/eid-mubarak.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 302px; height: 320px;" src="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/TIOxEg6Oy6I/AAAAAAAAAG8/sWisVhVR8vA/s320/eid-mubarak.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5513445059943386018" /&gt;&lt;/a&gt;
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ।  প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় দেখা যায় নানা আয়োজন। প্রবন্ধ, গান, ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান কোন কিছুই বাদ যায় না। ঈদকে কেন্দ্র করে কবি- সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী, অভিনেতাদের ব্যস্ত সময় কাটে। সত্যি বলতে কী, এমন কোন মুসলিম কবি-সাহিত্যিক কিংবা লেখককে হয়তো পাওয়া যাবে না যিনি ঈদ নিয়ে কোন লেখা লিখেননি।  এক্ষেত্রে বাংলা ভাষাভাষী কবি-সাহিত্যিকরাও পিছিয়ে নেই।
 
যতটুকু জানা যায়, বিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা কবিতায় ঈদ নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। সৈয়দ এমদাদ আলীর ‘ঈদ’ কবিতাটিই সম্ভবত বাংলাভাষায় রচিত প্রথম ঈদ-বিষয়ক কবিতা। ১৯০৩ সালে  তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত মাসিক নবনূর পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় কবিতাটি ছাপা হয়।  তিনি লিখেছেন-

&lt;blockquote&gt;“ ধর্ম ও কর্মরে জীবনের মাঝে
প্রতিষ্ঠিত করি আজ
জীবনের আবহে হও অগ্রসর,
নাহি তাতে কোন লাজ।
যে চেতনা থাকে একদিন জাগি,
দীর্ঘ নিদ্রা তার পরে,
সে তো আনে শুধু ঘন অবসাদ
জীবনে ঢালে অনন্ত বিষাদ
দেও তারে দূর করে। ”&lt;/blockquote&gt;

মানবজাতির তথা মুসলমানদের মহামিলনের উৎসব ঈদকে নিয়ে কবি কায়কোবাদ ‘ঈদ আবাহন’ নামে একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটি এ রকম-

&lt;blockquote&gt;“ এই ঈদ বিধাতার কি যে শুভ উদ্দেশ্য মহান,
হয় সিদ্ধ, বুঝে না তা স্বার্থপর মানব সন্তান।
এ ত নহে শুধু ভবে আনন্দ উৎসব ধুলা খেলা।
এ শুধু জাতীয় পুণ্যমিলনের এক মহামেলা। ”&lt;/blockquote&gt;

কবি কায়কোবাদ ঈদকে পুণ্যমিলনের মহামেলা হিসেবে অভিহিত করলেও ইসলামের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে ঈদের দিনেও  গরিব-দুঃখী ও অসহায়দের কষ্টের যেন শেষ থাকে না।  এ দিকটি ফুটে ওঠেছে  শাহাদাত হোসেনের ‘বাংলার ঈদ’ কবিতায়। কবি লিখেছেন,

&lt;blockquote&gt;“ বাংলার মুসলমান 
শুধু চেয়ে রয়-
মৌন ম্লান ক্লিষ্ট মুখ নির্বাক নিশ্চল।
ফিত্রার খুশী কোথা তার?
কি দান সে দিবে ক্ষুধিতেরে?
নিজেই কাঙাল রিক্ত-
ভিক্ষা মাগি ফিরে দ্বারে দ্বারে।”
&lt;/blockquote&gt;

এ কবিতায় কবি ফিতরা আদায়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ঠিকমত ফিতরা ও যাকাত দেয়া গেলে অসহায়, দরিদ্ররাও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। সমাজে নেমে আসবে শান্তি-সুখের ফল্গুধারা। এ দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেই সম্ভবত কবি গোলাম মোস্তফা  ঈদকে মানবতার বিরাট প্লাটফর্ম হিসেবে কল্পনা করেছেন। ঈদ উৎসব কবিতায় তিনি লিখেছেন-

&lt;blockquote&gt;
“ কণ্ঠে মিলনের ধ্বনিছে প্রেম-বাণী, বক্ষে ভরা তার শান্তি,
চক্ষে করুণার স্নিগ্ধ জ্যোতি ভার, বিশ্ব-বিমোহন কান্তি
প্রীতি ও মিলনের মধুর দৃশ্যে
এসেছে নামিয়া যে নিখিল বিশ্বে
দরশে সবাকার মুছেছে হাহাকার বিয়োগ-বেদনার শ্রান্তি।”&lt;/blockquote&gt;

ঈদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কবিতা ও গান লিখেছেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তার লেখা - &lt;blockquote&gt;‘ও মন  রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানি তাকিদ।’ &lt;/blockquote&gt; -এ গানটি ছাড়া ঈদের আনন্দ যেন পূর্ণতা পায় না। এছাড়া,  ‘ঈদ মোবারক’ ও ‘কৃষকের ঈদ’ ও ‘ঈদের চাঁদ’ কবি নজরুলের বহুল আলোচিত কবিতা। ‘ঈদ মোবারক’ কবিতায় কবি লিখেছেন,

&lt;blockquote&gt;
“শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো,
কত বালুচরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো,
বরষের পরে আনিলে ঈদ! ”
 &lt;/blockquote&gt;

এ কবিতায় নজরুল দেখেছেন অসংখ্য মরুভূমি,বালুচর আর অনাবিল আঁখিজল পেরিয়ে এসেছে ঈদ।  তিনি বলতে চেয়েছেন,মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে সুখ-দুঃখের সমভাগী হয়ে অধিকার ভোগ আর দায়িত্ব পালনের মধ্যে যে প্রকৃত আনন্দ,সে শিক্ষা যেন রয়েছে ঈদের মাহাত্ম্যে।
   
ঈদের মহান শিক্ষাই হচ্ছে সব ভেদাভেদ-হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে এক আল্লাহর বান্দা হিসেবে ঈদের জামায়াতে দাঁড়িয়ে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করা । কিন্তু ধর্মীয় অনুশাসন না মানার কারণে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ঈদ সচরাচর  দেখা যায় না। এ দিনও দেখা যায় গ্রামের দরিদ্র কৃষকরা শীর্ণ গরুর পাল নিয়ে মাঠে যায় জমিতে লাঙল দিতে। এদিকে ইঙ্গিত করে  তিনি রচনা করেছেন তার কৃষকের ঈদ কবিতাটি। কবির ভাষায়-

&lt;blockquote&gt;
“জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসেনা নিদ
মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ? 
একটি বিন্দু দুধ নাহি পেয়ে যে খোকা মরিল তার
উঠেছে ঈদের চাঁদ হয়ে কি সে শিশু-পুঁজরের হাড়?” &lt;/blockquote&gt;

কবি নজরুলের কবিতা ও গানে ঈদের তাৎপর্য্য, এ দিনের করণীয় ও সমাজে  এর প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ পুরো দুনিয়াকে ঈদগাহ্‌র সাথে তুলনা করেছেন । ‘ঈদগাহ হবে দুনিয়াটাই’ কবিতায় তিনি লিখেছেন-

&lt;blockquote&gt;আজকে এল খুশীর দিন
দেখ না চেয়ে খুশীর চিন
দেখ না চেয়ে আজ রঙিন
খুশীর ঝলক ঈদগাহে। 
................................
জামাত ছেড়ে থাকবে যে
ঘরের কোণে রইবে সে
রইবে হয়ে একপেশে
একলা থাকায় দুঃখ তাই।
সবাই মিলে একদলে
এক আশাতে যাই চলে
এক আশাতে যাই বলে
ঈদগাহ হবে দুনিয়াটাই।   &lt;/blockquote&gt;

শাওয়ালের রূপোলী চাঁদ পশ্চিমাকাশে মুচকি হেঁসে জানিয়ে দেয় যে, ঈদ এসেছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত এ দিন নিয়ে কবি বেগম সুফিয়া কামাল তাঁর ‘ঈদের চাঁদ’ কবিতায়  লিখেছেন-
 
&lt;blockquote&gt;“চাঁদ উঠিয়াছে, ঈদের চাঁদ কি উঠেছে?
শুধায় সবে।
লাখো জনতার আঁখি থির আজি
সুদূর সুনীল নভে।
এই ওঠে,ওই উদিল গগনে
সুন্দর শিশু চাঁদ—
আমিন। আমিন। রাব্বুল আলামিন
করে সবে মোনাজাত।”
&lt;/blockquote&gt;

আগেই বলেছি, ঈদের নতুন চাঁদ সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনে না। এদিন গরীব-দুঃখী ও অসহায়দের মনের আকুতি প্রকাশিত হয়েছে কবি তালিম হোসেনের ‘ঈদের ফরিয়াদ’ কবিতায়। কবির ভাষায়- 

&lt;blockquote&gt;
‘ঈদ মোবারক, সালাম বন্ধু, আজি এই খোশরোজে
দাওয়াত কবুল কর মানুষের বেদনার মহাভোজে।
কহিব কি আর, চির-মানুষের ওগো বেদনার সাথী,
ঈদের এ দিন শেষ হয়ে আসে, সমুখে ঘনায় রাতি।’
&lt;/blockquote&gt;

কবি সিকান্দার আবু জাফর প্রায় একই বিষয়ে একটি কবিতা লিখেছেন।  ঈদ উপলক্ষে দোয়া চেয়ে পিতার কাছে লেখা ‘ঈদের চিঠি’-তে  তিনি লিখেছেন-
  
&lt;blockquote&gt;“ঈদের সালাম নিও,দোয়া করো আগামী বছর
কাটিয়ে উঠতে পারি যেন এই তিক্ত বছরের
সমস্ত ব্যর্থতা।
অন্ততঃ ঈদের দিন সাদাসিধে লুঙ্গি একখানি,
একটি পাঞ্জাবী আর সাদা গোলটুপি
তোমাকে পাঠাতে যেন পারি;
আর দিতে পারি পাঁচটি নগদ টাকা।”&lt;/blockquote&gt;

অন্যদিকে সৈয়দ আলী আহসান  ঈদের চাঁদের হাসিতে দেখতে পেয়েছেন   নতুন দিনের বারতা। লিখেছেন-

&lt;blockquote&gt;“এসেছে নূতন দিন
আলো শতদল পাপড়ি মেলেছে, কুয়াশা হয়েছে ক্ষীণ।
জরির জোব্বা, শেরোয়ানী আর আমামার সজ্জায়
আতরের পানি, মেশেকর রেণু খোশবু বিলায়ে যায়—
বাতাসে বাতাসে কলরোল আজি, ভেঙেছে তন্দ্রা ঘোর
সাহেবজাদীর নেকাব টুটেছে, রাত্রি হয়েছে ভোর।”
(এসেছে নূতন দিন)&lt;/blockquote&gt;

সমাজে ঈদের খুশীর প্রভাব সম্পর্কে কবি আ.ন.ম বজলুর রশিদ তার 'ঈদ আসে' কবিতায় লিখেছেন-

&lt;blockquote&gt;
ঈদ আসে হাসি-খুশী তোমাদের আমাদের সকলের ঘরে
অনেক আনন্দ নিয়ে কিছুক্ষণ ভুলে যাই 
দুঃখ জ্বালা যত
আজ শুধু মেলামেশা অন্তরঙ্গ
হয়ে থাকা অবিরত
আল্লাহর প্রশংসায় গান, তাঁর দয়া দাক্ষিণ্যের অমৃত ঝরে।&lt;/blockquote&gt;


কবি তফাজ্জল হোসেন খান ঈদ নিয়ে চমৎকার একটি গান লিখেছেন । প্রতি বছর ঈদ এলেই শিশুরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে ওঠে এ গানটি।
  
&lt;blockquote&gt;
“আজ আনন্দ প্রতি প্রাণে প্রাণে
দুলছে খুশীর নদী প্লাবনে
ঘরে ঘরে জনে জনে
আজি মুখর হব মোরা গানে গানে
ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক আজ
বল ঈদ মোবারক আজ।”&lt;/blockquote&gt;

অধিকাংশ কবি-সাহিত্যিক ঈদের দিনকে খুশীর দিন হিসেবে চিত্রিত করলেও কবি মতিউর রহমান মল্লিক তার গানে লিখেছেন,

&lt;blockquote&gt;
“ঈদের খুশী অপূর্ণ রয়ে যাবে ততদিন
খোদার হুকুমাত হবে না কায়েম
কায়েম হবে না যতদিন।”&lt;/blockquote&gt;

কবির এ গানের কথাগুলো যৌক্তিক। কারণ দুনিয়ায় খোদার হুকুমাত কায়েমের মাধ্যমেই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করা সম্ভব। আর এ বৈষম্য দূর হলেই ঈদ হবে সত্যিকার আনন্দের দিন; তা সবার হৃদয়ে বুলিয়ে দেবে প্রেম প্রীতি আর শান্তির পরশ। 

এছাড়া ঈদ থেকে শিক্ষা নিয়ে সারাবছর নিজের জীবনকে পরিচালিত করতে পারলেই ঈদ উৎসব সার্থক হবে। ঈদের দিন যেভাবে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে যায়,সারাবছর ধরে সেই বিভেদের দেয়ালকে তুলে ফেলতে হবে। কবি গোলাম মোস্তফার কথায়-

&lt;blockquote&gt;“আজি সকল ধরা মাঝে বিরাট মানবতা মূর্তি লভিয়াছে হর্ষে,
আজিকে প্রাণে প্রাণে যে ভাব জাগিয়েছে রাখিতে হবে সারা বর্ষে, 
এই ঈদ হোক আজি সফল ধন্য নিখিল-মানবের মিলন জন্য,
শুভ যা জেগে থাক,অশুভ দূরে যাক 
খোদার শুভাশীষ স্পর্শে।”&lt;/blockquote&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-2915384514150297744?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/2915384514150297744/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=2915384514150297744' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/2915384514150297744'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/2915384514150297744'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2010/09/blog-post.html' title='বাংলা  কবিতা ও গানে  ঈদ উৎসব'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/TIOxEg6Oy6I/AAAAAAAAAG8/sWisVhVR8vA/s72-c/eid-mubarak.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-5463859516929120909</id><published>2010-03-10T04:59:00.000-08:00</published><updated>2010-03-10T05:04:56.282-08:00</updated><title type='text'>দুবাইয়ে হামাস কমাণ্ডার হত্যা : ইহুদিবাদী ইসরাইলের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eY63UrDwI/AAAAAAAAAF0/Bdi7zjJv7L4/s1600-h/mahmud+al+mabhouh.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 200px; height: 135px;" src="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eY63UrDwI/AAAAAAAAAF0/Bdi7zjJv7L4/s320/mahmud+al+mabhouh.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5446990411378396930" /&gt;&lt;/a&gt;
‘টার্গেট করো এবং মেরে ফেলো’ এটা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত ইহুদীবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা নীতি। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার সম্ভবত এ কারণেই একবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন,‘ইসরাইলের প্রধান ভ্রান্তি হলো তার কোন বিদেশ নীতি নেই, আছে কেবল প্রতিরক্ষা নীতি।’ ইসরাইলের প্রতিরক্ষা নীতি মানেই শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দমন করা ৷ প্রকাশ্য হত্যা, গুপ্ত  হত্যা, লাশ গুম করা, অপহরণসহ এমন কোন মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড নেই যা প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য তারা প্রয়োগ করে না। এ সব কাজের   জন্য তেলআবিব সরকার মোসাদ, সিনবেথ ও আমানের মত কুখ্যাত গোয়েন্দা বাহিনী গড়ে তুলেছে। মোসাদ-এর কাজ হলো  বিদেশে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো। গোয়েন্দা তৎপরতার আড়ালে এ সংস্থাটি হামাস, হিজবুল্লাহর মত ইসরাইল বিরোধী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দকে  হত্যা ও অপহরণের মত জঘন্য কাজ করে থাকে। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কিছু দৃষ্টান্ত&lt;/span&gt;

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড জবরদখল করার পর থেকেই ইসরাইল নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশে-বিদেশে গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।  হাজার হাজার ফিলিস্তিনী নাগরিককে হত্যার পাশাপাশি তারা ফিলিস্তিনী নেতৃবৃন্দকেও হত্যা করতে থাকে।  ১৯৯৫ সালে ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনের নেতা ফাতহে সাকাকীকে হত্যা করে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা শিনবেথ৷ ২০০১ সালের ৩০ আগস্ট ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে পশ্চিমতীরে নিজ অফিসে হত্যা করা হয় পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন-এর নেতা আবু আলী মুস্তাফা জাবরীকে ৷ ২০০৪ সালের  ২২ মার্চ   হামাসের আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমদ ইয়াসিনকে হত্যা করা হয়। এ  হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৫ দিন পর অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল ইসরাইলী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হন হামাসের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল আজিজ রানতিসি। ১৯৯৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর হামাস নেতা খালেদ মাশআলকে আম্মানে বিষ-প্রয়োগে হত্যার তথ্য জনসম্মুখে ফাঁস হয়ে পড়ায় তাকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। ফিলিস্তিনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়াকেও ইসরাইল হত্যার হুমকি দিয়েছে। 
হামাসের পাশাপাশি ইসরাইলী বাহিনী লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ নেতৃবৃন্দকেও হত্যার মিশন শুরু করে। ১৯৯২ সালে বিমান থেকে হামলা চালিয়ে  হত্যা করে  হিজবুল্লাহ নেতা শেখ আব্বাস আল-মুশাওয়ীকে ৷ হিজবুল্লাহর অন্য দুই নেতা শেখ আবদুল করিম ওবেইদ ও মুস্তাফা আল দিরানীকে যথাক্রমে ১৯৮৯ ও ১৯৯৪ সালে অপহরণ করা হয় ৷ ২০০৮ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইহুদীবাদী গুপ্ত ঘাতকরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে লেবাননের হিযবুল্লাহর সামরিক শাখার প্রধান ইমাদ মুগনিয়াকে তার গাড়িতে বোমা পেতে রেখে হত্যা করে। এভাবে ইহুদীবাদী ইসরাইল সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ সন্ত্রাসের সর্ব-সাম্প্রতিক সংযোজন হচ্ছে, দুবাইয়ে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষস্থানীয় কমাণ্ডার মাহমুদ আল মাবহুর হত্যাকাণ্ড। 
  
&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;সেদিন যা ঘটেছিল &lt;/span&gt;

গত ২০শে জানুয়ারি দুবাইয়ের একটি বিলাশবহুল হোটেলে  হামাসের শীর্ষ সামরিক কমাণ্ডার মাহমুদ আল মাবহুকে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ঘাতকরা হত্যা করে। টাইমস অব লন্ডন জানিয়েছে, ইসরাইলের ঘাতক দল হামাস নেতার দেহে ইনজেকশন দেয়ার কারণে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।  শ্বাসরোধ করে এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে হত্যা করা হয় হামাসের  এরপর ঘাতক দল হামাস নেতার ব্রিফকেসে যে সব কাগজপত্র ছিলো তার ছবি তুলে এবং হোটেল কক্ষের বাইরে 'বিরক্ত করো না' এই নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়ে চুপিসারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘাতক দল তার মৃতদেহ আবিষ্কার হওয়ার আগেই দুবাই ত্যাগ করতে সক্ষম হয় বলে অন্য এক খবরে বলা হয়েছে। মাবহু ছিলেন হামাসের সামরিক শাখা ইযাদ্দিন কাসসাম ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতা। ৫০ বছর বয়সী মাবহু ১৯৮৯ সাল থেকেই সিরিয়ায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু দুবাইয়ে আসার একদিন পরেই তাকে হত্যা করা হয়। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;ঘাতকদের পরিচয়&lt;/span&gt;

হামাস নেতাকে হত্যার পর দুবাই পুলিশ সন্দেহভাজন ১১ জনের ছবি ও ফুটেজ প্রকাশ করে জানায়, ঘাতক ইসরাইলী গুপ্তচরদের মধ্যে ছয়জন ব্রিটিশ, তিনজন আইরিশ ও একজন করে জার্মান এবং ফরাসি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছে। দুবাই পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর ১১ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বলেছে, তাদের সবাই ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টে দুবাই এসেছিলো।  দুবাই পুলিশ প্রধান দাহি খালফান তামিম বলেছেন, যে ১১ ব্যক্তিকে তারা হত্যাকাণ্ডের দায়ে সন্দেহ করছেন তাদের পাসপোর্টের নামের সাথে তারা বিমানের টিকেট কেনার সময় যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছেন, তার হুবহু মিল রয়েছে।  এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাই পুলিশ হামাস নেতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত নতুন ১৫ জন সন্দেহভাজনের নামের তালিকা ছবিসহ প্রকাশ করে। ঐ ১৫ জনের মধ্যে  ৫ জন ব্রিটেনের,৩ জন করে ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিল। এ নিয়ে ঘাতক দলের মোট ২৬ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;ই.ইউ. ও চার ইউরোপীয় দেশের প্রতিক্রিয়া&lt;/span&gt;

হামাসের শীর্ষ নেতা মাহমুদ আল-মাবহু হত্যা ইস্যুতে ইউরোপের চার দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড এবং জার্মানির সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘাতকরা  ইউরোপীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২২ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা ইউরোপীয় নাগরিকদের পরিচয়পত্র চুরি করে তাদের নামে পাসপোর্ট ব্যবহারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।" 
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার জাল পাসপোর্ট ব্যবহারের ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইসরাইলী রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুড বলেছেন, তার সরকার এ ব্যাপারে নীরব থাকবে না। তিনি আরো বলেছেন, দুবাই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট জাল করা হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।  ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডও  তাদের দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে ইসরাইলী রাষ্ট্রদূতকে তলব করে । ব্রিটেন ঐ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত না করলেও ঘাতকদের মাধ্যমে ছয় বৃটিশ নাগরিকের জাল পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে ইসরাইলী রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন ইসরাইলি দূতকে তলব করে জাল আইরিশ পাসপোর্ট ব্যবহারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;হত্যার নির্দেশদাতা খোদ ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী  &lt;/span&gt;

ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুবাইয়ে হামাস নেতা মাহমুদ আল মাবহু'কে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টাইমস অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে নেতানিয়াহু তেলআবিবে ইসরাইলী গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তরে যান। সেখানে তিনি মোসাদ প্রধান মির দেগানের সাথে বৈঠক করেন এবং সে সময় মোসাদের ঘাতক বাহিনীর কয়েক সদস্য উপস্থিত ছিলো। মোসাদ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে নেতানিয়াহু হামাস নেতাকে হত্যার প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। মাহমুদ আল মাবহু দুবাই সফরে আসবেন বলে খবর পাওয়ার পর মোসাদের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। এর আগেই ঘাতক বাহিনী তেলআবিবের একটি হোটেলে হত্যাকাণ্ডের রিহার্সেল দেয়। এরপর ২০শে জানুয়ারি হামাস নেতা দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে গুপ্তহত্যার শিকার হন। হামাস নেতা খুন  নিয়ে যখন দুবাই, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে   টান টান উত্তেজনা চলছিল তখনই ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিপি লিভনি। লিভনি হামাস নেতা হত্যার ঘটনার প্রশংসা করে বলছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্যই এই হত্যাকান্ডকে সমর্থন করা উচিত৷
এর আগে হামাসের শীর্ষ নেতা শেখ ইয়াসিন ও আবদুল আজিজ রানতিসিকে হত্যার পর ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন সাংবাদিকদের ডেকে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলেছিলেন, 'আমি রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব হামলা পরিচালনা করেছি৷ এধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে ৷ আমাদের অভিযান বন্ধ হবে না।'  

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিটেন অবহিত ছিল&lt;/span&gt;

হামাস নেতা মাহমুদ আল মাবহুকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিটেন অবহিত ছিল বলে বৃটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল  খবর দিয়েছে। দৈনিকটির ১৯ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় লেখা হয়েছে,  ইসরাইলী গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ বৃটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাইতে হত্যাকাণ্ড ঘটাবে এই তথ্য বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এম আই-সিক্সকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল। মোসাদের একজন এজেন্টের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি এ খবর প্রকাশ করেছে। তবে বৃটেনের একটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, মোসাদ বৃটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে তাদের অভিযান চালানোর কথা জানালেও কাকে হত্যা করা হবে,তা উল্লেখ করেনি। এর দুদিন আগে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সরকারের কয়েকটি সূত্রে বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইসরাইলী গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ দুবাইয়ে হামাস নেতা মাবহুকে হত্যা করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন,  মোসাদ এজেন্টরা যেহেতু ব্রিটিশ পাসপোর্টও ব্যবহার করেছেন, তাই লন্ডন কর্তৃপক্ষ ইসরাইলী রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে। অথচ সবাই জানে যে, ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা ও তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতার পেছনে ব্রিটেনের অবদান সবচেয়ে বেশী। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;গ্রেফতার হতে পারেন নেতানিয়াহু&lt;/span&gt;

হামাস নেতা হত্যায় ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মোসাদ প্রধান জড়িত থাকার বিষয়ে দুবাই পুলিশ নিশ্চিত হবার পর পুলিশ প্রধান দাহি খালফান তামিম তাদের  বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, দুবাই পুলিশ হামাস নেতা হত্যাকাণ্ডের দায়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের প্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির যে আবেদন জানিয়েছে, তেলআবিব সে ব্যাপারে নীরবতা পালন করছে। খালফান বলেছেন, মাবহুকে হত্যার পর তার দুই ঘাতক যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাকিরা ইসরাইলে আশ্রয় নিয়েছে। যেসব ঘাতক ইসরাইলে আশ্রয় নিয়েছে তারা অন্য দেশে যাওয়া মাত্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল দুই দফায় ২৭ ঘাতকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে নোটিশ পাঠিয়েছে। 

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;ইসরাইল ও তার মিত্রদের করণীয়&lt;/span&gt;

দুবাইয়ে হামাস নেতা হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ঘাতকরা ইউরোপের কয়েকটি দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করায় ফ্রান্স, ব্রিটেন, আয়ারল্যাণ্ড ও জার্মানী ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ইউরোপ ও আমেরিকার প্রভাবশালী দেশগুলোর সমর্থন, সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই ইসরাইল অব্যাহতভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কারণেই গাজায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পরও ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কিছুই করতে পারছে না। ইউরোপের দেশগুলো যদি সত্যিই ইসরাইলের ওপর নাখোশ হয়ে থাকে তাহলে তাদের উচিত তেলআবিবকে সবধরনের সমর্থন ও সহযোগিতা দেয়া বন্ধ করা। যুদ্ধাপরাধ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দায়ে ইসরাইলী কর্মকর্তাদের বিচারের সম্মুখীন করার উদ্যোগ নেয়া উচিত। আর ইসরাইলী নেতাদেরও মনে রাখা উচিত, ফিলিস্তিনী নেতাদের হত্যা করে ইসরাইল বিরোধী গণ-আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-5463859516929120909?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/5463859516929120909/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=5463859516929120909' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/5463859516929120909'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/5463859516929120909'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2010/03/blog-post.html' title='দুবাইয়ে হামাস কমাণ্ডার হত্যা : ইহুদিবাদী ইসরাইলের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eY63UrDwI/AAAAAAAAAF0/Bdi7zjJv7L4/s72-c/mahmud+al+mabhouh.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-3216745197783337110</id><published>2010-01-19T03:57:00.000-08:00</published><updated>2010-01-19T04:06:05.407-08:00</updated><title type='text'>ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বাংলার ব্যবহার ও জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে 'বাংলা'র অন্তর্ভূক্তি দাবী</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S1WfufrTUfI/AAAAAAAAAFY/BWuZppNzN6k/s1600-h/21feb.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 252px; height: 320px;" src="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S1WfufrTUfI/AAAAAAAAAFY/BWuZppNzN6k/s320/21feb.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5428420546990920178" /&gt;&lt;/a&gt;

বর্তমান বিশ্বের সাড়ে ৬০০ কোটি মানুষ প্রায় ৬ হাজার ভাষায় কথা বলে। তবে ভাষাতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, আগামী একশ বছরের মধ্যে প্রায় তিন হাজার ভাষা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কারণ অতীতেও অনেক ভাষা পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। একসময় পাশ্চাত্যের একটি বিখ্যাত ভাষা ছিল ‘ল্যাটিন’ । কিন্তু এ ভাষায় এখন আর কেউ কথা বলে না। ভারতীয় উপমহাদেশের এমন একটি ভাষার নাম ‘সংস্কৃত’ । ধর্মীয় কাজের বাইরে এর কোন ব্যবহার নেই। মধ্যযুগে ব্রিটেনের একটি ভাষা ছিল ‘কর্নিশ’। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত একজন মহিলা জীবিত ছিলেন যিনি ঐ ভাষায় কথা বলতেন। তার মৃত্যুর পর ঐ ভাষাটিও বিলুপ্ত হয়ে যায় ।


‘The languages of the world’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রায় ৬ হাজারের মতো ভাষা আছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ অর্থাৎ শ'তিনেক ভাষায় পৃথিবীর ৯৬ ভাগ মানুষ কথা বলে। বাকী সাড়ে পাঁচ হাজার ভাষার মধ্যে যেসব ভাষায় কথা বলার লোক এক লাখের বেশী নেই, সেগুলোর মধ্যে বেশকিছু ভাষা এখন বিলুপ্তির পথে। এক হিসেবে দেখা গেছে, আজকের পৃথিবীতে প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, পৃথিবীতে এমন ৫১টি ভাষা আছে যেগুলোর প্রতিটিতে মাত্র একজন করে ব্যবহারকারী রয়েছে! এ চিত্র থেকে একটা বিষয় পরিস্কার যে, বিশ্বের জীবন্ত ভাষাগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিলুপ্তির হার বন্যপ্রাণী কিংবা গাছপালা বিলুপ্তির হারের চেয়েও বেশী। কিন্তু বাংলাভাষার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখা যায়।


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;বিশ্বে বাংলা ভাষার অবস্থান&lt;/span&gt;
বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার স্থান ষষ্ঠ। শুধু বাংলাদেশের মানুষই যে এ ভাষায় কথা বলে তা নয় বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মণিপুর, বিহার ও উড়িষ্যা এবং মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের রোহিঙ্গারাও বাংলা ভাষায় কথা বলে। আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিয়নে বাংলাকে ২য় সরকারী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সেদেশের জনগণ বাংলাভাষা শিক্ষা করছে।  

 
&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;বাংলা ভাষার আন্দোলন&lt;/span&gt;
বিশ্বে বাংলাই সম্ভবতা একমাত্র ভাষা-যার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় পুলিশের গুলিতে আব্দুস, সালাম,রফিক, বরকত, জব্বার সহ আরো অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে সারা পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ও তীব্র আকার ধারণ করে। অবশেষে পাকিস্তান সরকার   বাংলাকে  উর্দুর সম-মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। এছাড়া ’৫২-এর চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে ১৯৬১ সালের  মে  মাসে বাংলা ভাষার ব্যবহার বন্ধ করার প্রতিবাদে ভারতের আসামের শিলচর শহরে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন ১১ জন। ১৯৬১ সালে আসাম প্রাদেশিক সরকার শুধু অহমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরকারী ভাষা ঘোষণা দিলে বাঙালীদের ভেতর ক্ষোভ দানা বাঁধে । ক্রমশঃ তা আন্দোলনে রূপ নেয়  । ১৯ মে শিলচরে সকাল ৬টা-সন্ধ্যা ৬টা ধর্মঘট পালন করে। বেলা সাড়ে তিনটায় ভাষাবিপ্লবীরা যখন স্থানীয় রেলওয়ে ষ্টেশনে রেলপথ অবরোধ পালন করছিল তখন আসাম রাইফেলসের একটি ব্যাটালিয়ান তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আসাম রাইফেলস গুলবর্ষণ করলে ঘটনাস্থনে প্রাণ হারান ১১জন ভাষাবিপ্লবী। রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়। এরপর আসামে বাংলাকে ২য় রাজ্যভাষা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। 


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;বাংলা ভাষার প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি&lt;/span&gt;
বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করতে গিয়ে বাঙালীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা ইউনেস্কোর নজরে আনার জন্য কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন  ‘মাদার ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড’ প্রচেষ্টা শুরু করে।  ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়। ওই দিন ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ২১শে ফেব্রুয়ারীকে ‘আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি জানানোর প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং অপর ২৫টি দেশের সদস্যরা সেটিকে অনুমোদন করে।  এরপর থেকে সারা বিশ্বে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।'
ইউনেস্কোর পর  জাতিসংঘও একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০৮ সালের গত ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।  বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র দফতর ‘শান্তির জন্য সংস্কৃতি’ শীর্ষক একটি রেজুলেশন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরে। ভারত, জাপান, সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২৪টি দেশ এই রেজুলেশনটি সমর্থন করে। এই রেজুলেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এবং শান্তির জন্য সংস্কৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংস্কৃতির সংলাপকে উৎসাহিত করতে মাতৃভাষাগুলোর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;বাংলাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা করার দাবি&lt;/span&gt;
২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে  জাতিসংঘ ভাষা শহীদদের প্রতি নিঃসন্দেহে ব্যাপক সম্মান দেখিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এতেই কি সন্তুষ্ট ? মোটেই না। আর এ জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে  বাংলাভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সদস্য দেশগুলোর সমর্থন চেয়েছেন ।  
ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাংলাদেশের ভাষা শহীদরা জীবন দিয়েছিলেন। সেদিনের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতি বছর এই দিন ইউনেস্কো বিশ্বের সকল ভাষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দিবসটি পালন করে।’  শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পার্লামেন্ট জাতিসংঘকে অনুরোধ করেছে বাংলাকে এর অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য। ভাষার শক্তির প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বাংলাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে আমি সকল সম্মানিত সদস্যের সমর্থন কামনা করছি।’ 

বাংলাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাবির সাথে একমত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ২১শে ডিসেম্বর ২০০৯ জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিসংবলিত একটি সর্বদলীয় প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার হাসিম আবদুল হালিম।  
জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে এখন ছয়টি ভাষা স্বীকৃত। এসব ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, আরবি, ফরাসি, রাশিয়ান ও স্প্যানিস। এর মধ্যে রাশিয়ান ভাষায় কথা বলে বিশ্বের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ  এবং বিশ্বের প্রায় ২২ কোটি মানুষ আরবিতে কথা বলে । কিন্তু বাংলায় কথা বলে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ। ফলে রুশ ও আরবি যদি জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা হওয়ার যোগ্যতা রাখে তাহলে বাংলা কেন পারবে না? সরকার যদি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে তাহলে একদিন না একদিন বাংলাভাষা অবশ্যই  জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষার স্বীকৃতি  পাবে।


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলা ভাষা&lt;/span&gt;
বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা, রেডিও, টেলিভিশন, ও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে বাংলা ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ,ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, জার্মানী, চীন, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ফিলিপাইন,জাপান প্রভৃতি দেশ থেকে প্রতিদিনই বাংলা ভাষায় রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়ে থাকে। এছাড়া ব্রিটেন, কানাডার  প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে টিভি অনুষ্ঠানও প্রচার করা হচ্ছে। এসব রেডিও, টিভির অনুষ্ঠান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষীরা উপকৃত হচ্ছেন।


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা &lt;/span&gt;
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির  ব্যবহার ছাড়া বর্তমান যুগে কোন দেশই অগ্রসর হতে পারবে না। আর একারণেই ভাষাপ্রেমী প্রযুক্তিবিদরা তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছেন।  বাঙালী প্রযুক্তিবিদদের প্রচেষ্টায় বর্তমানে ফায়ারফক্স ব্রাউজার,ওপেন অফিস, জুমলা,গুগল, লিনাক্স, উবুন্টু এসব  বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা হয়েছে।  ওয়েব ব্রাউজার মজিলা  সম্প্রতি আটটি ভাষাতে বেটা সংস্করণ অবমুক্ত করেছে। এই আটটি ভাষার মধ্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাও আছে। এর ফলে এখন থেকে আমরা বাংলা ভাষার ইন্টারফেসের ফায়ারফক্স ব্যবহার করতে পারবো। ফায়ারফক্সে এখন বাংলা অভিধানও যুক্ত আছে। সেটি সক্রিয় করে বাংলা লিখলে লেখার সময় বানানে ভুল হলে সতর্ক করা হয়।  গুগলের দারুণ দারুণ সব সার্ভিস সম্পর্কে আমরা কে না জানি! গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বাংলা অনেক আগে থেকে যুক্ত হলেও সার্চের সময় বাংলা অটো-কমপ্লীট যুক্ত হয়েছে কিছুদিন আগে। গুগলের আর একটি ভাল সার্ভিস হচ্ছে google transliteration, যে সব সাইটে বাংলা লেখার ব্যবস্থা নেই, সে সব ওয়েব ব্রাউজারে খুব সহজেই বাংলা লেখা সম্ভব। গুগল ট্রান্সলেটরে বাংলা ভাষা না থাকলেও গুগল অভিধানে সম্প্রতি বাংলা ভাষা যুক্ত হয়েছে। বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় সোসাল সাইট ফেসবুকেরও বাংলা রূপান্তর করা হয়েছে।  ব্লগার ডট কম আংশিক বাংলা ভার্সন তৈরি হয়েছে প্রায় বছর খানেক আগেই। সম্প্রতি এ কার্যক্রম তাদের জনপ্রিয় মেইল সার্ভিসেও প্রয়োগ করেছে। বলতে গেলে পুরো বাংলাতেই এখন কম্পিউটারের অনেক কিছু ব্যবহার করা সম্ভব।   


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;উইকিপিডিয়া   ও বাংলাপিডিয়ায় বাংলা&lt;/span&gt;
ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডার হচ্ছে বাংলা উইকিপিডিয়া। ইন্টারনেটে মুক্ত বাংলা বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার নিবন্ধের সংখ্যা ২০ হাজার অতিক্রম করেছে। প্রসঙ্গত ২০০৪ সালে বাংলা উইকিপিডিয়ার কাজ শুরু হলেও শুরুতে এর অগ্রগতি ছিল ধীরগতির। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের বাংলা উইকি দল গঠনের পর থেকে দ্রুত এটি বিস্তৃত হতে থাকে।   এখানে বাংলা ভাষার ইতিহাস,বাংলা বর্ণের উৎপত্তির বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়া ভাষা আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের দিনপঞ্জিও রয়েছে।  
এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত একটি বিশ্বকোষ হলো বাংলাপিডিয়া। ২০০৩ সালে ১০ খন্ডে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই এটি ছাপা হয়। এছাড়া এর ইলেকট্রনিক সংস্করণও প্রকাশিত হয়। এখানে প্রায় ১২০০ লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। ওয়েবসাইটেও এসব তথ্য বিদ্যমান। বাংলা ভাষা, ভাষা আন্দোলন, একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে বাংলায় প্রচুর তথ্য রয়েছে। 


&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;প্রয়োজন সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার&lt;/span&gt;
অমর একুশকে জাতিসংঘের স্বীকৃতি, সিয়েরা লিয়নে বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদাদান এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার বহুল ব্যবহারের পরও বাংলা ভাষার ব্যবহার ও চর্চার ব্যাপক ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  পশ্চিমবঙ্গের গ্রামের মানুষজন আঞ্চলিক বাংলায় কথা বললেও শহরাঞ্চল বিশেষকরে রাজধানী কোলকাতার অধিকাংশ বাঙালী ইংরেজি ও হিন্দির চর্চা করে। ফলে বাংলা ভাষা সেখানে আত্মাহুতি দেয়ার মুখে।  এ দিকটি লক্ষ্যে করেই  ভারতের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়  কয়েক বছর আগে বলেছিলেন, “আগামী পঞ্চাশ বছর পরে বাংলা ভাষার চর্চা হবে কেবলমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক।” 

সুনীল বাবুর বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা যথার্থ কিনা তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। কারণ খোদ বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে ভাষার ব্যবহার এখনও চালু হয়নি ।  উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা এখনও উপেক্ষিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও বাংলা ভাষার চর্চা নেই। অনার্স, মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি কোর্স কোথাও বাংলা সাহিত্যের জায়গা নেই।  অথচ মহান ভাষা আন্দোলনের মূল দাবি ছিলো- ‘অফিস আদালতে সর্বত্র বাংলাভাষা ব্যবহার করতে হবে । আমাদের সংবিধানের প্রথমেই শেখা আছে,‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। কিন্তু তারপরও সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু এবং ‘শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাভাষা’ চালু  কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কোন উদ্যোগ এখনো নেই। নিজ দেশের সর্বত্র যদি আমরা বাংলা ভাষার ব্যবহার না করতে পারি তাহলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তর্ভূক্তির চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-3216745197783337110?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/3216745197783337110/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=3216745197783337110' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/3216745197783337110'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/3216745197783337110'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2010/01/blog-post.html' title='ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বাংলার ব্যবহার ও জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে &apos;বাংলা&apos;র অন্তর্ভূক্তি দাবী'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S1WfufrTUfI/AAAAAAAAAFY/BWuZppNzN6k/s72-c/21feb.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-8263966977597645177</id><published>2009-08-19T08:13:00.000-07:00</published><updated>2009-08-19T08:16:07.413-07:00</updated><title type='text'>পাশ্চাত্যের মানুষ পুনরায় চারিত্রিক পবিত্রতার দিকে ঝুঁকছে</title><content type='html'>&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;এক. &lt;/span&gt;

মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সততা ও চারিত্রিক পবিত্রতাকে পছন্দ করে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে,  মানুষ যতই নৈতিক মূল্যবোধগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়, ততই তাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়। পাশ্চাত্যে দীর্ঘকাল ধরে নৈতিক মূল্যবোধের  চরম অবক্ষয় সেখানকার নারী, পুরুষ, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। এ অবস্থায় সেখানকার নতুন প্রজন্মের কন্যা ও মেয়েরা পুনরায় চারিত্রিক পবিত্রতার দিকে ঝুঁকছে। তারা এখন অশ্লীলতা, ব্যাভিচার ও বিভিন্ন যৌন অনাচারের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্য আকুল হয়ে উঠেছে।  


পাশ্চাত্যের নতুন প্রজন্ম, বিশেষ নারী সমাজের একটা অংশসহ তরুণী ও যুবতীদের একটা বড় অংশ স্বাধীনতার নামে যৌন অনাচার ও অশ্লীলতা প্রসারের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর বিরোধিতা করছে। যদিও পাশ্চাত্যের প্রচারমাধ্যমগুলো এ ধরনের তথ্য প্রচার করছে না, বরং বিপরীত তথ্যই প্রচার করছে। আই জি নামের নিউইয়র্ক-ভিত্তিক একটি  জরীপ ও গবেষণা-প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের নতুন প্রজন্মের মেয়েরা তাদের আগের প্রজন্মগুলোর পছন্দের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। অর্থাৎ সেখানকার এই প্রজন্মের মেয়েরা নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াতে এবং শরীরকে ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ পরতে মোটেই আগ্রহী নয়।   


পাশ্চাত্যের নতুন প্রজন্ম, বিশেষ নারী সমাজের একটা অংশসহ তরুণী ও যুবতীদের একটা বড় অংশ স্বাধীনতার নামে যৌন অনাচার ও অশ্লীলতা প্রসারের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর বিরোধিতা করছে। বরং তারা আধ্যাত্মিক ও আত্মিক চাহিদাগুলোর প্রতি বেশী গুরুত্ব দেয়ার দাবী জানাচ্ছে।  এ প্রসঙ্গে মার্কিন লেখিকা ওয়েন্ডি শালিত বলেছেন, আমরা সাংস্কৃতিক দিক থেকে এক স্পর্শকাতর সময়ের সম্মুখীন। পাশ্চাত্যে এখন ক্ষতিকারক সংগীত, বিভিন্ন ধরনের উস্কানীমূলক তৎপরতা, পরিবার ব্যবস্থায় ধ্বস, বিবাহ-বিচ্ছেদ, মাদকাসক্তি ও আদর্শিক অচলাবস্থা নারী ও কন্যাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বর্তমান প্রজন্মের যুবতী ও কন্যারা অতীতের প্রজন্মের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। তারা অবাধ বা লাগামহীন স্বাধীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, বরং তারা পুনরায় মানুষের প্রকৃতিগত সৎ-স্বভাব বা সতীত্বের মাধুর্য আস্বাদন করতে চাইছে।  

মার্কিন লেখিকা ওয়েন্ডি শালিত আরো বলেছেন, পাশ্চাত্যের বর্তমান প্রজন্মের যুবতী ও কন্যারা তাদের বাবা মায়েদের মত হাল্কা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হতে চাইছে না। তারা তাদের পোশাকেও পরিবর্তন আনতে চাইছে। বরং তারা সংযম ও বিচক্ষণতা অবলম্বন করে সতীত্বকে যথাসম্ভব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। 


মিসেস রাচেল এ প্রসঙ্গে বলেছেন, প্রথম দিকে আমি সতীত্বের গুরুত্বের ব্যাপারে সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু সতীত্ব সম্পর্কে মার্কিন লেখিকা ওয়েন্ডি শালিতের বই পড়ে এখন আমার চোখ খুলে গেছে। আমি এখন বুঝতে পেরেছি যে সঠিক পথ কোনটি। মহান প্রভুকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে আমি সময়মত এ বই পেয়েছি। আমি এখন সতীত্ব বজায় রাখার জন্য নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি এবং আমার মধ্যে জন্ম নিয়েছে আত্ম-বিশ্বাস।


পাশ্চাত্যের অনেক মানুষ এখন যৌন অনাচার ও ব্যাভিচারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৪ সালে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানকার যুব প্রজন্মের যেসব সদস্য অবৈধ যৌন সম্পর্কে জড়িত হয়েছে তাদের দুই তৃতীয়াংশই এখন অনুতপ্ত। ২০০৫ সালে পরিচালিত অন্য এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিয়ের আগে যারা যৌন সম্পর্কে জড়িত হয়েছে এবং যারা মদ ও মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়েছে তারা যৌবনের  এই সোনালী বয়সেই বিষন্নতা ও হতাশা বা নৈরাশ্যের শিকার। বিষন্নতার কারণে অনেক যুবতী শারীরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ধরনের যুবতী ও তরুনীরা এখন  সতীত্ব বজায় রাখতে না পারার জন্য অনুশোচনা করছে। 
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপলিস অঙ্গরাজ্যের ১৬ বছরের যুবতী লরেন অত্যন্ত কৃতী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। সে এখন নাইট-ক্লাবের বিভিন্ন পার্টির প্রতি বিতৃষ্ণ। তার মতে চিত্ত-বিনোদনের নামে সমবয়সী ছেলে বন্ধুদের সাথে রাত না কাটিয়ে  মেয়েদের উচিত সমবয়সী মেয়েদের সাথেই অবসর-বিনোদনকে গুরুত্ব দেয়া ।  

২০০৬ সালে জগবি নামের খ্যাতনামা জরীপ সংস্থার এক জরীপে বলা হয়েছে, মার্কিন হাইস্কুলগুলোর দুই তৃতীয়াংশ ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের আচরণের ওপর বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারী রাখাকে জরুরী বলে মনে করছে। তারা চায় বাবা-মায়েরা তাদেরকে খারাপ স্থানে বা ক্ষতিকারক আড্ডায় যেতে নিরুৎসাহিত করুক।

পাশ্চাত্যের কোনো কোনো স্থানের যুবক-যুবতীরা এখন ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে সংযমী হবার প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে।  এ ধরনের প্রশিক্ষণ ক্লাসে তারা তাদের সম্ভাব্য সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনা বা পরামর্শ করার সুযোগ পাচ্ছে। পাশ্চাত্যের অনেক যুবক-যুবতী এখন যৌন অনাচার ও ব্যাভিচারের বিস্তারের অন্যতম প্রভাবক বা চালিকা-শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত অশ্লীল ছায়াছবি, নাটক ও ম্যাগাজিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তাদের অনেকেই এখন লেখক লেখিকাদেরকে তাদের গল্প বা চিত্র-নাট্য থেকে যৌন-সম্পর্ক বিষয়ক বক্তব্য বা দৃশ্যগুলো বাদ দেয়ার অনুরোধ করছে। তাদের অনেকেই এখন এসব অশ্লীল বিষয়কে বস্তাপচা বিষয় বলে মনে করছে এবং তারা বলছে, আমরা নতুন অথচ ভালো কিছু চাই। 

আজকের এই আলোচনা শেষ করবো টেইলর ম্যুর নামের ১৮ বছর বয়স্ক এক মার্কিন যুবতীর বক্তব্য উদ্ধৃত কোরে। সংযম বিষয়ক প্রশিক্ষণ ক্লাসে অংশ গ্রহণকারী এই যুবতী তার সমবয়সী নতুন প্রজন্মের মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলছেন, 
বন্ধুরা, সংযম খুবই ভালো কাজ। আমি অত্যন্ত গর্বের সাথে বলতে চাই যে আমি চারিত্রিক পবিত্রতা বা সতীত্ব বজায় রেখেছি। আসুন আমরা সবাই মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকি। যৌন প্রবৃত্তিকে কেবল পরিবার গঠন ও মানুষের বংশ বিস্তার অব্যাহত রাখার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সতীত্ব বা চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখা হলে মানুষের সত্তার সম্মান সব সময় বজায় থাকবে। 

  

&lt;span style="font-weight:bold;"&gt;দুই.&lt;/span&gt;


মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সততা ও চারিত্রিক পবিত্রতাকে পছন্দ করে।  মানুষ যতই নৈতিক মূল্যবোধগুলোর মেনে চলে, ততই তাদের নিরাপত্তা বাড়ে।  পাশ্চাত্যে দীর্ঘকাল ধরে নৈতিক মূল্যবোধের  চরম অবক্ষয় সেখানকার নারী, পুরুষ, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। এ অবস্থায় কন্যা ও মেয়েরাসহ সেখানকার নতুন প্রজন্মের অনেকেই পুনরায় চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকছে।  
 
পাশ্চাত্যের নতুন প্রজন্ম, বিশেষ নারী সমাজের একটা অংশসহ তরুণী ও যুবতীদের একটা বড় অংশ স্বাধীনতার নামে যৌন অনাচার ও অশ্লীলতা প্রসারের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর বিরোধিতা করছে। যদিও পাশ্চাত্যের প্রচারমাধ্যমগুলো এ ধরনের তথ্য গোপন রেখে বিপরীত তথ্যই প্রচার করছে। আই জি নামের নিউইয়র্ক-ভিত্তিক একটি  জরীপ ও গবেষণা-প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের নতুন প্রজন্মের মেয়েরা নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াতে এবং শরীরকে ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যবহৃত টাইট পোশাক-পরিচ্ছদ পরতে মোটেই আগ্রহী নয়।    আই জি প্রতিষ্ঠানের গবেষক মিলিসা লাভিজেন তার প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান ভিত্তিক এই রিপোর্ট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন,  নিউইয়র্কের নতুন প্রজন্মের মেয়েরা নিজেদের শরীর আগের চেয়েও বিস্তৃতভাবে ঢেকে রাখতে বা পোশাকে আবৃত করতে পছন্দ করছে। লাভিজেন আরো বলেছেন, আমাদের বিশ্বাস নিউইয়র্কের নতুন প্রজন্মের মেয়েদের এই পরিবর্তিত আচরণের মূল কারণ হল, লাগামহীন জীবন-যাত্রার প্রতি স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি। উল্লেখ্য, "সব কিছুই অস্থায়ী"-এই শ্লোগানের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল লাগামহীন জীবন-যাত্রা। বর্তমানে এরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে তরুণী ও যুবতীরা  নিজেদের দেহ অতীত প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশী ঢেকে রাখছে বা পোশাকে আবৃত করছে।  মিসেস লাভিজেনের মতে,  পাশ্চাত্যে কয়েক দশক ধরে অশালীন বা অর্ধনগ্ন পোশাকের সংস্কৃতির আধিপত্যের পর এখন সেখানকার মানুষ আরো ভালো ও উন্নত পোশাক অনুসন্ধান করছেন।


আই জি প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের মেয়েরা অন্য যে কারনে তাদের আগের প্রজন্মগুলোর পছন্দের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন তা হল, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোর আকাঙ্ক্ষা এবং আরো বেশী নিরাপত্তার প্রত্যাশা। এই গবেষকরা বলছেন, ধর্মের প্রতি আগ্রহ, গীর্যায় যাওয়া, লাগামহীন জীবন-যাত্রার গণ-সংস্কৃতির মোকাবেলা- এসব থেকে বোঝা যায় যুব-প্রজন্ম বর্তমান পরিস্থিতি বা পরিবেশের ওপর আরো ভালো নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান। 

পাশ্চাত্যের অনেক যুবতী বা তরুণীর মধ্যে এই শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে যে, শালীন পোশাক ব্যক্তি ও সমাজের পবিত্রতা এবং সুস্থতার জন্য অপরিহার্য্য।   যে পরিবেশে নারী ও কণ্যারা শালীনতার সীমা লংঘনে অভ্যস্ত নয়, সেখানে সহজেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা চালানো যায় বলে তারা বুঝতে পেরেছে। প্যানসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্ওয়ি হার্লি ২০০৬ সালের শরৎকালে আনুষ্ঠানিক পোশাকের পরিবর্তে যেমন-খুশি-তেমন পোশাক পরে ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিত হবার প্রতিবাদ জানান।  তিনি কর্মস্থলে ও ক্লাসে আনুষ্ঠানিক শালীন পোশাক পরার প্রথা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে এক খোলা চিঠিতে বলেন,  "শিক্ষার্থীদের পোশাক কি এমন হওয়া উচিত নয় যে তা থেকে পড়াশুনার প্রতি তাদের আন্তরিকতা বা আগ্রহ ফুটে উঠবে? আমার মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পোশাক শিক্ষক, সহপাঠি এবং সর্বোপরি  নিজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন।  শিক্ষার্থী যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক  ও শালীন পোশাক পরে ক্লাসে উপস্থিত হয়, তখন তা এ অর্থ বহন করে যে সে এই শিক্ষা-বৈঠকের অন্য সদস্যদের সম্মান জানাচ্ছে এবং এ ধরনের বৈঠকে সে সবচেয়ে ভালো পন্থায় উপস্থিত থাকার অঙ্গীকার করছে।" 
পাশ্চাত্যের কোনো কোনো তরুণী ও যুবতী অশালীন পোশাকের ব্যাপারে পোশাক-ব্যবসায়ী বা পোশাক মার্কেটের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ও পত্র-পত্রিকায় প্রতিবাদ-লিপি পাঠাচ্ছেন। এই তরুণী ও যুবতীরা শরীর-প্রদর্শনীমূলক বা অশালীন পোশাক পরতে রাজী নন।  


এল্লা গান্ডারসন ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরের বাসিন্দা। ১৭ বছর বয়স্ক এই তরুণী সম্পতি আরো সংযত বা শালীন পোশাক সরবরাহ করতে নর্ডস্টর্ম নামের একটি পোশাক বিক্রয় কেন্দ্রে চিঠি লিখেছেন। তার ঐ চিঠি মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে এবং এর ফলে পোশাকের মডেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বিতর্ক জোরদার হয়ে উঠেছে। ঐ চিঠির একাংশে এল্লা গান্ডারসন বলেছেন, "নর্ডস্টর্মের সম্মানিত পরিচালক, আমি আপনার বিক্রয়-কেন্দ্রে এসেছিলাম পোশাক কিনতে। কিন্তু এখানে সব পোশাকই ছিল সংকীর্ণ ও শরীরকে দৃষ্টিকটুভাবে ফুটিয়ে তোলার পোশাক। আপনার বিক্রেতারা জানালেন, আমাদের কাছে কেবল এই এক ডিজাইনের পোশাক রয়েছে। যদি এ কথা সত্য হয়, তাহলে তো আমি বা অন্য যে কোনো মেয়েকে অর্ধনগ্ন পোশাক পরেই সড়গুলোতে চলা-ফেরা করতে হবে। আমার মতে, এ ধরনের প্রবণতা বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। "

কয়েকমাস পর নর্ডস্টর্মের একজন প্রতিনিধি এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে এল্লাকে নিশ্চয়তা দেন। অশালীন পোশাকের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের মুখে কোনো কোনো পশ্চিমা বিক্রেতা কাঙ্ক্ষিত শালীন পোশাকের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। এ ধরনের শালীন পোশাক প্রদর্শনীর ধারণা চালু হয় ১৯৯৯ সালে।  সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল মা তাদের  মেয়েদের দিয়ে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এই মেয়েরা ছিল একটি ধর্মীয় গ্রুপের সদস্য। ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েদের অংশগ্রহণে দেশটির ১৭ টি শহরে এ ধরনের শালীন পোশাকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। 


সিয়াটলের ১৮ বছর বয়স্ক যুবতী রবিন মনে করেন, অশালীন পোশাক অন্যদেরকে এই পোশাকধারী সম্পর্কে বাস্তব ও মানবীয় মূল্যবোধের পরিবর্তে তার বাহ্যিক দিকের আলোকে বিচারের আহ্বান জানায়; আর এ বিষয়টি সমাজে নারীর মূল্যকে কমিয়ে দেয়।

এভাবে দেখা যাচ্ছ পাশ্চাত্যের নারী সমাজের নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীর শালীন পোশাক সম্পর্কে পশ্চিমা সমাজে একটা শক্ত অবস্থানের ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তাই দেখা যাচ্ছে ম্যাগীর মত ৩৩ বছর বয়স্ক মার্কিন মহিলা  সতীত্বের বা চারিত্রিক পবিত্রতার শিল্প শীর্ষক বই লিখে নারীর সম্মান বৃদ্ধির জন্য তাদেরকে শালীন ও সম্মানজনক পোশাক পরার এবং পরপুরুষদের আকৃষ্ট করার জন্য সাজ-সজ্জা না করতে নারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে পুরুষরা মানুষ হিসেবে নারীকে সম্মান জানায়। 

পাশ্চাত্যের অনেক যুবক-যুবতী এখন যৌন অনাচার ও ব্যাভিচারের বিস্তারের অন্যতম প্রভাবক বা চালিকা-শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত অশ্লীল ছায়াছবি, কুরুচিপূর্ণ সঙ্গীত, নাটক ও ম্যাগাজিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ২০০৫ সালের জুলাই মাসে লন্ডনে কয়েকজন তরুণী অশ্লীল ছবি প্রকাশের জন্য কয়েকটি ম্যাগাজিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ধর্মঘট পালন করে। পাশ্চাত্যের অনেক যুবক-যুবতী এখন নৈতিক সংযমের প্রশিক্ষণ-ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। 

এটা খুবই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি যে, যেসব সমাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ও বাবা-মায়েরা নিজ সন্তানদেরকে চারিত্রিক পবিত্রতার পথ থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ দিয়েছেন সেসব সমাজেরই যুব প্রজন্মের একাংশ উন্নত আদর্শের পথ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করছেন। সাহসী এই যুব প্রজন্ম অন্যদের গভীরভাবে প্রভাবিত করছেন। নৈতিক সংযমের প্রশিক্ষণ-ক্লাসে অংশগ্রহণকারী রশীদা জলি'র মত ২৯ বছর বয়স্ক মার্কিন যুবতীর ভাষায় এই নতুন ধারা থেকে বোঝা যায়,  সাহসী যুব-প্রজন্ম ইচ্ছে করলে প্রচলিত বা প্রতিষ্ঠিত নেতিবাচক ধারার বিপরীত স্রোতে এগিয়ে যেতে পারে এবং এভাবে তারা এক ইতিবাচক উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারে। 


এটা স্পষ্ট পাশ্চাত্যের অনেক মানুষ ও বিশেষ করে যুব প্রজন্মের একাংশ পুনরায় চারিত্রিক পবিত্রতার দিকে ঝুঁকছে, যদিও এ ধারার প্রতি সমর্থন এখনও ব্যাপক বা  নিরংকুশ নয়, কিন্তু পশ্চিমা সমাজের নৈতিক সংকটসহ নানা সামাজিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সফল হয়েছেন। *&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-8263966977597645177?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/8263966977597645177/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=8263966977597645177' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8263966977597645177'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8263966977597645177'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2009/08/blog-post.html' title='পাশ্চাত্যের মানুষ পুনরায় চারিত্রিক পবিত্রতার দিকে ঝুঁকছে'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-4270143329460978190</id><published>2009-07-15T04:48:00.000-07:00</published><updated>2009-07-15T04:50:44.731-07:00</updated><title type='text'>মারওয়া শেরবিনি হত্যাকান্ড : পাশ্চাত্যে ইসলাম আতঙ্কের ফসল</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://www.iribnews.ir/News%5CPhoto%5C194958_393b36f8.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 270px; height: 180px;" src="http://www.iribnews.ir/News%5CPhoto%5C194958_393b36f8.jpg" border="0" alt="" /&gt;&lt;/a&gt;
পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলমানদের প্রতি অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্য নতুন কোন বিষয় নয়। যুগ যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসরত মুসলমানদের মৌলিক অধিকার পদদলিত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি জার্মানীর একটি আদালতে বিচারের শুনানী চলার সময়ে যে লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে, তাকে পাশ্চাত্যে ইসলাম আতঙ্কের অন্যতম ফসল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঐ আদালতে এক বর্ণবিদ্বেষী তরুণ হিজাব পরিহিতা মিশরীয় গর্ভবতী নারী মারওয়া শেরবিনিকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এবং তার স্বামী তাকে বাঁচাতে আসলে পুলিশ তার ওপর গুলি চালায়। 

মিশরীয় নাগরিক মারওয়া শেরবিনি ২০০৫ সালে  উচ্চশিক্ষার্থে স্বামীসহ জার্মানীতে পা রাখেন। সেখানে গিয়েই তিনি মুসলমানদের প্রতি জার্মান সমাজের বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন। ফার্মেসিতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শেরবিনি নিজ জীবদ্দশায় জার্মান সমাজে ইসলাম বিদ্বেষ ও বর্ণবাদ কাছে থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। সম্প্রতি জার্মানীর একটি পার্কে ঘুরতে গেলে তিনি বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন। একজন বর্ণবিদ্বেষী জার্মান তরুণ শেরবিনি'র হিজাবকে সন্ত্রাসের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। শেরবিনি ঐ যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন এবং সেখানে ঐ যুবকের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। আপীল আদালতে মারওয়া শেরবিনি যখন বিচারকের সামনে তাকে অপমান করার ঘটনা বর্ণনা করছিলেন, তখন অভিযুক্ত যুবক তার ওপর হামলা চালায়। 'তোর বেঁচে থাকার অধিকার নেই'- একথা বলে গর্ভবতী শেরবিনির ওপর সে উপর্যপুরি ১৮ বার ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। এ সময় শেরবিনির স্বামী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে চাইলে জার্মান পুলিশ তার ওপর গুলি চালায়। এসময় শেরবিনির ৩ বছরের শিশু আদালতে উপস্থিত ছিলো এবং ঐ অবুঝ শিশুর চোখের সামনে তার মা শহীদ এবং বাবা মারাত্মকভাবে আহত হয়।
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, যে জার্মান পত্রপত্রিকা অতি তুচ্ছ কোন ঘটনাকেও বড় করে তুলে ধরে, সেই গণমাধ্যম শেরবিনির হত্যাকান্ডের ব্যাপারে কয়েকদিন ধরে রহস্যজনক নিরবতা পালন করে। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বলে দাবিকৃত এসব গণমাধ্যম কেবল তখনই শেরবিনির লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের খবর প্রচার করে যখন অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়ে। হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারী শেরবিনির হত্যাকান্ডের খবর জার্মানীর গণমাধ্যমে প্রকাশ না হওয়ার ঘটনা মুসলমানদের প্রতি জার্মানীসহ পশ্চিমা সমাজের বর্ণবাদী আচরণের বিষয়টি আরো একবার বিশ্ববাসীর সামনে ফুটিয়ে তুলেছে। এমনকি যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীর হত্যাকান্ডের খবরটি প্রচারিত হয়েছে, তখনও জার্মান গণমাধ্যম এটিকে গুরুত্বহীন এবং একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। জার্মানীর এটর্নি জেনারেল মারওয়া শেরবিনির হত্যাকান্ড সংক্রান্ত যে কোন তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেরবিনির জায়গায় যদি একজন অমুসলিম নিহত হতো, তবে পশ্চিমা গণমাধ্যম সে খবরকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতো এবং দীর্ঘদিন ধরে মাঠ গরম করে রাখতো। আলজেরিয়ার আশশুরুক পত্রিকার সম্পাদক যেমনটি বলেছেন,"মুসলিম নারীর পরিবর্তে জার্মানীতে যদি কোন ইহুদী এরকম নির্মম হত্যাকান্ডের স্বীকার হতো, তবে জার্মান পত্রিপত্রিকাগুলো এ ব্যাপারে হৈ চৈ ফেলে দিতো।" জার্মানীর আদালতের বিচারক ও পুলিশের চোখের সামনে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার মুসলিম নারী মারওয়া শেরবিনির ভাই তারেক শেরবিনি এ সম্পর্কে আল আলম নিউজ চ্যানেলকে বলেছেন, "যদি ঐ হত্যাকান্ড কোন ইউরোপীয় বা পশ্চিমা নাগরিকের ওপর পরিচালিত হতো, তবে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী এলাহী কান্ড ঘটে যেতো। কিন্তু আমার বোনের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তারা আশ্চর্যজনক নীরবতা পালন করেছে। এটি সকল আরব ও মুসলমানকে অবমাননার শামিল।"
প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে, দেশগুলোর গণমাধ্যম হুবহু সে নীতি অনুসরণ করছে। এসব সরকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করেছে এবং বহু পশ্চিমা রাষ্ট্রনায়ক তাদের কথাবার্তায় ইসলাম বিদ্বেষের বিষয়টি চেপে রাখতে পারেন নি। পাশ্চাত্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক, বিশেষ করে হিজাবের বিরুদ্ধে এক ধরনের চরম বর্ণবাদী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এমনকি হিজাব পরার কারণে মিশরীয় মুসলিম নারী মারওয়া শেরবিনিকে হত্যা করেছে। বর্তমানে জার্মানীর বেশ কয়েকটি প্রদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারী অফিস আদালতে হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীর প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। ফ্রান্সেও মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটিতে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরিধানের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে রাখা হয়েছে। 

পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম বিদ্বেষ এমনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, সেখানে বসবাসরত মুসলমানদের সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংস্থা এফ.আর.এ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইউরোপীয় দেশগুলোতে গত এক বছরে বণবদী আচরণের পরিমাণ শতকরা ৮০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব দেশের শীর্ষে রয়েছে বৃটেন। ২০০৭ সালে বৃটেনে ৬১টি বর্ণবাদী হামলা হয়েছিলো। এ দৃষ্টিকোন থেকে জার্মানীর আদালতে একজন মুসলিম নারীর হত্যাকান্ড অপ্রত্যাশিত কোন ঘটনা নয়। কারণ, জার্মানীসহ পশ্চিমা দেশগুলোর গণমাধ্যম সেসব দেশে মুসলিম বিদ্বেষী পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। জার্মানীর একটি প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য জামাল কারযুলি এ সম্পর্কে বলেছেন, "জার্মানীর রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমগুলো বহু বছর আগে থেকে দেশটিতে একটি ইসলাম বিদ্বেষী পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মানীর আদালতে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন হিজাব পরিহিতা মুসলিম মহিলার হত্যাকান্ডের ঘটনায় দেশটির সরকার নিজেকে নির্দোশ ভাবতে পারে না। বিশেষ করে মারওয়া শেরবিনির হত্যাকান্ডের ব্যাপারে বহু প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। প্রকাশ্য আদালতে এ ধরনের ঘটনা ব্যাপক সংশয়েরও জন্ম দিয়েছে। কারণ, জার্মানীর আইন অনুযায়ী আদালতে জননিরাপত্তাকে হুমকিগ্রস্ত করা যায় এমন কোন ধরনের অস্ত্র বা গোলাবারুদ নিয়ে প্রবেশ করা যায় না। আদালতে প্রবেশের সময় প্রতিটি ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে তার নিরস্ত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় শেরবিনির ঘাতক কীভাবে ছোরা নিয়ে আদালতে প্রবেশ করলো- এটি হচ্ছে প্রথম প্রশ্ন। দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশের চোখের সামনে এতবড় একটি হত্যাকান্ড ঘটার সময় পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলো কেনো? পুলিশ শেরবিনিকে রক্ষা করতে এগিয়ে না এসে বরং তার স্বামীর গায়ে গুলি করে। তারা ঐ ঘাতক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে পারতো। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্ণবিদ্বেষী জার্মান সমাজে আর কোন মুসলিম নারী যাতে হিজাব পরার সাহস না দেখায় সেজন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শেরবিনি'র হত্যাকান্ডের নাটক আদালতে মঞ্চস্থ করা হয়েছে।

বর্ণবাদী হামলার শিকার মারওয়া শেরবিনি আসলে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হিজাব পরতেন। এ কারণে মিশরের ঐ নারীকে 'শহীদে হিজাব' বা হিজাবের শহীদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হিজাব হচ্ছে এমন এক ঢাল যা নারীকে লম্পট পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। হিজাব পরিধান করে একজন নারী নিরাপত্তা সহকারে সমাজের গঠনমূলক কাজে অংশ নিতে পারে। মারওয়া শেরবিনি ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ পালন করতে গিয়ে শহীদ হওয়ার কারণে বিশ্বের মুসলমানরা তার প্রতি সহমর্মীতা প্রকাশ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ধিক্কার জানিয়েছে। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় শেরবিনির জন্মস্থানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অত্যন্ত আড়ম্বরের সাথে তার জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ইরানেও তার প্রতীকি দাফন সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি জার্মানী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি ইতালির রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে শেরবিনির নিজ দেশ মিশর সরকারের অদ্ভুত নীরবতা দেশটির জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। মিশরের অনেক আলেম ও রাজনৈতিক নেতা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ আবুল গেইতের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম বিদ্বেষী যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তার ফলে মুসলমানরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম এসব দেশে ইসলাম গ্রহণের ক্রমবর্ধমান হার রোধ করার লক্ষ্যে ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে। ইসলাম মানুষের প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান হওয়ার কারণে বহু মানুষ এ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। হিজাব বা ইসলামী শালীন পোশাক হচ্ছে এ ধর্মের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়। কিন্তু সুস্থ সমাজের জন্য অপরিহার্য এই হিজাবকে পশ্চিমা দেশগুলো মেনে নিতে রাজী নয়। পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকার রক্ষার দাবি করলেও বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার করে নানাভাবে ইসলামের অবমাননা করছে। এসব দেশ তাদের মতাদর্শ বিরোধী কোন দেশের সামান্য ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী হৈ চৈ ফেলে দিতে সিদ্ধহস্ত হলেও প্রকাশ্য আদালতে একজন মুসলিম নারীর হত্যাকান্ডে কোনরকম বিচলিত হয় নি। মানবাধিকারের পৃষ্ঠপোষক এসব দেশের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসী হামলায় একজন গর্ভবতী নারীর করুণ মৃত্যুতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় নি।#&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-4270143329460978190?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/4270143329460978190/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=4270143329460978190' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/4270143329460978190'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/4270143329460978190'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2009/07/blog-post.html' title='মারওয়া শেরবিনি হত্যাকান্ড : পাশ্চাত্যে ইসলাম আতঙ্কের ফসল'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-7013161762666860508</id><published>2009-04-21T09:41:00.000-07:00</published><updated>2009-04-21T09:45:41.654-07:00</updated><title type='text'>পশ্চিমা সমাজে নৈতিক অধঃপতনের বিস্তার</title><content type='html'>পাশ্চাত্যে যৌন অনাচার ও নৈতিক অধঃপতনের বিস্তারে সমাজ-বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তালাকের হার বৃদ্ধি, পরিবার ব্যবস্থায় ধ্বস, লিভ টুগেদার বা অবৈধভাবে স্বামী-স্ত্রীর মত জীবন যাপন, ব্যাভিচার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে অশ্লীলতার মত সংকটের বিস্তারে পাশ্চাত্যের সরকারী পরিকল্পনাবিদরাও শঙ্কিত। পাশ্চাত্যে নৈতিক অধঃপতন এতটা মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে যে সেখানে অযাচার বা পরিবারের যেসব সদস্যের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ তাদের সাথেও ব্যাভিচারের ঘটনা বাড়ছে।  

কয়েক মাস আগে অস্ট্রিয়ায় এ ধরনের একটি ঘটনা ফাঁস হয়েছে। দেশটিতে জোসেফ ফ্রিটজেল  নামের ৭২ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি নিজের কন্যাকে বিগত ২৪ বছর ধরে একটি ভূগর্ভস্থ স্যাতস্যাতে কক্ষে আটক করে রেখেছিল। শুধু তাই নয় এই নির্দয়  পিতা নিজ কন্যার শ্লীলতাহানি করে সাতটি সন্তানের জনক হয়েছে। সম্প্রতি  বৃটেন ও ইতালীতেও এ ধরনের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। ইতালীতে এক পিতা তার কয়েক জন কন্যার সম্ভ্রমহানি করেছেন, এমনকি নিজের এক পুত্র সন্তানকেও এ ধরনের ঘৃণ্য কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দিয়েছেন। কলম্বিয়াতেও এক নরপশু তার এক কন্যাকে নয় বছর বয়স থেকে দীর্ঘ ২১ বছর পর্যন্ত পাশবিকতার শিকারে পরিণত করে ১১ টি সন্তানের জন্ম দিয়েছে । এসব ঘটনা থেকে স্পষ্ট, পাশ্চাত্যের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জীবন-ব্যবস্থাও এখন হুমকির মুখে।

পাশ্চাত্যে নৈতিকতার অবক্ষয় এবং আধ্যাত্মিকতা থেকে দূরে সরে যাবার প্রক্রিয়া প্রকাশ্যেই সূচিত হয় রেনেসাঁর যুগে। ঐ যুগে পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদরা গীর্যার কর্তৃত্ব খর্ব করার পাশাপাশি ধর্মকেও কোনঠাসা বা একঘরে করে। ফলে পাশ্চাত্যে ধীরে ধীরে  নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং এ সংক্রান্ত সীমারেখাগুলো পদদলিত হতে থাকে। ১৯৬০'র দশকে পাশ্চাত্যে নগ্নতা, অশ্লীলতা ও যৌণ-অনাচার ব্যাপকতা লাভ করে।  এর আগে নৈতিকতার সীমানাগুলো সমাজের নৈতিক ও মানসিক সুস্থতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলোর বিজ্ঞাপনে নগ্নতা ও অশ্লীলতার প্রচারের ফলে এইসব সীমারেখা ভেঙ্গে পড়ে। ফলে নারী ও পুরুষের মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের প্রসারের পাশাপাশি বিস্তার ঘটে স্বামী ও স্ত্রীর  পারস্পরিক বিশ্বাসঘাতকতা, তালাক, বিবাহ ছাড়াই  স্বামী-স্ত্রীর মত একসাথে জীবন যাপন ও সমকামিতার মত জঘন্য পাপাচার।  পাশ্চাত্যে নৈতিক অবক্ষয়ের ঐ জোয়ারের সময়ই অনেক চিন্তাবিদ যৌন অনাচার ও লাগামহীনতার মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছিলেন। ষাটের দশকের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডী নৈতিক অবক্ষয়ের এই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেছিলেন," ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুব-প্রজন্ম আরামপ্রিয় ও ইন্দ্রিয়পরায়ণ। এরা যুদ্ধের ময়দানে দৃঢ়-চিত্ত নয়। এদের প্রতি সাত জনের মধ্যে ছয় জনই অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়-বিলাসিতার কারণে শারীরীক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। আমি আগামী প্রজন্মের মার্কিনীদের জন্য গভীরভাবে শঙ্কিত।"

অবশ্য কেনেডীর ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়েও মার্কিন সমাজের পরিস্থিতি আরো শোচনীয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  বই-পুস্তক, সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মাধ্যম ও ইন্টারনেটসহ সমস্ত গণমাধ্যম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লাগামহীন যৌণাচার বা ব্যাভিচারের প্রচার-প্রসারের কাজে নিয়োজিত। এইসব গণমাধ্যম পারিবারিক বন্ধন ও স্বামী-স্ত্রীর বৈধ ভালবাসার সম্পর্ককে ধ্বংসের কাজে এতটা সফল হয়েছে যে এসব মূল্যবোধ কেবল বদলে গেছে তা নয়, বরং পুরোপুরি উল্টে গেছে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ফরাসী চিন্তাবিদ ডক্টর এ্যালেক্সিস কার্ল লিখেছেন,  আমরা সমস্ত ঘরোয়া মূল্যবোধকে ধর্মীয় বিধানের মতই নির্মূল করেছি। আজকের নতুন প্রজন্ম অতীতের ঐসব মূল্যবোধ সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ।  সংযম, চারিত্রিক পবিত্রতা বা সততা, বন্ধুত্ব, দায়িত্বশীলতা, আত্মশুদ্ধি বা আত্মিক পবিত্রতা, মানুষের প্রতি ভালবাসা, চারিত্রিক বা নৈতিক মহত্ত্ব -- এ সবই এখন অর্থহীন শব্দ মাত্র এবং আজকের যুব সমাজের কাছে পরিহাসের বিষয়।

ইরানী লেখক মাহমুদ হাকিমী "অসুস্থ পশ্চিমা সমাজ " শীর্ষক বইয়ে একটি মার্কিন ম্যাগাজিনের উদ্বৃতি দিয়ে লিখেছেন, শয়তানের তিন ধরনের শক্তি  ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের বিশ্বটাকে ঘেরাও করেছে। প্রথমতঃ অশ্লীল সাহিত্য এবং পর্দাহীনতা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর পর্দাহীনতা অত্যন্ত বিস্ময়কর দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রচলন অব্যাহত থাকে। এই লজ্জাহীনতা বা বেহায়াপনা দিনকে দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়তঃ চলচ্চিত্র বা ছায়াছবিগুলো মানুষের মধ্যে  অশালীনতা ও ইন্দ্রিয়পরায়নতা বৃদ্ধি করেছে এবং এ ধরনের অনৈতিক আচরণের  বাস্তব পথ বা পন্থাও শিখিয়ে দিচ্ছে। তৃতীয়তঃ সাধারণ মহিলাদের মধ্যে পোশাক পরার ক্ষেত্রে কুরূচি বা অশ্লীলতা ও এমনকি নগ্ন হওয়া এবং পুরুষদের সাথে অবাধ মেলা-মেশার প্রচলন।

পাশ্চাত্যে মহিলাদের সম্ভ্রমহানির ঘটনা দিনকে দিন বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ গণমাধ্যমের উস্কানী। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণরা শৈশব থেকে কৈশর পর্যন্ত কেবল টেলিভিশনের পর্দায় সম্ভ্রমহানির কয়েক হাজার দৃশ্য দেখে থাকে।  যুক্তরাষ্ট্রে বহু মহিলা  কর্মস্থলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং পথে-ঘাটে সম্ভ্রমহানির শিকার হন। দেশটির শতকরা ২০ ভাগ মহিলা নিজ বন্ধুদের পাশবিক হামলার শিকার হন।   এ ধরনের মার্কিন নারীদের মধ্যে শতকরা ৬১ জনের বয়স ১৮ বছরেরও কম এবং শতকরা ২৯ জনের বয়স ১১ বছরেরও কম। সম্প্রতি   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৮ থেকে ১৯ বছর বয়স্ক ২১০ নারীর সম্ভ্রমহানির দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এ ধরণের ভয়াবহ খবর মাঝে মধ্যেই প্রকাশিত হচ্ছে।  ২০০৬ সাল থেকে ২০০৭ সালে বৃটেনের ১৫ বছর বয়সী ৫০ হাজার কিশোরী  গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চিকিৎসালয়ে ধর্ণা দিয়েছে। পাশ্চাত্যে ধর্ষণের শিকার অনেক মহিলাই পুলিশের কাছে সম্ভ্রমহানির কথা জানান না। অনেক নারী চিরজীবন এ দুঃখ মনের মধ্যেই গোপন রাখেন। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ দেশগুলোতেও নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে।
বৃটেনে প্রতি ৫ জন মহিলা পুলিশের মধ্যে চার জন নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সময় যৌণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।


বিখ্যাত মার্কিন লেখক অধ্যাপক উইলিয়াম মার্কিসন লিখেছেন, স্বামী-স্ত্রীর সুশৃঙ্খল বা সুস্থ যৌন সম্পর্ক বাদ দিয়ে আমরা প্রাণঘাতি এইডস ও অন্যান্য মারাত্মক রোগের শিকার হয়েছি। আমরা বিয়ের সম্পর্ক ত্যাগ করে তালাককে উন্নত জীবন হিসেবে বেছে নিয়েছি।  গর্ভপাতকে অপরাধ মনে না করে এ কাজকে এখন আমরা মানবাধিকার বলে মনে করছি এবং এ কাজকে ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতার গৌরবময় লক্ষণ বলে ধরে নিয়েছি।

এভাবে পশ্চিমা সমাজে নৈতিক অধঃপতন ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চিমা সভ্যতার অগ্রগতি এবং সেখানকার আরাম-আয়েশের জীবন খুব ভালোভাবে তুলে ধরলেও সেখানকার নৈতিক অবক্ষয়ের কথা তৃতীয় বিশ্বের ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই এড়িয়ে যান, বা সে বিষয়কে গুরুত্ব দেন না। বরং তারা নিজ দেশেও সবক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণের জন্য প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। পাশ্চাত্যে নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটও যুক্ত হওয়ায় পশ্চিমা সভ্যতার পতন আরো এগিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলীয় সাবেক কংগ্রেস সদস্য বিশ্বে নেতৃত্ব দেয়ার ব্যাপারে মার্কিন সরকারের দাবী থেকে দেশটির নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে বলেছেন,
" হ্যাঁ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে হবে। কিন্তু যে দেশটিতে ১২ বছরের বালিকারা গর্ভ ধারণ করে, ১৫ বছর বয়স্করা একে-অপরকে হত্যা করে, ১৭ বছর বয়স্করা এইডস রোগে আক্রান্ত হয় এবং ১৮ বছর বয়স্করা ডিপ্লোমা লাভ করা সত্ত্বেও লিখতে ও পড়তে পারে না, তারা কারোরই নেতৃত্ব দিতে সক্ষম নয়। "&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-7013161762666860508?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/7013161762666860508/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=7013161762666860508' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/7013161762666860508'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/7013161762666860508'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2009/04/blog-post.html' title='পশ্চিমা সমাজে নৈতিক অধঃপতনের বিস্তার'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-8844610230445534789</id><published>2009-03-03T06:18:00.000-08:00</published><updated>2009-03-03T06:23:41.664-08:00</updated><title type='text'>পাশ্চাত্যে পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসের প্রচেষ্টা</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/Sa09N2ONvmI/AAAAAAAAAEU/gVc2QnglZxQ/s1600-h/waragainstthefamily.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;width: 213px; height: 320px;" src="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/Sa09N2ONvmI/AAAAAAAAAEU/gVc2QnglZxQ/s320/waragainstthefamily.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5308966843842412130" /&gt;&lt;/a&gt;
পশ্চিমা চিন্তাবিদগণ বহুদিন যাবত আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কিছু সংকটের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে যাচ্ছিলেন যেগুলোর অধিকাংশই নৈতিকতাকে বিসর্জন দেয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমা সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে, সেখানে পারিবারিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। লিবারেলিযম বা কথিত উদার নৈতিকতার নামে এমন সময় পারিবারিক কাঠামো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, যখন সমাজের অন্যতম ভিত্তিই হচ্ছে পরিবার। অবস্থা এমন উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে যে, কোন কোন পশ্চিমা চিন্তাবিদ এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বই লিখে ফেলেছেন।  

The War Against The Family 'দ্যা ওয়ার এ্যাগেইনস্ট দ্যা ফ্যামিলি' বা 'পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' নামের বইটিতে পারিবারিক কাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কানাডার চিন্তাবিদ উইলিয়াম গার্ডনার (William Gairdner) এ বইয়ের লেখক। এ বইটি শুরু করা হয়েছে বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ফিশার এইমসের (Fisher Ames) একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি দিয়ে। এতে বলা হয়েছে, "আমরা এখন গণতন্ত্র নামের এমন একটি চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছি যেখানে নাগরিকদের স্বাধীনতাকে হত্যা করার আগে তাদের চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।" ঊনবিংশ শতাব্দির মার্কিন লেখকের এই উদ্ধৃতিটি প্রমাণ করে, গণতন্ত্র- কথিত স্বাধীনতার নামে যে পশ্চিমা জনগণের স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়েছে তাই নয়, সেই সাথে তাদের চরিত্র নষ্ট করার পাশাপাশি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। 

উইলিয়াম গার্ডনার তার বইয়ের শুরুতে পরিবার সম্পর্কে বলেছেন, "পিতা, মাতা ও সন্তানের সমন্বয়ে যে পারিবারিক কাঠামো গঠিত হয়েছে তার রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য। পারিবারিক কাঠামোকে কী পরিমাণ অবহেলা করা হচ্ছে তার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ এ পর্যন্ত মানবাধিকার, নারী অধিকার ও শিশু অধিকারসহ আরো বহু অধিকার আদায় করার জন্য আইন প্রণয়নসহ আরো বহু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু পারিবারিক অধিকার রক্ষা বা পারিবারিক কাঠামো রক্ষার কথা কাউকে বলতে শোনা যায় নি। 'পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' শীর্ষক বইয়ে পরিবার ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের জন্য পশ্চিমা সরকারগুলোকে দায়ী করা হয়েছে। 

গার্ডনার মনে করেন, পশ্চিমা সরকারগুলো চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপের দিক দিয়ে সাবেক কমিউনিস্ট শাসিত দেশগুলোর পর্যায়ে চলে গেছে। সুদূর অতীতকাল থেকে সমকামীতা একটি চরম জঘন্য ও ঘৃনিত বিষয় বলে বিবেচিত হয়ে আসলেও বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোতে এ বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সমকামীদের কথিত অধিকার রক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।  অনেক পশ্চিমা দেশে সমকামীদের বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে এবং গর্ভপাতকেও বৈধতা দেয়া হচ্ছে। গার্ডনার তার বইয়ে এক্ষেত্রে বৃটিশ লেখক এ্যালডাস হ্যাক্সলির (Aldus Haxly) একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন। হ্যাক্সলি বলেছেন, "পশ্চিমা দেশগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকার কারণে যে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়ার জন্য অবাধ যৌন স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।" অর্থাৎ পশ্চিমারা নিজেদেরকে স্বাধীনতার প্রবক্তা বলে দাবি করলেও তারা যে তাদের জনগণকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিতে পারে নি, সেকথা পশ্চিমা ঐ লেখকের কথায় ফুটে উঠেছে। 

গার্ডনার এ সম্পর্কে বলেছেন, যৌন স্বাধীনতা পশ্চিমা সরকারগুলোর জন্য এমন একটি অস্ত্রে পরিণত হয়েছে যা দিয়ে তারা নৈতিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক কাঠামোকে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, কোন নিয়ম-নীতি যখন সরকারের পক্ষ থেকে সমাজের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়, তখন কিছুদিন এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলে ধরা হয়। অনেক সময় এ ব্যাপারে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাও চলে যেটা পশ্চিমা সমাজে বর্তমানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার ক্ষেত্রে হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে সমাজ ধ্বংসের মাধ্যমে সরকারের চাপিয়ে দেয়া নীতির দৈন্যতা ফুটে উঠবেই। 

উইলিয়াম গার্ডনারের মতে, মূলত পশ্চিমা সরকারগুলো পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসের জন্য দায়ী হলেও সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট আরো কিছু বিষয়ও এজন্য দায়ী। এক্ষেত্রে তিনি পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। স্কুলের কোমলমতি শিশুদেরকে পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে বেড়ে ওঠার শিক্ষা দেয়া উচিত হলেও দুঃখজনকভাবে পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের কোন পাঠ্য নেই। "পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ" শীর্ষক বইয়ে পাশ্চাত্যের স্কুলগুলোর ভয়াবহ চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানকার স্কুলে এলকোহল ও মাদক সেবন, আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং যৌন অনাচার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করে গার্ডনার প্রশ্ন করেছেন, এমন অবস্থা সৃষ্টি হলো কেন? এরপর এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতাকে গুরুত্বহীন বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং কোমলমতি সন্তানদেরকে পিতামাতার সাথে বেয়াদবী করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।  

গার্ডনারের বইয়ে আরো বলা হয়েছে, পাশ্চাত্যের স্কুলগুলোতে যৌনশিক্ষা বলে যে পাঠ্য চালু করে দেয়া হয়েছে, তা কোমলমতি শিশুদের যৌনাচারে উস্কে দিচ্ছে। কথিত ঐ যৌনশিক্ষা বিয়ে, পরিবার ও সমাজ ধ্বংসের সবচেয়ে বড় হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। গার্ডনার আরো স্পষ্ট করে বলেছেন, যৌনশিক্ষার নামে স্কুলে যা শেখানো হচ্ছে, তাতে বাচ্চাদের আর পর্নোগ্রাফি দেখার প্রয়োজন নেই। বয়ো:সন্ধিকালে শিশুরা আগে যেখানে পিতামাতার সাথে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতো, যৌনশিক্ষার মাধ্যমে এখন আর তারা সে প্রয়োজন অনুভব করছে না, নিজেরাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে পরিচালিত জনমত জরীপে দেখা গেছে, কথিত যৌনশিক্ষা চালু থাকার পরও অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ, গর্ভপাতসহ এ ধরনের অনৈতিক কাজের পরিমাণ কমে যাওয়ার পরিবর্তে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।


কানাডিও লেখক গার্ডনারের মতে, পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসের আরেকটি কারণ হচ্ছে ফেমিনিযম বা কথিত নারীবাদী আন্দোলন। তিনি এক্ষেত্রে উগ্র নারীবাদীদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যারা স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্স গ্রহণ করে নারীদের সমকামী হতে উস্কে দিচ্ছে এবং তাদেরকে মা হতে নিষেধ করছে। তিনি নারীবাদীদের এ কাজের তীব্র বিরোধিতা করেন। গার্ডনার সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ অনস্বীকার্য হলেও সংসারে তাদের উপস্থিতি এবং সন্তান লালন পালনে তাদের ভূমিকাকে সবচেয়ে বেশী উপকারী বলে মনে করেন। তিনি বলেন, আমি অতি খারাপ মায়ের চেয়ে শিশুদের ডে কেয়ার সেন্টারে পাঠানোকে শ্রেয় মনে করবো। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, একজন সাধারণ মায়ের জায়গা কেউই পূরণ করতে পারে না, আর মা যদি ভালো হয়, তাহলেতো আর কথাই নেই। 

উইলিয়াম গার্ডনার স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যগত পারিবারিক কাঠামোর জন্য সমকামিতা এবং সমকামীদের মাধ্যমে পরিবার গঠনকে মারাত্মক হুমকি বলে মনে করেন। সমকামী আন্দোলনকারীরা যে সব লোকভোলানো কথা বলে, বিভিন্ন যুক্তির মাধ্যমে তা খণ্ডন করে তিনি বলেন, এই অস্বাভাবিক ও অপ্রাকৃতিক যৌনাচার পরিবার, সমাজ- এমনকি সমকামীদের নিজেদের জন্যও বিপদজনক ও ক্ষতিকর। পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শীর্ষক বইয়ে পশ্চিমা সমাজের আরো যেসব অনাচারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার মধ্যে গর্ভপাতের মাধ্যমে অঘোষিত জাতিগত শুদ্ধি অভিযান অন্যতম। গার্ডনার গর্ভপাতকে মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও পশ্চিমা দেশগুলোতে মনোরম প্রচারণার মাধ্যমে এ কাজে তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "একজন নারী ও একজন পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সন্তান ধারণের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবার গঠন করেন। কিন্তু সমকামীরা যে কথিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সেটা দুই পুরুষই হোক কিংবা দুই নারী- তাকে কোনভাবেই স্বাভাবিক পরিবার বলা চলে না। এছাড়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েই দুই নারী পুরুষের একত্রে থাকাকেও পরিবার বলা যায় না, কারণ, এখানে কারো কোন দায়বদ্ধতা নেই।

গার্ডনার তার বইয়ের শেষাংশে বলেছেন, পারিবারিক কাঠামোর ওপর যত হামলাই চালানো হোক না কেন, এ কাঠামো টিকে থাকবে। কারণ, পাশ্চাত্যে লোকভোলানো যেসব শ্লোগান দিয়ে পরিবার ধ্বংসের চক্রান্ত করা হচ্ছে, তা বেশীদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তিনি সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন বিবেকবান মানুষদের পারিবারিক কাঠামো রক্ষার কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।#&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-8844610230445534789?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/8844610230445534789/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=8844610230445534789' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8844610230445534789'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8844610230445534789'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2009/03/blog-post.html' title='পাশ্চাত্যে পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসের প্রচেষ্টা'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/Sa09N2ONvmI/AAAAAAAAAEU/gVc2QnglZxQ/s72-c/waragainstthefamily.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-8793493611693352677</id><published>2009-01-02T13:51:00.000-08:00</published><updated>2009-01-02T13:53:43.412-08:00</updated><title type='text'>গাজা  ও কারবালার শাহাদতের সংস্কৃতি</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SV6Mz1E-bnI/AAAAAAAAADo/1c-A9pIYJZI/s1600-h/7.bmp"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5286817834628705906" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; CURSOR: hand; HEIGHT: 224px" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SV6Mz1E-bnI/AAAAAAAAADo/1c-A9pIYJZI/s320/7.bmp" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;
&lt;div&gt;বর্ষ-পরিক্রমায় আবারও ফিরে এসেছে বুকের বেদনায়-ঢাকা মহররম মাস ও রক্তের আখরে লেখা আশুরা-বিপ্লবের শিহরণ-জাগানো দিনগুলো। দিকে দিকে আবারও শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত ও ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মুক্তিকামী মানুষের নেতা চিরউন্নত-শির হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ)'র চিরঅক্ষয় নাম। ইসলামের এই ত্রাণকর্তা ও মহান ইমাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সত্যের জন্য চরম আত্মত্যাগের চির-উজ্জ্বল, চির-সুন্দর এবং প্রেমময় দৃষ্টান্ত। আত্মত্যাগের ইতিহাসে তিনি কালোত্তীর্ণ ও চিরসবুজ প্রতীক। মুক্তিকামী মানুষের নয়নমনি ও নিপীড়িত মানুষের ধ্যানের ছবি ইমাম হোসাইন (আঃ) ধর্ম, মানবিকতা, বিবেক, মনুষ্যত্ব, মর্যাদাবোধ এবং যুক্তি, সত্য, মহত্ত্ব ও সর্বপরি খোদা-প্রেমের সবগুলো মানদন্ডে মানবজাতি ও মানবইতিহাসের নজিরবিহীন মডেল। প্রায় ১৪০০ বছর আগে সত্যের পক্ষে মৃত্যুবরণ করে তিনি শুধু ইসলাম ধর্মেরই নয় একইসাথে মানবজাতির মর্যাদা রক্ষা করেছেন। তিনি শিখিয়ে গেছেন মুক্তির এই মহামন্ত্র যে,
"যতদিন থাকবে ধরায় আত্মদান
অত্যাচারীর খড়গ-কৃপানে মানবতা হারাবে না সম্মান
জেগে ওঠে ইসলাম পুণরায়
জগতের প্রতিটি কারবালায়।"

সত্যের পক্ষে আত্মদান যে বৃথা যায় না, বরং তা যে সমাজের ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসা তাগুতি শক্তিকে নির্মূল করার এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা জুলুম, অত্যাচার, দুর্নীতি, অবিচার, ভীরুতা, আপোসকামীতাসহ সমস্ত পাপ-পংকিলতার মূলোৎপাটনের মহৌষধ তারই প্রমাণ আশুরার এই মহাবিপ্লব। শাহাদতে যে গোটা সমাজকে মুক্তিপাগল ও বিশুদ্ধ-আদর্শকামী করে তোলার মোক্ষমতম পন্থা মানুষের অন্তরের অন্তস্থলে অক্ষয় আসনের অধিকারী ইমাম হোসাইন সহ তাঁর প্রকৃত অনুসারীরা তা যুগে যুগে প্রমাণ করেছেন। তারা দেখিয়ে গেছেন শাহাদতেই রয়েছে প্রকৃত জীবন তথা মর্যাদার জীবন, আর অন্যায়ের সাথে আপোস করে বেঁচে থাকার মধ্যে রয়েছে বঞ্চনা ও অবমাননার দুঃসহ গ্লানি। শাহাদতের চির-অম্লান আইকন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন কবির এই অমর বাণীঃ

জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনই জানি
শহীদী রক্ত হেসে ওঠে যবে জিন্দেগানী।&lt;/div&gt;
&lt;div&gt;
ইসলামের মহান খেলাফত ও ইসলামের অস্তিত্ব যখন মুসলিম নামধারী জালেম এবং তাগুতি শক্তির হাতে পুরোপুরি বিলুপ্তির সম্মুখীন ইসলাম ও মানবতার সেই মহাদূর্দিনে নিজ আন্দোলনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আশুরা বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বলেছিলেন, " তোমরা কি দেখছো না সত্যের বা ন্যায়ের পক্ষে কাজ করা হচ্ছে না এবং কেউই অন্যায়ের বিরোধিতা করছে না? এ অবস্থায় এমন লাঞ্ছনার জীবনের চেয়ে একজন বিশ্বাসী বা মুমিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর সাথে মিলন তথা শাহাদতই বেশী কাম্য। "

ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্ম প্রচারের অন্যতম প্রধান অগ্রদূত ও বিশিষ্ট ইরানী সূফী সাধক হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (রঃ) হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ)'র কালজয়ী বিপ্লবের প্রশংসা করে বলেছেন, হোসাইনই ধর্ম এবং ধর্মের রক্ষাকর্তা, তিনিই লা-ইল্লাল্লাহর ভিত্তি বা বুনিয়াদ রক্ষাকারী, শির দিয়েছেন, তবুও ইয়াজিদের হাতে হাত দেন নি বা ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করেন নি।

শাহাদত জীবনকে দেয় অপার মহিমা। এ কারণেই পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, যাঁরা আল্লাহর পথে শহীদ তাঁদের মৃত বলো না। শহীদ অধ্যাপক আয়াতুল্লাহ মূর্তাজা মোতাহহারী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, শহীদের উপমা হচ্ছে এমন এক প্রদীপের মত যে নিজেকে পুড়িয়ে অন্যদেরকে আলো দেয় বা পথ দেখায়।
কারবালায় উৎসর্গীকৃত ও নিবেদিতপ্রাণ সঙ্গীদের শাহাদতের দৃশ্য দেখে শাহাদত-প্রিয় ইমাম হোসাইন (রাঃ) বলেছিলেন, "হে আমার মাবুদ! হে আমার প্রভু! তোমার আনুগত্য ও ভালবাসার পথে সত্তুর হাজার বার নিহত ও জীবন্ত হতে আগ্রহী, বিশেষ করে যদি আমার প্রাণদান তোমার ধর্মকে সহায়তা করে এবং তোমার বিধান ও শরীয়তকে জীবিত করে। "

হ্যাঁ, ইসলামের সংস্কৃতিতে এ ধরনের শাহাদত মহান আল্লাহর সান্নিধ্যের ও পরিপূর্ণতার চরম শিখর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাসী ও আস্থাশীল হযরত ইমাম হোসাইন (রা)'এর শাহাদতের মুহূর্ত যতই ঘনিয়ে আসছিল ততই তাঁর নূরানী চেহারা আনন্দে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছিল। ইমামের তরুণ পুত্র শহীদ আলী আকবর বলেছিলেন, আমরা যেহেতু সত্যের পথে আছি, শাহাদত আমার কাছে মধুর চেয়েও বেশী প্রিয়।

আশুরা-বিপ্লব বা শাহাদতের সংস্কৃতিতে উজ্জ্বীবিত হয়েই বিংশ শতকে বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ও পরাশক্তির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ইরানের মুসলিম জাতি মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)'র নেতৃত্বে সংঘটিত করেছে ইসলামী বিপ্লব। শাহাদত-পাগল ইরানী জাতির কাছে দুই পরাশক্তির সমর্থনপুষ্ট সাদ্দামের সমাজতান্ত্রিক বাহিনী নাস্তানাবুদ হয়েছে। একই আদর্শে উজ্জ্বীবিত লেবাননের হিজবুল্লাহ ও গণপ্রতিরোধ বাহিনী দখলদার ইসরাইলের অপরাজেয় থাকার দর্প চূর্ণ করেছে।

কারবালার ময়দান ছিল ঈমান ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষার পাশাপাশি মানবতাবোধ, মানবাধিকার এবং বিবেক ও মনুষ্যত্ব রক্ষার এক বড় পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় কুফার অধিকাংশ জনগণ ব্যর্থ হয়েছিল, ব্যর্থ হয়েছিল মুসলিম উম্মাহর এক বিশাল অংশ। মুসলিম নামধারী ইয়াজিদ ও ইবনে-জিয়াদ চক্র ফোরাতের পানি থেকে ইমাম পরিবার এবং তার সঙ্গী-সাথীদের বঞ্চিত করে পাশবিকতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল। ইমাম হোসাইন (রা)পানির পিপাসায় কাতর মৃতপ্রায় ৬ মাসের নিষ্পাপ শিশু হযরত আলী আসগরের জন্য পানি প্রার্থনা করলে ইয়াজিদের অনুগত সেনারা এই শিশুর গলায় তীর নিক্ষেপ করে তাঁকে শাহাদতের অমিয় সুধা পান করতে বাধ্য করে। অথচ ইমাম হোসাইন (রা) তার বিরুদ্ধে লড়তে আসা শত্রু সেনারা যাতে পানির অভাবে কষ্ট না পায় সে জন্য কারবালায় আসার পর পরই তিনি পানি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। ইয়াজিদী শাসকগোষ্ঠী ও তার অনুসারীদের ধর্মবোধ তো দূরের কথা মানবতাবোধ বা মনুষ্যত্ববোধও ছিল না।

আজ আমরা একই ধরনের চিত্র দেখছি ফিলিস্তিনের গাজায়। প্রায় দুই বছর ধরে গাজার অধিবাসীরা ইসরাইলী অবরোধের ফলে জ্বালানী, খাদ্য ও ওষুধসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাবে ধুকে ধুকে মরছে। অথচ মানবাধিকারের ও কথিত গণতন্ত্রের সমর্থক পশ্চিমা সরকারগুলো এ ব্যাপারে নীরব থেকে দখলদার ইসরাইলকে উৎসাহ যুগিয়ে আসছে। শুধু অবরোধেই ক্ষান্ত হয়নি মানবতার শত্রু ইসরাইল ও তার দোসরারা। গণতান্ত্রিকভাবে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনে বিজয়ী ইসলামপন্থী হামাস সরকারকে সমর্থনের কারণে গাজা ও পশ্চিম তীরে হামাসের সমর্থক ফিলিস্তিনীদের ওপর সন্ত্রাসী হত্যা অভিযানও চালিয়ে আসছে বর্তমান যুগের এই ইয়াজিদী গোষ্ঠী। আর এসব হামলার জবাবে অসম শক্তির অধিকারী হামাস মাঝে মধ্যে দখলদার ইহুদিবাদীদের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর সাধারণ মর্টার ও রকেট নিক্ষেপ করায় হামাসের আত্মরক্ষার এই শক্তিটুকুকেও নির্মূল করার জন্য আজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেখানে পাইকারীভাবে শক্তিশালী ও এমনকি ইউরেনিয়ামযুক্ত বোমা বর্ষণ করে নারী ও শিশুসহ শত শত বেসামরিক ফিলিস্তিনীকে শহীদ করেছ ইসরাইলী হায়েনার দল। দুঃখজনক ব্যাপার হলো সেইযুগের ইয়াজিদের সহযোগী ইবনে জিয়াদ, শিমার ও ওমর সাদের মত কোনো কোনো আরব সরকার ইসরাইলের এ গণহত্যায় গোপনে শরীক বা সহযোগী হয়েছে।
গাজার মসজিদ, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিশুদের স্কুলগুলোও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত স্মার্ট বোমার ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। কিন্তু যারা আশুরার শাহাদতের সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে এমন জাতির জাগরণকে এটম বোমা মেরেও স্তব্ধ করতে পারবে না পশু শক্তি। আধুনিক সভ্যতার যুগেও বিবেক-বিসর্জিত যে শক্তি হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা মেরে দেশটিকে নতজানু করতে পেরেছে, সেই শক্তি আজ শাহাদতের চেতনায় উজ্জ্বীবীত ইরাকী ও আফগান জাতির কাছেও পরাজয়ের সম্মুখীন। কারবালার বীর শহীদানের মতো গাজার শহীদানরাও আজ আঁজলা ভরে প্রাণের সঞ্চার করছে মসলিম উম্মাহর শিরা-উপশিরা ও ধমনীতে। তাই ইমাম হোসাইন (রা)'র আদর্শের অনুসারীরা আজ শুধু কথায় নয় কাজের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সবক্ষেত্রে কুফুরি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং মুসলমানদের প্রথম কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাস দখলদারদের বিরুদ্ধে এ ধরনের লড়াইয়ে অংশ নিলেই বিশ্বনবী (সাঃ) ও ইমাম হোসাইন (আঃ)'র পবিত্র আত্মা প্রশান্তি পাবেন। মহান আল্লাহই পবিত্র কোরআনে বলেছেন, তোমরা হীনবল হয়োনা, ভীত হয়ো না, তোমরাই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করবে, যদি তোমরা মুমিন হও।

হ্যা, ইমাম হোসাইন (আঃ)'র রক্ত যেমন তরবারীর ওপর বিজয়ী হয়েছিল তেমনি আল্লাহর শক্তিতে পূর্ণ বিশ্বাসী গাজার বীর মুজাহিদ এবং অসহায় নারী ও শিশুদের রক্তও এ যুগের ইয়াজিদ, চেঙ্গিজ ও হালাকু খাঁর মত পশুশক্তির ওপর বিজয়ী হবে। এ বিজয় কেবলই সময়ের ব্যাপার। কারণ, গাজার তরুণ শিশুসহ সেখানকার সবার মুখে মুখে এখন এ শ্লোগান ধ্বনিত হচ্ছে - হাসবুন আল্লাহু ওয়ানেয়ামাল ওয়াক্বীল- আমাদের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর অভিভাবকত্বই যথেষ্ট।
বিবেক মানুষের ফিতরাত বা প্রকৃতির অংশ। বিবেকের দংশনে কারবালার নরঘাতকদের কেউ কেউ পাগল হয়ে গিয়েছিল, পাগল হয়েছিল হিরোসীমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে দুই লক্ষেরও বেশী মানুষ হত্যাকারী মার্কিন বৈমানিক। ইসরাইলের সহযোগী আরব ও পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা কি তাহলে মানুষ নন? #&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-8793493611693352677?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/8793493611693352677/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=8793493611693352677' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8793493611693352677'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/8793493611693352677'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2009/01/blog-post.html' title='গাজা  ও কারবালার শাহাদতের সংস্কৃতি'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SV6Mz1E-bnI/AAAAAAAAADo/1c-A9pIYJZI/s72-c/7.bmp' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-6003534049234588769</id><published>2008-09-03T08:09:00.000-07:00</published><updated>2008-09-03T08:11:16.311-07:00</updated><title type='text'>পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্রে ত্রাণকর্তার ধারণা ও দৃশ্য</title><content type='html'>&lt;a href="http://www.yggdrasilfilms.com/BirthNation.jpg"&gt;&lt;img style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 246px; CURSOR: hand" height="389" alt="" src="http://www.yggdrasilfilms.com/BirthNation.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt; চিন্তাবিদ ও দার্শনিকরা প্রাচীন যুগ থেকেই আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছেন। যেমন, প্লেটো তার কল্পিত ইউটোপিয়ায়, ফারাবী তার সূর্যের নগরে, টমাস ম্যুর তার কল্পিত পৃথিবীর স্বর্গে আদর্শ সমাজ বা দেশ গড়ার স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। খোদায়ী ধর্মগুলোও মানুষকে ধ্বংস, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি দানকারী সর্বশেষ ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের সুসংসবাদ সব সময়ই দিয়ে এসেছে। সর্বশেষ ত্রাণকর্তার শাসন ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, সবার মধ্যে উচ্চ শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়া, ন্যায় বিচার, নিরাপত্তা, শান্তি এবং সবার জন্য সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু কথা হলো এই সর্বশেষ ত্রাণকর্তার আবির্ভাব কবে, কোথায় ও কিভাবে হবে এবং কবে এই ইউটোপিয়া বা কল্পনা বাস্তবায়িত হবে? সর্বশেষ ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের যুগকে শেষ জামানা বা এপোক্যালিপসি বলা হয়। অবশ্য প্রত্যেক ধর্ম ও সম্প্রদায় ইতিহাসের শেষ অংশকে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে চিত্রিত করে আসছে। এসব বর্ণনার অধিকাংশের মধ্যেই অক্ষ শক্তি বা অসত্যের পক্ষের শক্তিগুলোর সাথে সর্বশেষ ত্রাণকর্তার অনুগত বাহিনীর রক্তাক্ত ও ভয়াবহ যুদ্ধ ঘটার এবং এসব ত্রাণকর্তার অনুগত বাহিনীর বিজয়ী হবার কথা বলা হয়েছে।
&lt;div align="justify"&gt;
সর্বশেষ ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের সময়ে সত্য ও মিথ্যার পক্ষের শক্তিগুলোর লড়াইয়ে সত্যের শক্তির তথা সর্বশেষ ত্রাণকর্তার বিজয়ের বিষয়টি বিভিন্ন উপন্যাস, গল্প বা চলচ্চিত্র তৈরির মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। এমনকি ত্রাণকর্তাকে আদর্শ বা নায়ক হিসেবে ধরে নিয়ে শিশুদের জন্যেও অনেক গল্প ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি ও বিশেষ করে হলিউড অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। ভবিষ্যতের ব্যাপারে মানুষের জানার আগ্রহকে ব্যবহার করে চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ উপার্জন এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। আর এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্য উদ্দেশ্য হলো শেষ জামানা ও ত্রাণকর্তা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের এবং ইহুদিবাদী মহলের চিন্তাধারা প্রচার করা। চলচ্চিত্রের ইতিহাসের প্রথম দিকের কিছু ছায়াছবিসহ বিভিন্ন সময়ের এবং সাম্প্রতিক সময়েরও অনেক পশ্চিমা চলচ্চিত্র এ উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়েছে। ১৯১৫ সালে নির্মিত বার্থ অফ এ নেশন বা একটি জাতির জন্ম এমনই এক ছায়াছবি। ইহুদি ধর্মের বিকৃত হয়ে-যাওয়া চিন্তাধারা বা ইহুদিবাদী চিন্তা-ভাবনা এ ছায়াছবিতে ভরপুর। ছায়াছবিটির পরিচালক গ্রিফিথের বর্ণবাদী চিন্তাভাবনা এবং অ-ইহুদিদের প্রতি তার গভীর বিদ্বেষ এ ছায়াছবির গোটা পরিবেশকে কলুষিত করে রেখেছে। &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
এর পরের বছরগুলোতে ফিলিস্তিনে ইসরাইল নামের একটি অবৈধ ও দখলদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন যোগানোর জন্য পাশ্চাত্যে অনেক ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে। হযরত মূসা (আঃ)'র টেন কমান্ডম্যান্টস বা দশ নির্দেশমালা ও বেনহুর নামের ছায়াছবিগুলো এ জন্যই তৈরি ও বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হয়। চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট সমালোচক ও বিশেষজ্ঞ এরিক রড এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এ ছায়াছবিগুলো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অনুসারে নির্মিত হয়েছে বলে বলা যায় না। ছবিগুলোর পরিচালক ঘটনার ক্ষেত্রে এতটাই হস্তক্ষেপ করেছেন যে, পরিচালক নিজেই খ্রিস্টানদের প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে এসব ছায়াছবি তৈরির কথা স্বীকার করেছেন।

গত কয়েক দশকে টফলার, হাংটিনটন ও ফুকোইয়ামার মতো আধিপত্যকামী মার্কিন চিন্তাবিদ পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় বিতর্কের কলেবরে অনেক সাম্রাজ্যবাদী ধারণা বা মতবাদ প্রচার করেছেন। আর এসব ধারণাও পাশ্চাত্যের অনেক ছায়াছবিতে সূক্ষ্ম কৌশলে প্রচার করা হচ্ছে। অবশ্য এ জন্য প্রধানতঃ ধর্মীয় আচ্ছাদন বা রং ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এসব আচ্ছাদনের ভেতর দিয়েও রাজনৈতিক বক্তব্য স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে।

এ ধরনের একটি ছায়াছবির দৃষ্টান্ত হল, ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে বা স্বাধীনতা দিবস। ১৯৯৬ সালে নির্মিত এ ছায়াছবিতে দেখা যায় একটি মহাশুন্যযান পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে বিভিন্ন কম্পিউটার থেকে খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। একজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ ঐ নভোযান থেকে আসা সিগনালগুলোর অর্থ বুঝতে পেরে নভোযানটিকে মোকাবেলা করার পদ্ধতি শিক্ষা দিতে থাকেন। ফলে নভোযানটি পৃথিবীতে হামলা করলে কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রয়োগ করা কৌশলের মাধ্যমে তাকে পরাস্ত করা হয় এবং নভোযানটি পৃথিবী ছেড়ে পালিয়ে যায়। ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে বা স্বাধীনতা দিবস শীর্ষক এই ছায়াছবিতে মার্কিন ও ইহুদিবাদী নেতাদের অনেক মনোভাব তুলে ধরা হয়েছে এবং ত্রাণকর্তাকে ইহুদি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ছায়াছবিতে পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে আসার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং ইহুদিরা যে এ জন্য খুশী তাও গোপন করা হয় নি।

১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে ম্যাট্রিক্স নামের তিনটি ছায়াছবি নির্মাণ করা হয়। এসব ছায়াছবিতেও ভবিষ্যৎ ত্রাণকর্তার কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছবিগুলোর ঘটনাকে ২২০০ সালের বলে দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সে সময় যন্ত্রদানব মানুষের মগজের ওপর আধিপত্য করবে। এ অবস্থায় নিও নামের একজন নির্বাচিত ব্যক্তিত্ব বা নায়ক ঐসব যন্ত্রদানবকে পরাজিত করে মানবজাতিকে মুক্ত করেন। যায়ন নামের পাহাড়ে গিয়ে (neo) নিও এই মুক্তির ব্যবস্থা নেন। যায়ন বা সাহইয়ুন পাহাড়টি রয়েছে ফিলিস্তিনের বায়তুল মোকাদ্দস শহরে। এভাবে দেখানো হয়েছে যে নতুন বা নিও নামের ত্রাণকর্তা মানুষকে জায়ন পাহাড়ের দিকে পরিচালিত করছেন। ইহুদিবাদীদের কথিত প্রতিশ্রুত-ভূমি বা দখলদার ইসরাইলের প্রতি দর্শকদের মনে ভালো ধারণা সৃষ্টির জন্যই যে এ ধরনের গল্প সাজানো হয়েছে তা স্পষ্ট।

পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্রে ইহুদিবাদ বা বিকৃত ইহুদি চিন্তাধারা তুলে ধরার পাশাপাশি ইসলামী চিন্তাধারা ও মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরও আঘাত হানা হচ্ছে। ইসলাম সম্পর্কে খারাপ ধারণা সৃষ্টির জন্য ইসলামকে বিকৃতভাবে তুলে ধরার এ প্রচেষ্টার একটি নিদর্শন হলো দ্যা ম্যান হু স' টোমোরো বা যে লোকটি ভবিষ্যৎকে দেখেছেন শীর্ষক ছায়াছবি। ষোড়ষ শতকের গণক নস্ট্রাডমাসের ভবিষদ্বাণীর আলোকে নির্মিত হয়েছে এ ছায়াছবি। নস্ট্রাডমাসের ভবিষদ্বাণী শীর্ষক বইয়ের আলোকে মেট্রো গোল্ডেনমায়ার কোম্পানী এই ছায়াছবি নির্মাণ করে ইসলাম ধর্মে উল্লেখিত ভবিষ্যতের ত্রাণকর্তা বা হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে খারাপ ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এ ছায়াছবিতে হযরত ইমাম মাহদী (আঃ)কে পুরোপুরি সত্যের বিপরীতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তাঁর সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাসকে উপহাস করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরানের অধ্যাপক হাসান বুলখারি বলেছেন, হলিউডের ছায়াছবি এখন বেশ জোরালোভাবে শেষ ত্রাণকর্তার ধারণা প্রচার করছে। তারা একদিকে ইসলামের হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কিত ধারণাকে আঘাত করছে বা বিকৃত করছে অন্যদিকে শেষ ত্রাণকর্তা সম্পর্কে নিজের আজগুবি কল্পনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে আমি এ কথা বলছি না, বরং হলিউডের ছায়াছবি বিশ্লেষণ করেই আমার মধ্যে এ ধারণা জন্মেছে। &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
জনাব হাসান বুলখারি আরো বলেছেন, সংকটপীড়িত মানুষ এখন ঐশী বা খোদায়ী সাহায্যের আশা করছে বা ভবিষ্যতের ত্রাণকর্তার জন্য অপেক্ষা করছে। হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) 'র দাওয়াতি কার্যক্রম তুলে ধরা মুসলমানসহ সবারই দায়িত্ব। আর এ জন্য গণমাধ্যম ব্যবহার করা জরুরী। আমি নিশ্চিত যে এ আহ্বান মানুষের মধ্যে সাড়া জাগাবে এবং এভাবে পাশ্চাত্যের প্রচার-যুদ্ধ মোকাবেলা করাও সম্ভব হবে।

মানবজাতি যে শেষ ত্রাণকর্তা তথা হযরত ইমাম মাহদী (আঃ)'র আগমনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার অন্যতম লক্ষণ হলো বিশ্বজয়ী বা অলৌকিক নায়কদের কাহিনীর ব্যাপক জনপ্রিয়তা। দর্শকদের কাছে স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান ও সুপারম্যান জাতীয় নায়ক চরিত্রের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এর প্রমাণ। দ্যা ডার্ক নাইট বা অন্ধকারের বিজয়ী বীর শীর্ষক ছায়াছবি এ ধারারই আরেকটি সংযোজন। রেকর্ড পরিমাণে এ ছায়াছবির কপি বিক্রির ঘটনায় বোঝা যায় মুক্তির জন্য অধীর মানব জাতি বর্তমান যুগের সংকট থেকে রক্ষা পেতে চায়। এটা স্পষ্ট হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) যখন আবির্ভূত হবেন তখন সমস্ত মুক্তি-পাগল মানুষ তাঁকে সাদরে বরণ করে নেবে এবং আলোর অফুরাণ বন্যায় কেটে যাবে জুলুম ও অন্যায়-অবিচারের নিকষ আঁধার। তাই এই মহান ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের পটভূমি তৈরির জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রচার মাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে এবং হযরত ইমাম মাহদী (আঃ)'র পরিচিতি তুলে ধরার জন্যও মুসলমানদেরকে আরো বেশী সক্রিয় হতে হবে।# &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-6003534049234588769?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/6003534049234588769/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=6003534049234588769' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6003534049234588769'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6003534049234588769'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2008/09/blog-post.html' title='পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্রে ত্রাণকর্তার ধারণা ও দৃশ্য'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-9019515033029340427</id><published>2008-08-11T03:03:00.000-07:00</published><updated>2008-08-11T03:05:38.371-07:00</updated><title type='text'>আরব বিশ্বের পানি সম্পদ জবর দখলের ইসরাইলী অপচেষ্টা</title><content type='html'>&lt;a href="http://www.waterfootprint.org/WFP_files/Img/IsraelWaterMap.jpg"&gt;&lt;img style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; CURSOR: hand" alt="" src="http://www.waterfootprint.org/WFP_files/Img/IsraelWaterMap.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt; ইহুদীবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ইহুদীবাদী নেতারা আরব দেশগুলোর পানি সম্পদ দখল ও তা প্রত্যাহার করে ইসরাইলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এ কারণে আরব দেশগুলো বিশেষ করে ফিলিস্তিনী জনগণ ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের পানি সম্পদ বিভাগের প্রধান ফজল কাউশ এ সম্পর্কে বলেছেন, ইসরাইলীরা জর্দান নদীর শতকরা ৪৫ ভাগ পানি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ফজল কাউশ আরো বলেছেন, জর্দান নদীর ৮৫ কোটি কিউসেক পানির মধ্যে ফিলিস্তিনীরা মাত্র ৮ কোটি ৫০ লাখ কিউসেক পানি ব্যবহার করতে পারছে। ইহুদীবাদী ইসরাইল ঐ নদীর বাকি পানি বাঁধ দিয়ে প্রত্যাহার করে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গাজা উপত্যকার ওপর ইসরাইলী দখলদারিত্বের সময় তেলআবিব গাজা থেকেও বেশীর ভাগ পানি চুরি করে নিয়ে যেত। গাজার পানি সম্পদের পরিমাণ বছরে ২০ কোটি কিউসেক বলে ধরা হয়। তবে গাজা থেকে ইসরাইলী সেনা প্রত্যাহার করার পর ইহুদীবাদীরা ঐ উপত্যকার পানিসম্পদ আর চুরি করতে পারছে না। কিন্তু ইহুদীবাদী ইসরাইল কর্তৃক জর্দান নদীর পানি প্রত্যাহার অব্যাহত রয়েছে।

সিরিয়া ও জর্দানের ভেতর দিয়ে বয়ে আসা নদী ইয়ারমুক থেকেও ইসরাইল বছরে ১০ কোটি কিউসেক পানি সরিয়ে নিচ্ছে। দক্ষিণ লেবানন যখন ইসরাইলের দখলে ছিল, তখন সেখানকার তিনটি নদীর পানি ইহুদীবাদীরা চুরি করতো এবং এর পরিমাণ ছিল ৭০ কোটি কিউসেক। কিন্তু হিযবুল্লাহর তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে ২০০০ সালে ইহুদীবাদী সরকার দক্ষিণ লেবানন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু তারপরও তারা লেবাননের পানি চুরি করা বন্ধ রাখে নি। তারা খাল খনন ও পাইপ লাইন স্থাপনের মাধ্যমে লেবাননের পানি ইসরাইলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। গোলান মালভূমি দখল করে ইহুদীবাদীরা সিরিয়ার ৬০ কোটি কিউসেক পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

এদিকে ইসরাইলের বার্ষিক পানির চাহিদা ২০০০ সালে ছিল ২৩০ কোটি কিউসেক, যা ২০২০ সালে ৩১০ কোটি কিউসেকে গিয়ে দাঁড়াবে। কাজেই ইসরাইলের পানি চাহিদার এ হিসাব থেকে বোঝা যায়, অবৈধ ঐ রাষ্ট্রটি তার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটানোর জন্য আগামী দিনগুলোতে আরব দেশগুলোর আরো বেশী পানির উৎস দখলের চেষ্টা করবে। তার তা করতে গেলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়বে। বর্তমানে ইসরাইল তুরস্কের বিভিন্ন নদী এবং মিশরের নীল নদ থেকে পানি আনার পরিকল্পনা মাথায় রেখেছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ইহুদীবাদী ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে তার আগ্রাসী নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আরব দেশগুলোর পানিসম্পদ কূক্ষিগত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সিরিয়া, লেবানন ও জর্দানের পানি সম্পদের ওপর তেলআবিবের লোলুপ দৃষ্টি সব সময়ই ছিল। কথিত শান্তি আলোচনার মাধ্যমে যদি এসব পানির উৎসের নাগাল পাওয়া যায় তো ভালো, তা না হলে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের মাধ্যমে এগুলো দখল করা ছিল ইসরাইলের অন্যতম নীতি। নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত ইসরাইলের সীমানা বিস্তৃত করার যে ধৃষ্ঠতাপূর্ণ ঘোষণা ইহুদীবাদী নেতারা দিয়েছিল, তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আরব দেশগুলোর পানি সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ভৌগোলিক সীমানা বৃদ্ধি করার জন্য নয়, সেই সাথে আরব দেশগুলোর পানি সম্পদের ওপরও জবর দখল প্রতিষ্ঠা করা ছিল নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত ইসরাইলের সীমানা বৃদ্ধি করা সংক্রান্ত ঘোষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

ওয়ার্ল্ড ওয়াটার রিসার্স সেন্টারের অন্যতম গবেষক রোস্টভা এ সম্পর্কে বলেছেন, ইসরাইল তার পতাকায় সাদা ভূমির ওপর যে নীল রংয়ের তারকা চিহ্ণ এঁকেছে, তার মধ্যেও আরবদের পানি সম্পদ কূক্ষিগত করার বাসনা লুকিয়ে আছে। ঐ নীল রংয়ের দাগগুলো হচ্ছে নীল ও ফোরাত নদীর কাল্পনিক প্রতীক। ইহুদীবাদী নেতাদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ওয়াটার রিসার্স সেন্টারের ঐ গবেষকের কথার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইহুদীবাদী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা থিওডর হার্তযেল যখন মধ্যপ্রাচ্যের বুকে একটি বৃহৎ ইসরাইল রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল, তখন অন্য সব কিছুর আগে সে কল্পিত ঐ রাষ্ট্রের পানি চাহিদা কীভাবে মেটানো হবে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেছিল। হার্তযেল ১৮৮৬ সালে নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত বিস্তৃত ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছিল, ভবিষ্যতে যারা ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করবে তাদের নেতৃত্বে থাকবে পানি বিষয়ক কিছু বিশেষজ্ঞ। ঐ ইহুদীবাদী নেতা ১৮৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাল শহরের বিখ্যাত সম্মেলনে বলেছিল, ইসরাইলের সীমান্ত আগামী ৫০ বছর নাগাদ উত্তর লিথুনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

&lt;div align="justify"&gt;ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বিন গোরিওন ১৯৫৫ সালে ইসরাইলের পানির উৎস সম্পর্কে বলেছিল, বর্তমানে ইসরাইল- পানি সম্পদের উৎস দখল করার জন্য আরবদের সাথে যুদ্ধ করছে। কাজেই এ যুদ্ধের ফলাফলের ওপর ইসরাইলের ভবিষ্যত অস্তিত্ব সরাসরি নির্ভরশীল। বিন গোরিওন আরো বলেছিল, আরবদের সাথে ঐ যুদ্ধে পরাজিত হলে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইসরাইলের আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না। ইসরাইলের একজন বিখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়েবেন এ সম্পর্কে বলেছেন, ইহুদীবাদী ইসরাইলের দৃষ্টিতে মধ্যপ্রাচ্যে সেদিনই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, যেদিন আরব দেশগুলোর সকল পানি সম্পদের ওপর তেলআবিবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-9019515033029340427?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/9019515033029340427/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=9019515033029340427' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/9019515033029340427'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/9019515033029340427'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2008/08/blog-post.html' title='আরব বিশ্বের পানি সম্পদ জবর দখলের ইসরাইলী অপচেষ্টা'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-6485637025373956523</id><published>2008-07-30T02:19:00.000-07:00</published><updated>2008-07-30T02:21:49.429-07:00</updated><title type='text'>হিজবুল্লাহর বিজয়ের নেপথ্যে-২</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SJAyhgoO_OI/AAAAAAAAAC0/gZ79C6x3GNc/s1600-h/nasrullah.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5228734718652906722" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" height="187" alt="" src="http://3.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SJAyhgoO_OI/AAAAAAAAAC0/gZ79C6x3GNc/s320/nasrullah.jpg" width="176" border="0" /&gt;&lt;/a&gt; গত ১৬ জুলাই ছিল লেবাননের জনগণ ও সেদেশের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে আরেকটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় দিন। সেদিন ইসরাইল লেবাননী শহীদ ও বন্দীদেরকে ফেরত দিয়েছিল। পক্ষান্তরে লেবানন ইসরাইলের ২ মৃত সেনার লাশ ইসরাইলকে ফেরত দিয়েছে। বন্দী বিনিময়ের এই ঘটনাকে লেবাননের হিযবুল্লাহর ঐতিহাসিক বিজয় বলে মন্তব্য করেছে স্বয়ং অধিকৃত ফিলিস্তিনের দৈনিক ইয়াদিউত অহরুনুত।
&lt;div align="justify"&gt;
সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর নেতৃত্বে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধের সাম্প্রতিক বিজয়ের বিভিন্ন দিক রয়েছে।ইসরাইল সবসময়ই নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের পটুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা বলে এবং ফিলিস্তিনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বকে হত্যা করার ক্ষেত্রে তাদেরকে কাজে লাগায়। কিন্তু বন্দী বিনিময় এবং লেবাননী শহীদদের লাশ ফেরত দেওয়ার ঘটনায় ইসরাইলী এই গোয়েন্দা বিভাগ মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কেননা লেবাননের হিযবুল্লাহর কাছে ইসরাইলীদের যে দুই সেনা ছিল,তারা যে যুদ্ধ চলাকালে আহত হবার পর মারা গিয়েছিল সেই তথ্য তাদের জানা ছিল না। তারা ভেবেছিল তাদের ঐ ২ সেনা জীবিত আছে। &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;অপরদিকে ইসরাইল বাধ্য হয়েছে তাদের ২ সেনাকে ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে ৫ জন বন্দী এবং লেবাননী-অলেবাননী ২০০টি লাশ হিযবুল্লাহর হাতে বুঝিয়ে দিতে। এ কারণে তেলাবিবের অনেক কর্মকর্তা বন্দী বিনিময়ের দিনটিকে ইসরাইলের ইতিহাসে একটি কালো দিবস বলে উল্লেখ করেছে। ইসরাইলের যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন-'বন্দী বিনিময় ইসরাইলের দুর্বলতাকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।' তিনি তাই ইসরাইলী গণমাধ্যমগুলোকে বলেছেন বন্দী বিনিময়ের খবরটিকে যেন ফলাও করে না ছাপে। এ সম্পর্কে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টও লিখেছে ইসরাইলের এই পরাজয়ের ঘটনা বিশ্বব্যাপী এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরেও তাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে। বিশ্বের আরো বহু দৈনিকও ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেবাননের হিযবুল্লাহর ঐতিহাসিক বিজয়কে ফলাও করে তুলে ধরেছে। কোনো কোনো পত্রিকা এটাকে লেবানননের জাতীয় বিজয় বলেও মন্তব্য করেছে।&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;জাতিসংঘের মহাসচিব বান-কি মুন এবং বিশ্বের বহু দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেবাননের এই বিজয়ে সেদেশের জনগণ ও প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দিত করেছে। এই বিজয়ের ফলে আরো যে বিশাল সাফল্য অর্জিত হয়েছে তাহলো,লেবাননের অভ্যন্তরে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি হয়েছে।হিযবুল্লাহর উপমহাসচিব শায়েখ নাঈম কাসেম দৈনিক আল-আরাবকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন-'বন্দী বিনিময়ের ঘটনা একদিকে যেমন লেবাননের জনগণের মাঝে ঐক্য ও সংহতির বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে,তেমনি এর ফলে বন্দীদেরকে মুক্ত করার ব্যাপারে লেবাননী জনগণ ও সরকার যে আন্তরিক তা-ও প্রমাণিত হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাটি লেবাননের অভ্যন্তরে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।' &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;বন্দী বিনিময়ের ফলে আরো যে বিষয়টি হিযবুল্লাহর জন্যে ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে তাহলো,এর ফলে প্রমাণিত হলো যে হিযবুল্লাহ তাদের সেনাদের ব্যাপারে এমনকি শহীদদের লাশের ব্যাপারেও ভীষণ আন্তরিক ও দায়িত্বশীল।তারা যে মানবিক বিষয়গুলোর কথা ভুলে যায় না-এরফলে তাও প্রমাণিত হলো। শহীদদের লাশ ফিরে পেয়ে শহীদ পরিবারের লোকজন ভীষণ খুশি হয়েছে। তারচেয়েও বেশি খুশি হয়েছে সেইসব পরিবার যারা বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করার পর বন্দীদেরকে তাদের মাঝে জীবিতাবস্থায় পুনরায় ফিরে পেয়েছে। যারা শহীদ হয়েছে কিংবা বন্দী ছিল,তাদের মাঝে হিযবুল্লাহর বাইরেও অন্যান্য দলের সদস্য ছিল। &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;এ থেকে বোঝা যায় যে হিযবুল্লাহ কেবল স্বার্থপরের মতো নিজেদের শহীদদের ব্যাপারেই তৎপরতা চালায় নি বরং তারা দল-মত নির্বিশেষে পরিপূর্ণ ইসলামী মানবিক আচরণ করে সকল বন্দীর জন্যেই সমানভাবে চেষ্টা চালিয়েছে। সামির কান্তারের মুক্তিই তার প্রমাণ। কেননা সামির কান্তার ৩০ বছর আগে অর্থাৎ হিযবুল্লাহ নামক সংগঠনটি গঠিত হবারও আগে ইসরাইলীদের হাতে বন্দী হয়েছিল। তাকে মুক্ত করার জন্যে হিযবুল্লাহ যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে,সেই প্রচেষ্টার ফলে সামির কান্তার এতো বেশি প্রভাবিত হয়েছে যে,সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে তিনি তাঁর নেতা এবং শিক্ষক বলে মন্তব্য করতেও কুণ্ঠিত হন নি। তিনি বলেছেন-তাঁর ভাষায়-'গতকাল পর্যন্ত শত্রুদের হাতে বন্দী ছিলাম,কিন্তু আজ থেকে আরো বেশি উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো।'&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;মজার ব্যাপার হলো,হিযবুল্লাহ অন্যান্য দেশের বন্দীদের মুক্তির জন্যেও বিশেষ করে ফিলিস্তিনী বন্দীদের মুক্তির ব্যাপারেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে হিযবুল্লাহ নেতা জনাব হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, 'বন্দী বিনিময়ের ক্ষেত্রে ইসরাইলীদের হাতে বন্দী ফিলিস্তিনীদের মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্যেও আমরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলাম। জাতিসংঘকে লেখা আমাদের চিঠিপত্রগুলোতে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিধৃত আছে।' লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহ,আরব লীগকেও অনুরোধ করেছে,তারা যেন ইসরাইলীদের কারাগারে বন্দী আরব ও ফিলিস্তিনীদের মুক্তি দেওয়ার জন্যে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানায়।&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;ইসরাইলী কারাগার থেকে মুক্ত বন্দীদের অভ্যর্থনা জানানোর অনুষ্ঠানে হিযবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন-'সকল প্রতিরোধ আন্দোলন এবং এ অঞ্চলকে জুলুম নির্যাতন থেকে মুক্ত করার জন্যে যারাই চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,তাদের পরিচয়, তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আসলে এক এবং অভিন্ন,তাহলো-দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা'।লেবাননের জনগণ অত্যন্ত সচেতনতা এবং বিচক্ষণতার সাথে এই প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। এই সংগ্রামের মাধ্যমেই হিযবুল্লাহ ইসরাইলকে পতনের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করেছে। জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়ে অত্যাচারীদেরকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করা এবং নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন ইরাক কিংবা ফিলিস্তিনের মতো দখলদারদের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশগুলোর জন্যে সফলতার এক অনন্য আদর্শ ও নিদর্শন। # &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-6485637025373956523?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/6485637025373956523/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=6485637025373956523' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6485637025373956523'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6485637025373956523'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2008/07/blog-post_30.html' title='হিজবুল্লাহর বিজয়ের নেপথ্যে-২'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SJAyhgoO_OI/AAAAAAAAAC0/gZ79C6x3GNc/s72-c/nasrullah.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-2101832058103738259</id><published>2008-07-24T02:21:00.000-07:00</published><updated>2008-07-24T02:24:54.590-07:00</updated><title type='text'>হিযবুল্লাহর বিজয়ের নেপথ্যে-১</title><content type='html'>&lt;p align="justify"&gt;&lt;a href="http://laconscience.nuxit.net/site/images/sayyed_hassan.JPG"&gt;&lt;img style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 320px; CURSOR: hand" alt="" src="http://laconscience.nuxit.net/site/images/sayyed_hassan.JPG" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/p&gt;&lt;p align="justify"&gt;গত ১৬ জুলাই ছিল লেবাননের জনগণ ও সেদেশের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে আরেকটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় দিন। লেবাননের হিযবুল্লাহ জার্মান সরকারের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সাথে পরোক্ষভাবে দীর্ঘ আলোচনার পর তাঁদের ৫ জন বন্দী এবং অন্তত ২০০ শহীদের লাশ দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে। পক্ষান্তরে হিযবুল্লাহ ইসরাইলী ২ সেনার লাশ অধিকৃত ফিলিস্তিনে ফেরত পাঠিয়েছে। ইসরাইল ভেবেছিলো তাদের ঐ সেনা জীবিত আছে।এর মধ্য দিয়ে বিগত ৮ বছরে ইসরাইলের মোকাবেলায় হিযবুল্লাহর তৃতীয় বিজয় অর্জিত হলো। এরফলে ইসলামী গণআন্দোলন হিযবুল্লাহ ইসরাইলের সামনে তাদের শক্তিমত্তাই প্রমাণ করলো।

হিযবুল্লাহ তাদের এই অভিযানকে ক'মাস আগে সিরিয়ায় ইসরাইলী গোয়েন্দাদের হাতে শহীদ ইমাদ মুগনিয়ার নামে নামকরণ করেছে। মুগনিয়া হাজ্জ্ব রেজোয়ান নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। সেজন্যে এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে রেজোয়ান অভিযান। যাই হোক হিযবুল্লাহর এই মহান অর্জনকে নিয়ে আমরা আরো কিছু কথা বলার চেষ্টা করবো।

ইসরাইলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেবাননের সাথে বন্দী বিনিময়ের দিনটিকে তাদের দেশের জন্যে শোক দিবস বলে মন্তব্য করেছেন।ইসরাইলী দৈনিক ইয়াদিউত অহরুনুত এ সম্পর্কে লিখেছে, 'ইসরাইলীরা বেদনার অশ্রু ঝরাচ্ছে আর লেবাননীরা ঝরাচ্ছে গর্ব ও আনন্দের অশ্রু।' ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে সংগ্রাম চালাবার পর ২০০০ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো ইসরাইলী সেনাদেরকে দক্ষিণ লেবানন থেকে তাড়াতে সক্ষম হয়। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে ইসরাইলী সেনারা হিযবুল্লাহকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় লেবাননের ওপর হামলা চালায়। কিন্তু ৩৩ দিন যুদ্ধ করার পর লেবাননের জনগণ এবং হিযবুল্লাহর পর্বত কঠিন প্রতিরোধের মুখে ইসরাইল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয় এবং তাদের নৃশংস হামলা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেবাননের হিযবুল্লাহর তৃতীয় বিজয় অর্জিত হয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহর শহীদদের লাশ এবং বন্দীদের ফেরত আনার মাধ্যমে। বিগত কয়েক মাস ইসরাইলের সাথে আলোচনাকালে তারা লেবাননী বন্দী ও শহীদদের লাশ ফেরত দিতে অস্বীকার করে আসছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হিযবুল্লাহর চাপের মুখে তারা কেবল লেবাননী শহীদদের লাশ এবং বন্দীদেরকেই ফেরত দিতে বাধ্য হয় নি বরং বন্দী বিনিময়ের পূর্ব মহূর্ত পর্যন্ত তারা জানতেও পারে নি যে তাদের ঐ দুই সৈন্য যুদ্ধে নিহত হয়েছে।

হিযবুল্লাহর বিজয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি সামনে আসে তাহলো অন্যান্য আরব দেশ সুসজ্জিত সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত এ ধরণের বিজয় অর্জন করতে পারলো না! ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিযবুল্লাহর বিজয়ের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো,হিযবুল্লাহর মুমিন সংগ্রামীদের আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও নির্ভরতা এবং তাদের মুজাহিদদের প্রতি আল্লাহর সাহায্য। এ কারণেই হিযবুল্লাহর পতাকায় কোরআনের একটি শ্লোগান নজরে পড়বে। শ্লোগানটি হলো ‌'জেনে রাখো, নিঃসন্দেহে হিযবুল্লাহ বিজয়ী।'

এছাড়াও হিযবুল্লাহ তার প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখিয়ে দিয়েছে যে,তারা নিজেদের দলীয় স্বার্থে নয় বরং লেবাননের জনগণকে ইসরাইলী আধিপত্য ও নির্যাতন থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যেই সংগ্রাম করে। এই সংগঠনটি জনকল্যাণমূলক কাজে কীভাবে আত্মনিবেদিত তা লেবাননবাসী খুব ভালো করেই জানে। হিযবুল্লাহ নিরীহ-বঞ্চিতদের সাহায্যে তাদের হাত সবসময় বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণেই হিযবুল্লাহর প্রতিরোধ আন্দোলন কেবল শিয়াদের কাছেই নয় বরং লেবাননের আহলে সুন্নাত,খ্রিষ্টান এবং দ্রুযদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।

হিযবুল্লাহর প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি জনগণের সমর্থনও ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিযবুল্লাহর বিজয়ের আরেকটি প্রধান কারণ। দক্ষিণ লেবানন দখলের বছরগুলোতে এবং ২০০৬ সালে ৩৩ দিনের যুদ্ধের সময় লেবাননের জনগণ ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হিযবুল্লাহকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়েছে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা মোটেও পিছপা হয় নি। লেবাননের জনগণ তাদের প্রতিরোধ যোদ্ধাদেরকে নিজেদের সন্তান বলে মনে করে।কেননা; তারা তাদের জীবনোৎসর্গ করে তাদের ধর্ম,দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্যে সংগ্রাম করে।

এসবের বাইরেও হিযবুল্লাহর বিজয়ের পেছনে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর মতো সচেতন, সৎ, বিচক্ষণ ও দেশপ্রেমিক নেতারও যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে । অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাআরিভ হিযবুল্লাহ এবং ইসরাইলের মধ্যে বন্দী বিনিময় সম্পর্কে লিখেছে-'ইসরাইল পরাজিত হয়েছে এবং হিযবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর ভাবমূর্তি ব্যাপক শক্তিশালী হয়েছে। ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ আরব বিশ্বের এক নম্বর নেতার শিরোপা অর্জন করেছেন। এই মহান স্বীকৃতি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। # &lt;/p&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-2101832058103738259?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/2101832058103738259/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=2101832058103738259' title='4 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/2101832058103738259'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/2101832058103738259'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2008/07/blog-post_24.html' title='হিযবুল্লাহর বিজয়ের নেপথ্যে-১'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>4</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-4426092425198702623</id><published>2008-07-19T14:46:00.000-07:00</published><updated>2008-07-19T14:48:40.968-07:00</updated><title type='text'>ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কে মহিলাদের হিজাব রক্ষার দাবী</title><content type='html'>&lt;p align="justify"&gt;&lt;a href="http://inminds.co.uk/hijab-demo-17jan04-741.jpg"&gt;&lt;img style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; WIDTH: 293px; CURSOR: hand" height="249" alt="" src="http://inminds.co.uk/hijab-demo-17jan04-741.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/p&gt;&lt;div align="justify"&gt; তুরস্কের ইসলাম বিদ্বেষী ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী সেদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের হিজাব বা ইসলামী শালীন পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার হঠকারি দাবী এখনও অব্যাহত রেখেছে। ক্ষমতাধর এই ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী নিজেকে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের প্রবর্তিত ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার উত্তরসূরী বলে মনে করে। তুরস্কের ধর্ম নিরপেক্ষ মহল জেনারেল কেনান এভরানের নেতৃত্বে ১৯৮২ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশটির ক্ষমতা দখল করে । ক্ষমতা দখলের পর তারা সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারী প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের হিজাব বা পর্দার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তুরস্কে মহিলাদের মধ্যে হিজাব বৃদ্ধি পাওয়ায়, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের মধ্যে হিজাব ছড়িয়ে পড়ায় ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীরা এই পদক্ষেপ নেয়। এ পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার তুর্কী মহিলা ও মেয়েরা শিক্ষার এবং চাকরীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

তুরস্কের প্রায় শতকরা ৯৯ ভাগ জনগণ মুসলমান। বিগত ৮০ বছর ধরে তুরস্কের ইসলাম বিদ্বেষী ধর্ম নিরপেক্ষ মহল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে এবং ধর্মীয় তৎপরতার ওপর নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সর্বসাম্প্রতিক জনমত জরীপে দেখা গেছে, শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশী তুর্কী মহিলা হিজাবকে সমর্থন করছে এবং শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশী তুর্কী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সংসদীয় আইন বাতিল করার বিরোধী। তুরস্কের জনগণ তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য এ পর্যন্ত অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন, তারা মহিলাদের হিজাবের সমর্থক জাস্টিস ও ডেভলপমেন্ট পার্টিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পদসহ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অধিকারী এই দলটি এখন ইসলাম বিদ্বেষী সংখ্যালঘিষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষ মহলের ক্ষমতার খুটি তথা সাংবিধানিক আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত হবার সম্মুখীন । স্যেকুলার এই গোষ্ঠী বলছে, হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ক্ষমতাসীন দল কামাল আতাতুর্কের প্রবর্তিত স্যেকুলার মূল্যবোধের বিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে।

তুরস্কের মুসলিম মহিলারা হিজাব বা পর্দাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজ অধিকার আদায়ের জন্য অনেক কস্ট সহ্য করেছে। যেমন, নূরায়ী জানান বাজিরগান নামের এক তুর্কী মহিলাকে হিজাব বা পর্দা মেনে চলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হয়ে দশ বছর ধরে কারাগারে থাকতে হয়েছে। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে তুরস্ক ত্যাগ করেন এবং এমনকি তার এক সন্তানকেও হারিয়েছেন। কিছু দিন আগে বেগাম নূরায়ী একজন সমমনা ব্যক্তির সাথে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)কে শ্রদ্ধা করেন কিনা – এ প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক জবাব দেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ক্বতেহ আলতায়লি এরপর তাকে প্রশ্ন করেন, আতাতুর্ককেও কি ভালবাসেন? উত্তরে বেগাম নূরায়ী বলেন, আমার ওপর যদি কোনো অত্যাচার করা না হয়, তাহলে আমি বলবো , আতাতুর্ককে পছন্দ করি না। ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য তুর্কী মহিলারাও বেগাম নূরায়ীর মতকে সমর্থন জানায়। কিন্তু তুরস্কের ইসলাম বিদ্বেষী ধর্ম নিরপেক্ষ মহল এ সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগানের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগান দৈনিক তুর্কী টাইমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ)'র প্রতি তার শ্রদ্ধার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরে বলেন, আমার মতে মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) একজন বিজ্ঞ ও জ্ঞানী নেতা এবং একইসাথে তিনি আমাদের বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতীম প্রতিবেশী দেশের নেতা। ইমাম খোমেনী (রঃ) একজন মুমিন মুসলমান এবং তিনি এমন এক আন্দোলনের নেতা ছিলেন যিনি একনায়ক বা স্বৈরাচারি শাহের কাছ থেকে জাতির জন্য গৌরবময় স্বাধীনতা বা মুক্তি এনে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ ছাড়াও তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধার আরেকটি কারণ হলো, তিনি বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি খুবই সাধারণ মানুষের মতো সাদাসিদে জীবন যাপন করতেন। ইমাম খোমেনী (রঃ) ইরানকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলের শত্রু ছিলেন। কিন্তু তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এ অঞ্চল দখলদার ইসরাইল ও মার্কিন সরকারের বন্ধু এবং তুরস্ক তাদের পরোক্ষ উপনিবেশ মাত্র।

তুরস্কে দেশটির ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের সমালোচনা করা বড় রকমের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ জন্য সমালোচককে প্রচারণাগত হামলার শিকার হওয়া ছাড়াও হুমকী এবং গ্রেফতারের শিকার হতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইসলামপন্থী, সাহসী ও বীরাঙ্গনা তুর্কী নারী বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগান তুরস্কের ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককে পছন্দ না করার কারণ সম্পর্কে বলেছেন, আতাতুর্কের জীবন যাপন পদ্ধতি ও বিশ্বাসের সাথে আমার জীবন যাপন পদ্ধতি ও বিশ্বাসের আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। এ কারণে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয় এবং স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব আমার নেই। তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা আতাতুর্ক ও তুরস্ককে অভিন্ন মনে করেন। তাই আপনার চিন্তাধারা যদি আতাতুর্কের চিন্তাধারার বিরোধী হয় তাহলে তারা আপনাকে তুরস্কের শত্রু বলে তুলে ধরবে। এটাই চরম কামালবাদী বা গোঁড়া আতাতুর্কপন্থীদের যুক্তি। অথচ আতাতুর্কের বিরোধীতা করা বা তার সমর্থন করা আমার স্বাভাবিক অধিকার। তুরস্কের জন্য ইসলামবিদ্বেষী ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীদের এ ধরনের আচরণের অর্থ হলো, নীরব থাকো এবং হিজাব ও আতাতুর্কের ব্যাপারে মাথা ঘামিও না। কাউকে প্রশ্নের সম্মুখীন করবে না, বরং কেবল আনুগত্য করে যাও, আমরা যেমনটি চাই তোমার অনুভুতি হতে হবে ঠিক সেরকম।

ইসলামপন্থী, সাহসী ও বীরাঙ্গনা তুর্কী নারী বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগান আরও বলেছেন, তুরস্কের অনেকেই আতাতুর্কের চিন্তাধারা পছন্দ করেন না, কিন্তু তা প্রকাশ করার সাহস রাখে না। বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগান ১৯৯৮ সাল থেকে নিজ ধর্ম ও পর্দা রক্ষা করার জন্য সংগ্রামের কারণেই এ রকম সাহসী হতে পেরেছেন। সে বছর অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে হিজাব পরার কারণে তুর্কী পুলিশ তাকে পরীক্ষার হলে মারধোর করে এবং কারাগারে নিয়ে যায়। তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হিজাবধারী ছাত্রীদের সাথে আলোচনা ও তাদের সাথে যোগাযোগের প্রভাবে বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগান ১৪-১৫ বছর বয়স থেকেই পর্দা বা হিজাব বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগান আবারও চরম তিক্ত পরিস্থিতির শিকার হন যখন তাকে দ্বিতীয়বারের মতো কারাগারে নেয়া হয়। তীব্র মানসিক নির্যাতন ও দূর্বলতার কারণে তিনি তার যমজ সন্তানের একজনকে হারান। এর পরের বছর নিজের ও পরিবারের ওপর উপর্যপরি হুমকীর প্রেক্ষাপটে বাজিরগান কানাডায় পাড়ি জমান। সেখানে পড়াশুনা অব্যাহত রাখার পর তিনি ২০০৬ সালে আবার তুরস্কে ফিরে আসেন। কারণ তিনি তার মাতৃভূমি তুরস্ককে ভালবাসেন।

বেগাম নূরায়ী জানান, বাজিরগানের মতো নারীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ধর্মহীনতাবাদী বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ইসলামবিদ্বেষী ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও ইসলামের প্রতি তাঁদের গভীর মমত্ববোধ অটুট ও অম্লান থেকে যায়। তুরস্কের দৈনিক জামানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, হিজাব পরিহার করা তার কাছে নিজের মাথা কেটে ফেলার সমতুল্য। এ কারণে ব্যাপক চাপ সত্ত্বেও তিনি তার হিজাব বজায় রেখেছেন। এমনকি তার সাহসী বক্তব্যগুলো পরিহার করে নেয়ার জন্য তাকে বিপুল অংকের অর্থ দেয়ার প্রলোভনও দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে তিনি ইসলামী অবস্থানে অনড়ই রয়ে গেছেন। বেগাম নূরায়ী জানান বাজিরগান সঠিক যুক্তি ও পথে উপনীত হবার জন্য ইতিহাসে ফসিল হয়ে পড়া ব্যক্তিদের অনুসরণ না করে পবিত্র কোরআনের অনুসারী হবার আহ্বান জানান। মহান আল্লাহ পোশাকের মাধ্যমে বর্তমান যুগের নারীদের পরীক্ষা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। হিজাব করার কারণে তুরস্কের যেসব মহিলা শিক্ষা ও চাকরীর মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বাজিরগান বলেছেন, হিজাব সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অফিস আদালতের কর্মকর্তা এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধার চেয়ে বেশী মূল্যবান।
তুরস্কে হিজাবের পক্ষে দেশটির অধিকাংশ জনগণের সমর্থনের কারণে সেখানে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা খুব বেশী দিন বজায় রাখা সম্ভব হবে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-4426092425198702623?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/4426092425198702623/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=4426092425198702623' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/4426092425198702623'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/4426092425198702623'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2008/07/blog-post.html' title='ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কে মহিলাদের হিজাব রক্ষার দাবী'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-3094308061514009966</id><published>2008-06-11T05:42:00.000-07:00</published><updated>2008-06-11T05:53:31.368-07:00</updated><title type='text'>সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র ব্যবসার শীর্ষে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SE_Km_A1pnI/AAAAAAAAACU/xWb4yWNy_Ls/s1600-h/images.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5210606064989742706" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SE_Km_A1pnI/AAAAAAAAACU/xWb4yWNy_Ls/s320/images.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;strong&gt;যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় :&lt;/strong&gt;

স্টকহম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপরির বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে একজন মানুষের পেছনে সামরিক খাতে ব্যয় হয় ২০২ ডলার করে ৷ গত এক দশকে দেশগুলোর সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৪৫ ভাগেরও বেশী ৷

গোটা বিশ্বে যখন বেড়ে চলেছে শান্তিরক্ষী বাহিনীর সংখ্যা, ঠিক তখন তার চেয়েও বেশী গতিতে বেড়ে চলেছে গোটা বিশ্বের সামরিক ব্যয়৷ সুইডিস সংস্হা স্টকহম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট সিপরি তার বার্ষিক রিপোর্টে বলেছে গত এক দশকে বিশ্বের সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৪৫ ভাগেরও বেশী৷

এর মধ্যে কেবল গত বছরেই বেড়েছে ৬ ভাগ৷ সুইডিস সংস্হার হিসেব মতে গত বছর সারা বিশ্বে শান্তিরক্ষা অভিযানের সংখ্যা ছিলো ৬১টি৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এ সময়ের মধ্যে দেশগুলো সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ১৩শ ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বেশী যা মোট জিডিপির আড়াই শতাংশ৷ গড়ে একজন মানুষের পেছনে সামরিক ব্যয় হয়েছে ২০২ ৷

সুইডিস সংস্হার হিসেব মতে, গত বছর বিশাল অংকের এ সামরিক ব্যয়ের ৪৫ ভাগই করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার পরিমাণ ৫৪৭ বিলিয়ন ডলার৷ এর পরই রয়েছে ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স ও জাপান৷


&lt;strong&gt;যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবসা :&lt;/strong&gt;

অস্ত্র বেচা-কেনা,বর্তমান বিশ্বের জমজমাট ব্যবসাগুলোর মধ্যে অন্যতম ৷ বৃহৎ সামরিক শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল এবং এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লক্ষ লক্ষ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে ৷ ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অস্ত্র বাজারে মার্কিন প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায় এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হোয়াইট হাউজ, ছয় হাজার সাতশ কোটি ডলারের অস্ত্র রপ্তানি করে,যা তৎকালিন বিশ্ব বাজারে মোট অস্ত্র বিক্রির ৫৫ শতাংশ ৷ ২০০১ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার মধ্য দিয়ে পেন্টাগনের জন্য আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং হোয়াইট হাউজ, ১১ ই সেপ্টেম্বরের অজুহাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আরও বেশি পরিমাণে অস্ত্র কিনতে উৎসাহিত করে ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা করে ৷ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অস্ত্র ক্রয়ের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং মার্কিন অস্ত্র ব্যবসা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে ৷ বিশেষকরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষ থেকে অস্ত্র কেনার হিড়িক পড়ে যায় ৷ এর ফলে ২০০২ ও ২০০৩ সালে বিশ্বের সামরিক ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ৷ ২০০১ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার কোটি ডলার থেকে ১ হাজার তিনশ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে ৷ ২০০৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দুই হাজার একশ কোটি ডলারে পৌছেছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
২০০১ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বরের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ত্র বিক্রির মাত্রা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের অনেক দেশের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় এবং ২০০৬ সালে এ ধরনের দেশের সাথে সবচেয়ে বেশি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ৷ যে সব দেশের ওপর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে, সেগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, সার্বিয়া, আযারবাইজান, আর্মেনিয়া ও তাজিকিস্তান অন্যতম ৷
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সমরাস্ত্র বিক্রির জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে ৷ এর মধ্যে একটি হলো, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ উস্কে দেয়া এবং নতুন নতুন সংকট সৃষ্টি করা ৷ বিশ্বে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও হানাহানি বৃদ্ধি মানেই অস্ত্র ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠা ৷ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পেন্টাগন,ভারত-পাকিস্তান, তুরস্ক-গ্রীস এবং আযারবাইজান-আর্মেনিয়ার মতো চীর বৈরি দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র বিক্রি করে থাকে ৷ মধ্যপ্রাচ্যে, ইসরাইল সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইসরাইলের আগ্রাসনকেও এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে৷ মধ্যপ্রাচ্যে, ইসরাইলের যুদ্ধংদেহী অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ৷ সৌদি আরব ও মিশর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ক্রয় করলেও শক্তির ভারসাম্য কখনোই সৃষ্টি হয় নি ৷ এর কারণ হলো, ইসরাইলের সম্মতি ছাড়া পেন্টাগন, আরব দেশগুলোকে অত্যাধুনিক কোন অস্ত্র সরবরাহ করে না ৷ এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলকে প্রতি বছর তিনশ কোটি ডলার সাহায্য দিয়ে থাকে, যার বেশির ভাগই অস্ত্র কেনার জন্য খরচ করা হয় ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অস্ত্র বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের মধ্যে অবাস্তব ভীতি সৃষ্টি করে ৷ যুক্তরাষ্ট্র, তার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে এটা বুঝানোর চেষ্টা করে যে, সামনে মহা বিপদ অপেক্ষা করছে এবং তা মোকাবেলার জন্য আরও বেশি অস্ত্র কিনতে হবে ৷ ওয়াশিংটন, হুমকির জুজু ব্যবহার করে এ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোতে হাজার হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে৷ ১৯৯০ সালে সাদ্দাম, কুয়েতের ওপর হামলার পর সাদ্দাম ভীতিকে বড় করে তুলে ধরার মাধ্যমেও এসব দেশে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র বিক্রি করেছে ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো বিপুল তেল সম্পদের অধিকারী হবার কারণে এসব দেশের প্রতি সব সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনকারীদের লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে ৷ বিশেষ করে তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর নতুন করে এসব দেশের প্রতি পেন্টাগনের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ৷ এ কারণে গত কয়েক বছরে আরব দেশগুলোর তেল খাত থেকে অর্জিত অর্থের একটা বড় অংশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর পকেটে ঢুকেছে৷ কিন্তু বাস্তবে এত বিপুল অর্থ দিয়ে কেনা এসব অস্ত্র কোন কাজে আসেনি এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর এসব অস্ত্র ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অস্ত্র ব্যবসা জমজমাট রাখার জন্য মাঝে মধ্যেই কল্পিত শত্রু সৃষ্টি করে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা ঘন ঘন এসব দেশ সফরের মাধ্যমে কোন একটি দেশকে শত্রু হিসেবে তুলে ধরে আরও উন্নত অস্ত্র কেনার জন্য উৎসাহিত করে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার ইরানকে এসব দেশের জন্য হুমকি হিসেবে প্রচার করছে৷ কিন্তু বাস্তবে ইরান এসব দেশের জন্য কোন হুমকি তো নয়ই বরং তেহরান, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বহু দিন ধরেই আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
অস্ত্র কেনাটাই কিন্তু শেষ কথা নয় ৷ এসব অস্ত্রের জন্য পরবর্তীতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়, আর এসব যন্ত্রাংশেরও যোগান দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৷ এছাড়া, এসব অস্ত্র আমদানির পর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার উপযোগী করার জন্য মার্কিন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয় ৷ মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে এসব অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দিতে হয় ৷ ফলে এজন্যেও আমদানি কারক দেশের বিপুল অর্থ খরচ হয়৷ এভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রির পাশাপাশি এসব দেশকে নিজের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে ৷ এছাড়া, উন্নত অস্ত্র বিক্রির শর্ত হিসেবে এসব দেশের ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শর্ত চাপিয়ে দেয়া হয় ৷ উদাহরণ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে ৷ এই দেশটি প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার দিয়ে ৮০ টি এফ-সিক্সটিন জঙ্গী বিমান কেনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ ভূখন্ডে সামরিক ঘাটি নির্মাণের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র ব্যবসা জমজমাট রাখার জন্য অনায়াসেই নিজের ঘোষিত মানদন্ড ও নীতি লংঘন করছে ৷ ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের অগ্রনায়ক হিসেবে ঘোষণা করলেও পরক্ষণেই বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নিজের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় ৷ এসব দেশকে অগণতান্ত্রিক, মানবাধিকার লংঘনকারী ও সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্ণিত করে হোয়াইট হাউজই এসব দেশের বিরুদ্ধে এর আগে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের ফেডারেশন, হোয়াইট হাউজের দ্বিচারিতা সম্পর্কে এক প্রতিবেদনে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে যেসব দেশকে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে, তার মধ্যে ৯০ শতাংশ দেশই সন্ত্রাসবাদকে লালন করে ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসব স্ববিরোধী আচরনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তার আধিপত্য বজায় রাখতে চায় ৷ এছাড়া মার্কিন অস্ত্র উৎপাদনকারীদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখাও হোয়াইট হাউজের একটি বড় লক্ষ্য ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির সাথে অতীত কাল থেকেই দেশটির অস্ত্র কোম্পানিগুলোর ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে এবং একারণেই হোয়াইট হাউজ, হালকা অস্ত্র বিক্রি সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ৷ একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তার অস্ত্র নির্মাণ শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্যে বিশ্বের অন্য প্রান্তের মানুষের জীবন ও সম্মান-মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করছে এবং যেখানেই প্রয়োজন হচেছ যুদ্ধ-বিগ্রহ উস্কে দিচেছ৷ ফলে বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির জন্য হোয়াইট হাউজই অনেকাংশে দায়ী ৷&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-3094308061514009966?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/3094308061514009966/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=3094308061514009966' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/3094308061514009966'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/3094308061514009966'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2008/06/blog-post.html' title='সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র ব্যবসার শীর্ষে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/SE_Km_A1pnI/AAAAAAAAACU/xWb4yWNy_Ls/s72-c/images.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-7470131316451930840</id><published>2007-07-08T09:06:00.000-07:00</published><updated>2007-07-08T09:09:51.644-07:00</updated><title type='text'>জাতিসংঘের উদ্যোগে মাওলানা রূমীর ৮০০-তম জন্মজয়ন্তী পালিত</title><content type='html'>&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RpEMBOAtmMI/AAAAAAAAAAw/XEY3MsXTMJE/s1600-h/mevlana.gif"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5084858669358487746" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://1.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RpEMBOAtmMI/AAAAAAAAAAw/XEY3MsXTMJE/s320/mevlana.gif" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;
&lt;div align="justify"&gt;গত মঙ্গলবার ছিল জাতিসংঘের ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব দিন৷ এ দিনে জাতিসংঘ এমন এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করে নিজেকে ধন্য করেছে যিনি বিশ্বসাহিত্য ও বিশেষ করে অধ্যাত্মিক সাহিত্য অঙ্গনের বা আধ্যাত্মিক কবিকূলের সম্রাট হিসেবে খ্যাত৷ নিউইয়র্কের সন্ধ্যাবেলা যেন সভ্যতার ও নৈতিকতার এক অলৌকিক দিশারীর ৮০০ তম জন্ম-জয়ন্তীর ঔজ্জ্বল্যে আলোকিত ও হীরন্ময় হয়ে উঠেছিল৷ জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অভূতপূর্ব পরিবেশে সেদিন মাওলানা জালাল উদ্দিন বালখী রূমি (রঃ)কে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এবং বিভিন্ন দেশের চিন্তাবিদ ও মাওলানা রূমির আধ্যাত্মিক কবিতার বহু ভক্ত বা অনুরাগী৷ সারগর্ভ ও চিন্তাউদ্দীপক আলোচনা অনুষ্ঠান ছাড়াও মনোজ্ঞ আধ্যাত্মিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ঐতিহাসিক সন্ধ্যা হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত৷ &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;আধ্যাত্মিক কবি-সম্রাট মাওলানা জালাল উদ্দিন বালখী রূমি (রঃ)'র ৮০০-তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, বর্তমান বিশ্ব অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে মাওলানা রূমির চিন্তাধারা প্রচারের মুখাপেক্ষী৷ তিনি আরো বলেন, "মাওলানা রূমীর কাব্যসম্ভারে শান্তি এবং সভ্যতাগুলোর মধ্যে সংলাপের আবেদন বা বাণী প্রচ্ছন্ন হয়ে আছে৷ আর এই বাণী হওয়া উচিত বিশ্ব সমাজের কর্মতত্‍পরতা বা আচরণের আদর্শ৷" জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, এই মহান কবির স্মরণ জাতিসংঘে সভ্যতাগুলোর ঐক্যের ধারণাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে৷ এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বান কি মুন বলেন, আপনাদের অনেকেই মাওলানা রুমির একনিষ্ঠ ভক্ত বা অনুরাগী৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অনেক ব্যক্তিত্বসহ আপনারা যারা এখানে সমবেত হয়েছেন শুধু তাদের দিকে তাকিয়ে আমি অত্যন্ত দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি যে, মাওলানা রূমি তার জন্মের আটশ বছর পর আজও জীবন্ত রয়েছেন৷ এই অনুষ্ঠান মাওলানা রূমির মানবিকতা বা মানব প্রেম, সহিষ্ণুতা, সমঝোতা ও দয়ার দর্শন তুলে ধরার এবং এসব দর্শনের প্রতি সম্মান জানানোর এক সূবর্ণ সুযোগ বয়ে এনেছে৷ বান কি মুন তার ভাষণে আরো বলেছেন, জাতিসংঘে মাওলানা রূমীর ৮০০ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের আয়োজকরা যেমনটি আশা করছেন আমিও ঠিক সেভাবেই আশা করছি যে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব হাসিমুখে ও বিনম্রভাবে পালন করতে সক্ষম হব৷ যদিও আমি জানি যে এটা খুবই কঠিন দায়িত্ব, তবুও মাওলানা রূমি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তারই আলোকে আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী৷ জাতিসংঘের মহাসচিব এরপর বলেন, মাওলানা রূমির কবিতা কোনো একটি যুগ বা কালের গন্ডীতে সীমিত নয়, তবুও জাতিসংঘে মাওলানা রূমির কবিতার উত্‍সব অত্যন্ত উপযুক্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ বিভিন্ন জাতি ও সমাজের মধ্যে সামপ্রতিক যুগে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা তাদের মধ্যে ব্যবধান বা দূরত্ব সৃষ্টি করেছে এবং পারস্পরিক অসহিষ্ণুতাসহ সংস্কৃতিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে৷ বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্যে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো অত্যন্ত জরুরী৷ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন তার ভাষণে আরো বলেছেন, "এইসব মহান লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে আমাদের প্রত্যেককেই ব্যক্তি-স্বার্থের ব্যাপারে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করতে হবে৷ মাওলানা রূমীর রেখে যাওয়া শিক্ষা অনুযায়ী আমাদেরকে অবশ্যই জনগণের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তাদেরকে বিধাতার সৃষ্টি ও মানুষ হিসেবে ভালবাসতে হবে৷ জাতিসংঘের মহাসচিব আরো বলেন, মাওলানা রূমীকে স্মরণ বা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই অনুষ্ঠান বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষকে ঘনিষ্ঠ করার অশেষ গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদেরকে সচেতন করছে এবং এভাবে আমরা মাওলানার বিশ্ব দর্শনকে কাজে লাগাতে পারি৷ আর জাতিসংঘের উদ্যোগে এ ধরনের অনুষ্ঠান সভ্যতাগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টার জন্যে সহায়ক হবে৷" &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;জাতিসংঘে আধ্যাত্মিক কবি-সম্রাট মাওলানা জালাল উদ্দিন বালখী রূমি (রঃ)'র ৮০০-তম জন্মজয়ন্তীর মহতী অনুষ্ঠানে ইরান, আফগানিস্তান, তুরস্ক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তাবিদসহ জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও বক্তব্য রেখেছেন৷ এই অনুষ্ঠানের আলোচনা বা গবেষণামূলক পর্বে বিভিন্ন দেশের বক্তারা ফার্সীভাষী এই আধ্যাত্মিক মহাকবির জীবনের সাহিত্যিক, আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক বা জ্ঞানগত দিকের বিশ্লেষণ করেছেন৷ জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে ইরান, আফগানিস্তান ও তুরস্কের শিল্পীরা মাওলানা রুমি (রঃ)'র আধ্যাত্মিক বা মরমী কবিতা সংগীত ও গানের মাধ্যমে পরিবেশন করেন৷ এ ছাড়াও মার্কিন সরকার মাওলানা রূমি (রঃ)'র ৮০০ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করেছে৷ এ ডাক টিকেটে মাওলানা রূমির ছবি স্থান পেয়েছে৷ এই ছবির শিল্পী হলেন ইরানের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হোসাইন বেহজাদ৷ ওদিকে দুঃখজনক ঘটনা হলো, মার্কিন সরকার এবারসহ বেশ কয়েকবার ইরানী শিল্পীদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের ভিসা দেয়নি৷ ফলে ইরানের সংগীত দল জাতিসংঘের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারে নি৷ &lt;/div&gt;&lt;div align="justify"&gt;উল্লেখ্য, ২০০৭ সালকে জাতিসংঘ রুমী বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;strong&gt;মাওলানা জালাল উদ্দিন বালখী রূমি (রঃ)'র সংক্ষিপ্ত&lt;/strong&gt; &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;ফার্সী ভাষায় মৌলভী হিসেবে সুপরিচিত জালালউদ্দিন মোঃ বালখী রুমী (রঃ) ইরানের বিখ্যাত সুফী-সাধক, আরেফ ও কবি৷ তিনি উত্তর ইরানের বালখে হিজরী সপ্তম শতকে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন৷ তার পিতার নাম বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ৷ বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ ছিলেন একজন বিখ্যাত শিক্ষক ও আরেফ৷ রূমির পিতা তার সন্তানের সুশিক্ষার দায়িত্ব পালন করেছিলেন৷ ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলোয় মোঙ্গলদের হামলা, গণহত্য ও তাদের লুটতরাজ বা ধ্বংসযজ্ঞ জোরদার হওয়ায় অনেক ইরানী পন্ডিত বা চিন্তাবিদ ইরান ত্যাগ করতে বাধ্য হন৷ ঐ পরিস্থিতিতে মাওলানা রূমী (রঃ)'র পিতাও পবিত্র কাবাঘর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিরিয়া ও হিজাজে যাবার সিদ্ধান্ত নেন৷ মাওলানা রূমী (রঃ)'র পরিবার কিছুকাল বাগদাদ ও নিশাপুরে থাকার পর সিরিয়া ও হিজাজে যান৷ এরপর তারা মধ্য এশিয়ার লারান্দে ও সেখান থেকে বর্তমান তুরস্কের কুনিয়ায় যান৷ রূমি (রঃ) জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই কুনিয়াতেই ছিলেন৷ মাওলানা রূমী (রঃ) তাঁর পিতা ছাড়াও সেযুগের অনেক বিখ্যাত শিক্ষকের সানি্নধ্য লাভ করেছিলেন৷ পিতার মৃত্যুর পর মাওলানা রূমী (রঃ) তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হন৷ অসাধারন জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং আকর্ষণীয় গল্প ও কাব্যরসে সমৃদ্ধ তাঁর ভাষণ বা ক্লাসগুলো বিপুল সংখ্যক তত্ত্ব-পিপাসু ও জ্ঞানপিপাসুকে আকৃষ্ট করেছিল৷ সাত বৈঠক বা মাজালেসে সাবআ এবং ফি মা ফি শীর্ষক গ্রন্থ মাওলানা রূমি (রঃ)'র ভাষণ ও ক্লাসের ফসল৷ মসনভী ও দিওয়ানে শামস তাঁর দুটি অমর কীর্তি৷ মাওলানা রূমী হিজরী ৬৭২ সালে ৬৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন৷ কিন্তু তিনি আজো বেঁচে আছেন এবং বেঁচে থাকবেন তাঁর অমর কাব্য ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা বা আদর্শের অক্ষয় কীর্তির মধ্যে৷ #&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-7470131316451930840?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/7470131316451930840/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=7470131316451930840' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/7470131316451930840'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/7470131316451930840'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2007/07/blog-post_08.html' title='জাতিসংঘের উদ্যোগে মাওলানা রূমীর ৮০০-তম জন্মজয়ন্তী পালিত'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RpEMBOAtmMI/AAAAAAAAAAw/XEY3MsXTMJE/s72-c/mevlana.gif' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-6103011924969039779</id><published>2007-07-04T09:19:00.000-07:00</published><updated>2007-07-04T09:23:49.548-07:00</updated><title type='text'>মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি.আই.এ'র সাথে হলিউডের সহযোগিতা</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RovJX-AtmKI/AAAAAAAAAAc/88M-2iujkks/s1600-h/shepherd_good.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5083378018037897378" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RovJX-AtmKI/AAAAAAAAAAc/88M-2iujkks/s320/shepherd_good.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;
&lt;div align="justify"&gt;সমপ্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি। আই।এ'র কর্মকর্তারা হলিউড-কোম্পানীগুলোর সাথে এক বৈঠকে সি। আই।এ'র দক্ষ কর্মকর্তা পল ব্যারিকে হলিউডের সাথে এই সংস্থার সমন্বয়ক বলে ঘোষণা করেছেন৷ মার্কিন বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ঐ বৈঠকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি. আই.এ' হলিউডকে তার সবচেয়ে দক্ষ ও সাহসী কর্মীদের নামের তালিকা সরবরাহের অনুরোধ করেছে যাতে এই কর্মীদেরকে সি. আই.এ'র লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করা যায়৷ সি. আই.এ'র মুখপাত্র পল কে. লিয়ানো হলিউডের সাথে ঐ বৈঠকে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি. আই.এ'র কর্মকর্তারা ঐ বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন যে হলিউডসহ অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের কর্মতত্‍পরতার ওপর সি আই এ'র সরাসরি নজরদারীর কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি. আই.এ দীর্ঘ বহু বছর ধরে নিজ লোকদেরকে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা শিল্পসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োজিত করে এসব গণমাধ্যমকে দিয়ে পাশ্চাত্যের সমপ্রসারণকামী লক্ষ্যগুলো হাসিলের চেষ্টা করে আসছে৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি. আই.এ'র এই কৌশল ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে৷ যদিও মার্কিন চলচ্চিত্র সংস্থা হলিউড নতুন নতুন কৌশল খাটিয়ে দর্শক আকৃষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছে, কিন্তু এ সংস্থার কাছ থেকে মার্কিন সরকার ও সি. আই.এ'র প্রত্যাশা এখানেই সীমিত নয়৷ মার্কিন সরকার হলিউডকে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রত্যাশা মতো অন্যান্য জাতির ওপর বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া ও পশ্চিমা সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইডিওলজি বা আদর্শ শীর্ষক এক সাড়া-জাগানো নিবন্ধে মিশরীয় বংশদ্ভুত ফরাসী অর্থনীতিবিদ সামির আমিন 'আমাদের মার্কিন বন্ধ'ু জাতীয় শব্দের ব্যাপারে প্রতারিত না হতে তার পাঠকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ মার্কিন সরকার যে কোনো দেশের বন্ধু হতে পারে না তার যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে সামির আমিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ দিয়েছেন৷ তিনি লিখেছেন, "রাজনৈতিক সংস্কৃতি ইতিহাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল৷ প্রত্যেক দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সেদেশের রাজনীতির নিজস্ব বৈশিষ্টের আলোকে গড়ে ওঠে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিও নিউ ইংল্যান্ডের চরমপন্থী গ্রুপগুলোর মাধ্যমে গড়ে উঠেছে৷ তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট হলো: আমেরিকা মহাদেশের স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর গণহত্যা চালানো, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে অন্যদেরকে দাসে পরিণত করা, আমেরিকায় অভিবাসী বিভিন্ন জাতি বা সমাজকে আলাদা করা এবং জাতিগত ও গোত্রীয় পার্থক্যগুলোকে বড় করে তুলে ধরা"৷ সামির আমিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে আরো লিখেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের লোকেরা ফ্যাসিবাদীদের মতো নিজেকে সর্বোত্তম জাতি বলে মনে করে৷ তারা এও মনে করে যে স্রষ্টা তাদেরকে নিজ ধর্মের বিশ্বাসগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছেন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূখ্যাত বর্ণবাদী গোষ্ঠী ক্লু ক্লাঙ্ ক্লান ও ফ্রিম্যাশন গোষ্ঠীর মতো উগ্র গ্রুপগুলোর বিশ্বাস এবং চরমপন্থী চিন্তাধারায় বিশ্বাসীরাই শেষ পর্যন্ত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি. আই.এ'র ছত্রচ্ছায়ায় একত্রিত হয়েছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও গুপ্ত সংস্থাগুলো চলচ্চিত্রের জগতকেও তাদের চিন্তাধারা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে৷ সামপ্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি. আই. এ নিজ লক্ষ্যের বিরোধী কোনো কোনো ছায়াছবির সমালোচনা করে সেগুলোকে অবাস্তব বলে আখ্যা দিয়েছে৷ হলিউড ও সি আই এ'র মধ্যে সমন্বয়কারী নিয়োগের খবর আপনারা এ আলোচনার শুরুতে জেনেছেন৷ এই নিয়োগের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সরকার ও সি আই এ'র লক্ষ্যের বিরোধী ছায়াছবি নির্মাণের সম্ভাবনা দূর করা৷ হলিউড ও সি আই এ'র মধ্যে সমন্বয়কারী নিয়োগের বৈঠকে এটা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ছায়াছবি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সি আই এর চেহারা বিকৃত করে তুলে ধরেছে এবং এরফলে দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে এই সংস্থা সম্পর্কে খারাপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে৷ অনেক সমালোচক বলছেন, হলিউডে মাঝে মধ্যে এমন দু-একজন স্বাধীনচেতা ফিল্ম-নির্মাতা দেখা যায় যারা বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন চান এবং তারা নিজ ছায়াছবিতে বাস্তবতা তুলে ধরছেন৷ স্বাধীন ছায়াছবি নামে পরিচিত এসব ছায়াছবিতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়৷ গুড শেফার্ড বা ভালো রাখাল এ ধরনের একটি ছায়াছবির দৃষ্টান্ত৷ ২০০৬ সালে নির্মিত এ ছায়াছবিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা সি আই এ গঠনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে৷ গুড শেফার্ড বা ভালো রাখাল শীর্ষক ছায়াছবিটি এডওয়ার্ড উইলসন নামের এক ব্যক্তির জীবন কাহিনীর চিত্ররূপ৷ এই লোকটি সি আই এ গঠনে এবং ৬০'র দশকে মার্কিন এই গোয়েন্দা সংস্থার ধ্বংসাত্মক তত্‍পরতায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ গঠনের পটভূমি ও এর বিকাশ এবং এ সংস্থার অতীতের ও বর্তমান লক্ষ্যগুলো এই ছায়াছবিতে মেলোড্রামার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে৷ এ ছায়াছবিতে কিউবার বে অব পিগ বা পিগ উপসাগরে মার্কিন অনুচরদের হামলা এবং এ হামলায় মার্কিনীদের লজ্জাজনক পরাজয়ের কাহিনীও স্থান পেয়েছে৷ ফ্ল্যাশ-ব্যাক বা স্মৃতি রোমন্থন হিসেবে এডওয়ার্ড উইলসনের শৈশব এবং একটি গোপন সংস্থায় তার অন্তর্ভুক্তি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা-সি আই এর গোড়া পত্তনের দৃশ্যগুলো এ ছায়াছবির আরেকটি আকর্ষণীয় দিক৷ নিরাপত্তার বিষয়ে দ্বন্দ্ব ও নিরাপত্তাহীনতা গুড শেফার্ড বা ভালো রাখাল শীর্ষক ছায়াছবির কেন্দ্রীয় বিষয়৷ রবার্ট ডোনিরো এই ছায়াছবির নির্মাতা৷ আসলে ভালো রাখাল নামের ছায়াছবিতে এটা দেখানো হয়েছে যে, সি আই এর পূর্বসূরী হিসেবে বিবেচিত সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা মার্কিন সমাজে তথাকথিত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নামে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোর জন্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে৷ আর এই ব্যক্তিটি তার পেশাগত স্বভাব অনুযায়ী কখনও অন্যদের বিশ্বাস করে না৷ তাই এই লোকটি তার চারপাশেও নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করতে অক্ষম৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা সি. আই.এ'র এই ইতিহাস-ভিত্তিক এই ছায়াছবি অত্যন্ত আকর্ষণীয়৷ এই ছায়াছবির নির্মাতা এমন একটি গোপন সংস্থার চিত্র তুলে ধরেছেন যা ভয়ানক গোপন সংস্থাগুলোর সমতুল্য এবং এসব সংস্থার রয়েছে নিজস্ব রীতি ও পদ্ধতি৷ আর এই গোপন সংস্থাই পরবর্তীকালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা সি. আই.এ\'তে রূপ নিয়েছে৷ অবশ্য পাশ্চাত্যের ইতিহাস ও সেখানকার রূপকথাগুলোতেও দেখা যায়, পশ্চিমা সমাজের সামাজিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতারা এ ধরনের ভয়ানক বা কূখ্যাত গোপন সংস্থা থেকেই উঠে এসেছেন৷ প্রাচীন ইতিহাসবিদ হেরোডটাসও এটা উল্লেখ করেছেন৷ পাশ্চাত্যের এ ধরনের নেতারা অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে ও অনেক শ্রম-সাধনার মাধ্যমে নিজ সংস্থার উচ্চ পদে আসীন হন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাবলিও বুশও নিজের যুদ্ধকামী বা আগ্রাসী পদক্ষেপগুলোর অজুহাত হিসেবে মার্কিন সমাজের নিরাপত্তার দোহাই দিয়েছেন৷ বিশেষ করে ইরাকে ও আফগানিস্তানে হামলা চালানোর যুক্তি হিসেবে বুশ এ অজুহাতই ব্যবহার করেছেন৷ বুশ তার বক্তব্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে 'মার্কিনী স্টাইলের' নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বা অন্য কথায় সারা বিশ্বে মার্কিন যুদ্ধকামী নীতি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন৷ আর এ জন্যেই বুশ মার্কিন চলচ্চিত্র সংস্থা হলিউডকেও তার সংস্থার একটি শাখায় পরিণত করেছেন৷) &lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div align="justify"&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-6103011924969039779?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/6103011924969039779/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=6103011924969039779' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6103011924969039779'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6103011924969039779'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2007/07/blog-post.html' title='মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি.আই.এ&apos;র সাথে হলিউডের সহযোগিতা'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RovJX-AtmKI/AAAAAAAAAAc/88M-2iujkks/s72-c/shepherd_good.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-6677454976248589674</id><published>2007-06-04T05:34:00.000-07:00</published><updated>2007-06-04T05:37:07.362-07:00</updated><title type='text'>আল আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নয়া ষড়যন্ত্র</title><content type='html'>&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RmQHXQCgBhI/AAAAAAAAAAM/tY4TthUV2p8/s1600-h/aqsa_mosque.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5072187176349861394" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RmQHXQCgBhI/AAAAAAAAAAM/tY4TthUV2p8/s320/aqsa_mosque.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;
&lt;div&gt;

ইহুদীবাদী ইসরাইল মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা মসজিদুল আকসার পশ্চিম দিকের প্রবেশ দ্বারে খননকাজ চালাতে গিয়ে দ্বারটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছে ৷ সারাবিশ্বের মুসলমানরা ইসরাইলের এ ন্যাক্কারজনক কাজের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৷ আল আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নয়া ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দিগন্তের আজকের আসরে রয়েছে একটি আলোচনা ৷ মসজিদুল আকসা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ধর্মীয় স্থান ৷ বিভিন্ন ধর্মের কাছে ঐতিহাসিক এ মসজিদের গুরুত্ব রয়েছে এবং ১৯৬৭ সালে ইহুদীবাদী ইসরাইল এ মসজিদ দখল করার পর থেকে এটিকে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে ৷ ইসরাইলী সেনারা কিছুদিন পরপর নতুন নতুন অজুহাতে আল-আকসা মসজিদে হামলা চালিয়ে এর ক্ষতি করছে ৷ ইহুদীবাদীরা গত ৬ই ফেব্রুয়ারি এ মসজিদের উপর সর্বশেষ আগ্রাসন চালায় ৷ এবার তারা মসজিদেরর পশ্চিম দিকের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে ৷ ইসরাইলীরা এরই মধ্যে ঐ প্রাচীরের নীচে ভূগর্ভস্থ দুটি বৃহত্‍ হলরুম ধবংস করে ফেলেছে ৷ ইসরাইল সরকার বলছে, জেরুযালেম শহরের ইহুদী অধ্যুষিত এলাকার সাথে মসজিদুল আকসার একটি সংযোগ সেতু নির্মানের লক্ষ্যে তারা ঐ ধবংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ৷ অর্থাৎ ইসরাইল মসজিদুল আকসায় ইহুদীবাদীদের যাতায়াতের সুবিধা করে দেয়ার অজুহাতে মসজিদটির একাংশ ধ্বংসের কাজে হাত দিয়েছে ৷ ইসরাইলীরা আল আকসা মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শুরু করে ১৯৬৯ সালে এটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ৷ তখন থেকে এ পর্যন্ত তেলআবিব এ মসজিদ ধবংস করার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ৷ ইহুদীবাদীরা দাবি করছে, মসজিদুল আকসার নীচে হযতর সোলায়মান (আঃ) এর উপাসনালয় অবিস্থত এবং সেটিকে খুঁজে বের করার জন্য তারা এ ধরনের ধবংসাত্মক কাজে হাত দিয়েছে ৷ তারা বিশ্বাস করে, ইহুদী জাতির মুক্তিদাতার আবির্ভাবের সময় এসে গেছে এবং তার আবির্ভাবের ক্ষেত্র সৃষ্টি করার জন্য আল আকসা মসজিদ ধবংস করে সেখানে সোলায়মানের উপাসনালয় নির্মাণ করতে হবে ৷ হযরত সোলায়মান (আঃ) প্রায় তিন হাজার বছর আগে সোলায়মানের উপাসনালয় খ্যাত স্থাপনাটি নির্মান করেছিলেন ৷ কিন্তু তার প্রায় চার শতাব্দি পর বাবোলের অধিবাসীরা এটিকে ধবংস করে ৷ তবে ঐ উপাসনালয় পুনরায় তৈরি করা হলেও হযরত ঈসা (আঃ) এর জন্মের ৭০ বছর পর রোম সম্রাট এটিকে ধবংস করে দেয় ৷ তবে আল আকসা মসজিদের নীচে ঐ উপাসনালয়ের অবস্থান নিয়ে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা ব্যাপক সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ মাইর বিন দোউফ ব্যাপক গবেষণা ও বহুবার মসজিদুল আকসা পরিদর্শনের পর ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গবেষণার ফলাফল লিখতে গিয়ে বলেন, হযরত ঈসা (আঃ) এর উপাসনালয় কোন অবস্থায়ই আল আকসা মসজিদের নীচে অবস্থিত নয় ৷ ইহুদীবাদীরা তাদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে বৈধতা দেয়ার জন্য হোলোকাস্টের মত যেসব কল্পকাহিনী তৈরি করেছে, সোলায়মানের উপাসনালয় সে রকমেরই একটি কল্পকাহিনী ৷ আরো অনেক ইতিহাসবিদ ও গবেষক মাইর বিন দোউফের এ দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেছেন ৷ এদিকে ইহুদীবাদীরাও এতদিন ধরে খননকাজ চালানোর পরও মসজিদুল আকসার নীচে কোন ধরনের উপাসনালয় খুঁজে পায় নি ৷ কিন্তু তারপরও হযরত সোলায়মান (আঃ) এর উপাসনালয়ের সন্ধানের অজুহাতে ইহুদীবাদীরা মসজিদুল আকসা ধ্বংসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ৷ বলা হচ্ছে, ইসরাইলের ১২৫টি উগ্র ইহুদীবাদী গোষ্ঠি আল আকসা মসজিদকে ধবংস করার দাবি জানাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন কর্মসূচী দিচ্ছে ৷ এ পর্যন্ত ইহুদীবাদী সরকার মসজিদুল আকসার ভিত্তি দুর্বল করার জন্য এর নীচ দিয়ে ট্যানেল তৈরি করেছে এবং এর বেশ কিছু অংশ ধবংস করেছে ৷ ১৯৮২ সালে আল আকসা মসজিদে এ ধরনের এক আগ্রাসন প্রতিহত করতে গিয়ে বহু ফিলিস্তিনী ইসরাইলী সেনাদের গুলিতে শাহাদাতবরণ করেন ৷ ১৯৯০ এর দশকে এ ঐতিহাসিক মসজিদের নীচে বহু খননকাজ চালানো হয় ৷ ১৯৯৬ সালে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের একটি ট্যানেল উদ্বোধন করতে গেলে ফিলিস্তিনীদের সাথে ইহুদীবাদীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায় এবং এতে বহু ফিলিস্তিনী শহীদ হন ৷ মসজিদুল আকসার পশ্চিম দিকের প্রাচীর ধ্বংসের ইসরাইলী পদক্ষেপের প্রতি মার্কিন সরকার সমর্থন জানালেও বিশ্বব্যাপী এ জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেছে ৷ কারণ, ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র স্থান হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব ছাড়াও এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ৷ জাতিসংঘের বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো মসজিদুল আকসা ধ্বংসের কাজ শুরু হওয়ার পর এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি মুসলমান, ইহুদী ও খ্রীস্টানদের পবিত্র স্থান এবং এ কারণে এটি বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ৷ কাজেই ঐ স্থানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেরুযালেম শহরের পুরনো অংশে কোন খননকাজ চালানো যাবে না ৷ কিন্তু ঐ এলাকার ফিলিস্তিনীদের বিতাড়িত করার জন্য ইহুদীবাদী সরকার তাদের উপর হামলা চালানোসহ তাদের কৃষিজমি ধবংস করে দিচ্ছে এবং সেখানে নতুন নতুন ইহুদী উপশহর নির্মাণ করছে ৷ এভাবে পূর্ব জেরুযালেমকে পুরোপুরি ইহুদীকরণ করে মসজিদুল আকসা ধবংসের কাজে হাত দেয়া তেলআবিবের লক্ষ্য ৷ এ সম্পর্কে লেবাননের আমোল আন্দোলনের নেতা শেইখ আফিফ নাবলুসি বলেছেন, ইহুদীবাদী ইসরাইল বাইতুল মোকাদ্দাস শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শন শেষ করে দেয়ার লক্ষ্যে মসজিদুল আকসা ধবংসের কাজে হাত দিয়েছে ৷ তবে এ কাজে ইহুদীবাদীরা মুসলমানদের তীব্র প্রতিক্রিয়াকে ভয় পাচ্ছে ৷ কারণ, মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা যেখান থেকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উর্দ্ধাকাশে গমন করেছিলেন, তার কোন ক্ষতি মুসলমানরা হতে দেবে না ৷ ফিলিস্তিনের মুসলমানরা যখনই আল আকসা মসজিদকে বিপদের মুখে দেখেছে, তখনই তারা এ মসজিদ রক্ষার সংগ্রাম করেছে এবং ইহুদীবাদী সেনাদের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনী শহীদ হয়েছে ৷ বর্তমানে ফিলিস্তিনীরা যে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা আন্দোলন শুরু করেছে, তার সূত্রপাত হয়েছিল ২০০০ সালে এরিয়েল শ্যারনের প্রবেশের পর ৷ বর্তমানেও ফিলিস্তিনের সংগ্রামী মুসলমানরা মসজিদুল আকসা রক্ষার আন্দোলনে এগিয়ে এসেছে এবং ইহুদীবাদীদের ধবংসাত্মক কাজে বাঁধা দিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনী শহীদ হয়েছেন ৷ সিএনএন এ সম্পর্কে বলেছে, অতীতে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনীদের অধিকাংশ আন্দোলন শুরু হয়েছে মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা আল আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ৷ এবারও মসজিদুল আকসার নীচে খনন কাজের সূত্র ধরে ফিলিস্তিনীদের নতুন সংগ্রাম শুরু হতে পারে ৷ নিউজ চ্যানেলটি আরো বলেছে, তারা আশঙ্কা করছে, এবার ফিলিস্তিনীরা তৃতীয় ইন্তিফাদা শুরু করতে পারে ৷ মসজিদুল আকসা ধ্বংসের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনীদের প্রতিরোধ এবং বিশ্ব মুসলিমের ব্যাপক প্রতিবাদের কারণে এ ব্যাপারে মুসলিম সরকারগুলোর দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে ৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম সরকারগুলোর পক্ষ থেকে তেমন কোন প্রতিবাদের সম্ভাবনা না থাকার কারণে ইসরাইল মসজিদুল আকসা ধ্বংসের মত ধৃষ্টতা দেখাতে সাহস পেয়েছে ৷ কারণ, অতীতে দেখা গেছে, ইহুদীবাদী সরকার মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী কোন কাজ করলে মুসলিম সরকারগুলো তেলআবিবের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে ৷ কাজেই এবার মুসলিম সরকারগুলোকে এ ব্যাপারে আরো বেশী সোচ্চার হতে হবে ৷ ইহুদীবাদী সরকার যাতে আল আকসা মসজিদে আর কোন আগ্রাসন চালাতে না পারে সে লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে ৷ আর তা নিতে পারলেই ইসরাইল সরকার সম্মিলিত মুসলিম ঐক্যের কাছে মাথা নত করে এ ধরনের আগ্রাসন থেকে বিরত থাকবে ৷&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-6677454976248589674?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/6677454976248589674/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=6677454976248589674' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6677454976248589674'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/6677454976248589674'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2007/06/blog-post_04.html' title='আল আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নয়া ষড়যন্ত্র'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/RmQHXQCgBhI/AAAAAAAAAAM/tY4TthUV2p8/s72-c/aqsa_mosque.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-7194611577437214751</id><published>2007-06-01T05:26:00.000-07:00</published><updated>2007-06-01T05:45:47.950-07:00</updated><title type='text'>ইরানের  প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙক্ষিপ্ত চিত্র</title><content type='html'>১৯৭৯ সালে আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট রেজা শাহ সরকারের পতনের পর থেকেই মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিপ্লব ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে আমেরিকা ইরান সরকারের উপর ইরাককে দিয়ে যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল,তাতেও লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয়েছে বেশি। ইরাক ও ইরানের মধ্যে ৮ বছর স্থায়ী ঐ যুদ্ধ থেকে ইরান প্রতিরক্ষার এক অসামান্য অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তেহরানের বিপ্লবী সরকারকে গোড়াতেই থামিয়ে দেয়ার মার্কিন পরিকল্পনা আজ ইরানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের গত ২৭ বছরের অর্জন, দেশটির বিরুদ্ধে হুট করে কিছু করে বসার খামখেয়ালিপনা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রেখেছে। ইরান বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চাশটিরও বেশি দেশে অস্ত্র রপ্তানি করে বলে সমপ্রতি সেদেশের সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে।
পাঠকদের কৌতুহল নিবারনের জন্য এখানে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরী কিছু সমরাস্ত্রের পরিচিতি তুলে ধরছি :

&lt;strong&gt;বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগ্রামী টর্পেডো :&lt;/strong&gt;

 ইরান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগ্রামী টর্পেডো বা আন্ডার ওয়াটার মিজাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে 'সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)' সাংকেতিক নামের সামরিক মহড়ায় ইরানের নৌবাহিনী ঐ ক্ষেপনাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। ইরানের নির্মিত এই টর্পেডোর গতি সেকেন্ডে একশ মিটার-যা প্রচলিত টর্পেডোগুলোর চার গুণ। বিশ্বে এ যাবৎ নির্মিত টর্পেডোগুলোর সর্বোচ্চ গতি সেকেন্ডে ২৫মিটার। ইরানের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম দেহক্বানি এই টর্পেডো সম্পর্কে বলেছেন, ইরানের বিজ্ঞানীরা অন্য কোন দেশের সহযোগীতা ছাড়াই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন আন্ডার ওয়াটার মিজাইল তৈরী করেছে। তিনি বলেছেন, রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এই টর্পেডোর ছোবল থেকে বিশ্বের অত্যাধুনিক সাবমেরিনও নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। ইরান অত্যাধুনিক টর্পেডো তৈরির ঘোষণা দেয়ার পর পশ্চিমা বিশ্ব বিস্মিত হয়েছে। ইরানও যে এ ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র তৈরি করতে পারে, তা পাশ্চাত্যের ধারনার বাইরে ছিল। ইরানের নৌ বাহিনী এই টর্পেডোর নাম দিয়েছে হুত বা তিমি। তিমির মতো ক্ষিপ্র গতি সম্পন্ন বলেই হয়তো এই নামটি নির্বাচন করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে মোতায়েন মার্কিন নৌ বহরগুলোর হুমকি মোকাবেলা করার লক্ষ্যেই ইরান অত্যাধুনিক আন্ডার ওয়াটার মিজাইল তৈরীর কাজে হাত দিয়েছিল।

&lt;strong&gt;ফাজর-৩ ক্ষেপনাস্ত্র :&lt;/strong&gt;

রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এপ্রিলের সামরিক মহড়া চলাকালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ফাজর(উষা)-3 ক্ষেপনাস্ত্রেরও সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। বিশ্বের কোন রাডারই ইরানের নির্মিত অত্যাধুনিক ফাইং বোটের উপস্থিতি আঁচ করতে পারবে না এবং এটি চলন্ত অবস্থায় পানির উপরিভাগ থেকে নিমিষেই শুন্যে উঠে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ফাজর(উষা)-৩ ক্ষেপনাস্ত্রের পাল্লা চলি্লশ কিলোমিটার । সাগরে নিজস্ব প্রযুক্তির স্মার্ট মাইন ঃ ইরানের নৌ বাহিনী সাগরে নিজস্ব প্রযুক্তির স্মার্ট মাইন বসানোর মহড়াও সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে। বিপদের সময় মুহুর্তের মধ্যেই যাতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে শত্রুদের জন্য মৃতু্যপুরিতে পরিণত করা যায়- সে লক্ষ্যেই মাইন বসানোর ঐ মহড়া দেয়া হয়েছে। এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের 40 শতাংশ তেল, জাহাজে করে সরবরাহ করা হয়।

&lt;strong&gt;ব্যালাস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র : শাহাব-৩&lt;/strong&gt;

২০০৩ সালে ইরান শাহাব বা উল্কা-3৩সাংকেতিক নামের দুই হাজার একশ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপনাস্ত্রটির সফল পরীক্ষা চালায়। ইরানের দূর পাল্লার এই ক্ষেপনাস্ত্র অনায়াসেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলের অভ্যন্তরে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরান শাহাব-৩ এর সাহায্যে ইসরাইল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো গুড়িয়ে দিতে পারবে। এছাড়া, ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন সাবমেরিনগুলোও এই ক্ষেপনাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। দক্ষিণ ইউরোপেরও কয়েকটি দেশে আঘাত হানতে পারবে এই পেনাস্ত্র। ইরান দূর পাল্লার এই ক্ষেপনাসটি ব্যাপক সংখ্যায় তৈরী করছে বলে মনে করা হয়। কারণ শাহাব-৩ এর সফল পরীক্ষার পর ইরানের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলী শামখানি বলেছিলেন, ব্যাপক সংখ্যায় শাহাব-৩ ক্ষেপনাস্ত্র তৈরীর সকল সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা ইরানের রয়েছে। ইরান এরই মধ্যে দশ হাজার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র তৈরীর কাজে হাত দিয়েছে বলে সমর বিশারদদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র তৈরীতে সফল হলে আমেরিকাও ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের নাগালের ভেতরে চলে আসবে।

&lt;strong&gt;অত্যাধুনিক জঙ্গী বিমান 'বজ্র':&lt;/strong&gt;
&lt;strong&gt;&lt;/strong&gt;
 ইরান সমপ্রতি অত্যাধুনিক জঙ্গী বিমান তৈরি করেছে। ৬ই সেপ্টেম্বর'০৬ ইরানের বিমান বাহিনী তাদের নির্মিত প্রথম বোমারু জেট জঙ্গী বিমান প্রদর্শন করে এবং জঙ্গী বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের কথা ঘোষণা করে। ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরে 'জুলফিকারের আঘাত' সাংকেতিক নামের সামরিক মহড়া চলাকালে, ইরানের নির্মিত জঙ্গী বিমানের সফল উড্ডয়ন ঘটানো হয়। ইরানের নির্মিত জঙ্গী বিমানের নাম দেয়া হয়েছে- স্বায়েকে বা বজ্র। ইরানের বিমান বাহিনী বলেছে, 'বজ্র' নামের জঙ্গী বিমানটি পুরোপুরিভাবে ইরানে নির্মিত এবং একজন পাইলট চালিত এই জঙ্গী বিমান আমেরিকার এফ-এইটটিন জঙ্গী বিমানের চেয়েও শক্তিশালী। উন্নতমানের রাডার সজ্জিত ইরানের এ জঙ্গী বিমান কয়েক ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র, রকেট ও বোমা বহন এবং নিক্ষেপ করতে সক্ষম।

&lt;strong&gt;সাবমেরিন তৈরী :&lt;/strong&gt;

ইরানের বিজ্ঞানীরা প্রথম বারের মতো সাবমেরিন তৈরী করেছে। ইরানের তৈরী তিমি শ্রেনীর সাবমেরিন পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের তুলনামূলক কম গভীর ও লোনা পানিতে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে । সাবমেরিনটি তৈরীতে বিদেশী কোন বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেয়া হয় নি বলে বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবমেরিনটি ইরানি বিজ্ঞানীদের 10 বছরের নিরলস গবেষণার ফসল বলে ইরানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন

&lt;strong&gt;দুই হাজার পাউন্ড-গাইডেড বোমা তৈরি :&lt;/strong&gt;
&lt;strong&gt;&lt;/strong&gt;
জঙ্গী বিমান নির্মাণে সফলতার কথা ঘোষণার দিনই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দুই হাজার পাউন্ড-গাইডেড বোমা তৈরিরও ঘোষণা দেয়। বিশ্বের হাতে- গোনা কয়েকটি দেশের কাছে এ ধরনের স্মার্ট ও গাইডেড বোমা রয়েছে। এছাড়া 'জুলফিকারের আঘাত' মহড়ায় ইরানের সেনা,নৌ ও বিমান বাহিনী আলাদা আলাদা ভাবে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরী কয়েকশ কিলোমিটার পাল্লার বিভিন্ন মডেলের ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

&lt;strong&gt;ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা :&lt;/strong&gt;

ইরানের নিয়মিত সৈন্য সংখ্যা পাঁচ লক্ষেরও বেশী। আধা সামরিক বাহিনীতেও কয়েক ল প্রশিক্ষিত সদস্য রয়েছে। এছাড়া ইরানের 15 বছরের বেশী বয়সী সকল পুরুষের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়া বাধ্যতামূলক।

&lt;strong&gt;সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কথা :&lt;/strong&gt;

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী-ই হচ্ছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি সমপ্রতি সেদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেশী শক্তি অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে এত বেশী শক্তি অর্জন করতে হবে যাতে বলদর্পী দেশগুলো ইরানের সম্পদের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকানোরও সাহস না পায়।


&lt;strong&gt;আঘাত এলে পালটা আঘাত :&lt;/strong&gt;

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পূর্বে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার উপর নির্ভরশীল ছিল। ইরানের সেই পরনির্ভরশীল অবস্থা থেকে উত্তরণের পেছনে একটি বড় কারণ হলো-মার্কিন বৈরিতা। আমেরিকার শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র আজ ইরানের জন্য শাপে বর হয়েছে। ইরান,আমেরিকার হুমকি মোকাবেলায় নিজেকে শক্তিশালী করতে বাধ্য হয়েছে। ইরান কখনো অন্য রাষ্ট্রের উপর হামলার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু নিজ দেশ আত্রান্ত হলে ইরানের সশস্ত্রবাহিনী ও জনগণ যে কাউকেই ছেড়ে দেবে না একথা দিবালোকের মতো স্বচ্ছ।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-7194611577437214751?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/7194611577437214751/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=7194611577437214751' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/7194611577437214751'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/7194611577437214751'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2007/06/blog-post_6335.html' title='ইরানের  প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙক্ষিপ্ত চিত্র'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-554165117578770762</id><published>2007-06-01T05:06:00.001-07:00</published><updated>2007-06-01T05:24:20.255-07:00</updated><title type='text'>পারমানবিক বোমা দেশে দেশে</title><content type='html'>পরমাণূ প্রযুক্তির অধিকারী দেশগুলোর মধ্যে কোনো কোনো দেশ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে পরমাণূ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু পরমাণূ শক্তিধর অন্য দেশগুলো শিল্প বা অন্যান্য শান্তিপূর্ণ ক্ষেত্রে পরমাণূ শক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে। পরমাণূ অস্ত্রের অধিকারী দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম ভাগে রয়েছে আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, বৃটেন ও চীন। এই দেশগুলো পারমাণবিক কাবের পুরনো সদস্য। একইসাথে এ দেশগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেরও স্থায়ী সদস্য। এই দেশগুলো পরমাণূ অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটি স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বৃহৎ পঞ্চশক্তি বলে পরিচিত এই দেশগুলো তাদের পরমাণূ অস্ত্র ধ্বংসের ব্যাপারে এই চুক্তির কোনো শর্তই পালন করেনি। পরমাণূ অস্ত্রের অধিকারী দ্বিতীয় শ্রেণীর দেশগুলো পরমাণূ অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটিতে স্বার করেনি। ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইহুদিবাদী ইসরাইল এই শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকাই সর্বপ্রথম এই ধ্বংসাত্মক অস্ত্র নির্মাণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালে এ অস্ত্রের অধিকারী হলে বিশ্বের সামরিক ভারসাম্য বদলে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে আমেরিকা জাপানের হিরোসীমা ও নাগাসাকি শহরের জনগণের ওপর পরমাণূ বোমা নিপে করায় জাপান সরকার আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

রাশিয়া : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার সাথে শক্তির ভারসাম্য রার জন্যে পরমাণূ অস্ত্র অর্জনের জোর প্রচেষ্টা চালায় । মস্কো ১৯৪৯ সালে তার পরমাণূ অস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করে।

ফ্রান্স, বৃটেন ও চীন : রাশিয়ার পর ফ্রান্স, বৃটেন ও চীন ষাটের দশকে পরমাণূ বোমার অধিকারী হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটে। আমেরিকা ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে মূলতঃ গোটা বিশ্ব দুটি ব্লক বা বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর এক্ষেত্রে এ উভয় পরাশক্তির জন্যেই পরমাণূ শক্তি পরস্পরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হয়। পরমাণূ শক্তির কারণে এ উভয় দেশ পাঁচ দশকেরও বেশী সময় ধরে পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থেকেছে। কারণ পরমাণূ শক্তিধর এ দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তাতে কেউই বিজয়ী হতো না।

&lt;em&gt;&lt;strong&gt;কার কাছে কতটি বোমা ?&lt;/strong&gt;&lt;/em&gt;

&lt;strong&gt;আমেরিকা :&lt;/strong&gt; সর্বসামপ্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বিশ্বে সাতাশ হাজার ছয়শোটি পরমাণূ অস্ত্র রয়েছে। এরমধ্যে আমেরিকার কাছে রয়েছে অন্ততঃ দশ হাজার পরমাণূ অস্ত্র।

&lt;strong&gt;রাশিয়া :&lt;/strong&gt; বিশ্বে আমেরিকার পরে রাশিয়ার কাছেই সবচেয়ে বেশী পরমাণূ অস্ত্র রয়েছে। অবশ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর রাশিয়ার পরমাণূ অস্ত্রের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা দূর্বল হয়ে পড়ায় দেশটির সামরিক বাজেট ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে এবং এমনকি দেশটি তার অনেক পরমাণূ স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের খরচও যোগাতে পারছে না।

&lt;strong&gt;ফ্রান্সঃ&lt;/strong&gt; ফ্রান্স ১৯৬০ থেকে ১৯৯৬  সালের মধ্যে ২১০ টি পরমাণূ অস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ১৯৯২সালে এ দেশটির পরমাণূ অস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১১০টিতে। ফ্রান্সের ৮৪ টি বিমান ও চারটি ডুবোজাহাজের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ পরমাণূ অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে।

&lt;strong&gt;বৃটেনঃ&lt;/strong&gt; ফ্রান্সের পর বৃটেন ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরমাণূ শক্তি। ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে দেশটি প্রায় ৮৩৪ টি পরমাণূ অস্ত্র নির্মাণ করেছে। বৃটেনেরও চারটি পরমাণবিক ডুবো জাহাজ রয়েছে। এই ডুবোজাহাজগুলোর প্রত্যেকটিই ১৬টি ট্রাইডেন্ট ক্ষেপনাস্ত্রে সজ্জিত।

&lt;strong&gt;চীনঃ&lt;/strong&gt; চীন পারমাণবিক কাবের পঞ্চম সদস্য। এই দেশটির কাছে ৪০০টি পরমাণূ অস্ত্র রয়েছে এবং পরমাণূ অস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্যে বিভিন্ন ধরনের উৎক্ষেপণ মঞ্চও রয়েছে। চীন তার অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি সামরিক শক্তিও বৃদ্ধি করে চলেছে।

&lt;strong&gt;ভারতঃ&lt;/strong&gt; ভারত সর্বপ্রথম ১৯৭৪ সালে পরমাণূ অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এরপর দেশটি ১৯৮৮ সালে আরো ৫টি পরমাণূ অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। ভারতের পরমাণূ অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা কয়টি তা নিয়ে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে মনে করা হয় ভারতের কাছে ৭৫ থেকে ১১০টি পরমাণূ অস্ত্র রয়েছে।

&lt;strong&gt;পাকিস্তান: &lt;/strong&gt;দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ৮০'র দশকে পরমাণূ তৎপরতা শুরু করে। দেশটির কাছে ৫০-৬০টি বোমা রয়েছে।

&lt;strong&gt;উত্তর কোরিয়াঃ&lt;/strong&gt; পূর্ব এশিয়ার অন্য একটি দেশ উত্তর কোরিয়ার কাছে নয়টি পরমাণূ অস্ত্র আছে বলে মনে করা হয়।

&lt;strong&gt;ইসরাইল:&lt;/strong&gt; বর্ণবাদী ইসরাইল ১৯৬৭ সালে প্রথমবারের মতো পরমাণূ অস্ত্র নির্মাণ করে। দখলদার ইসরাইলের পরমাণূ অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা কতো তা জানা বেশ কঠিন। তবে ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাছে প্রায় ২০০ পরমাণূ বোমা বা অস্ত্র আছে বলে মনে করা হয়।

&lt;em&gt;&lt;strong&gt;পরমাণু বোমা ও আমেরিকা :&lt;/strong&gt;&lt;/em&gt;
আমেরিকা চায় পরমাণূ অস্ত্র শুধু পারমাণবিক কাবভূক্ত দেশের মধ্যেই সীমিত থাকুক। অর্থাৎ পরমাণূ অস্ত্রের অধিকারী ৫ টি দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের কাছে পরমাণূ অস্ত্র থাকুক তা আমেরিকার কাম্য নয়। অবশ্য আমেরিকার এ নীতির ক্ষেত্রে ইসরাইলকে ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে। আমেরিকা সেই ষাটের দশকের প্রথম থেকেই দখলদার ইসরাইলকে পরমাণূ ক্ষেত্রে সহযোগীতা করে আসছে।

&lt;strong&gt;&lt;em&gt;পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহঃ&lt;/em&gt;&lt;/strong&gt;

১৯৪৫ সালে মার্কিন পরমাণূ বোমার আঘাতে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহর দুটি ধ্বংস হয়ে গেলে বিশ্ববাসী পরমাণূ বোমার প্রলয়ংকরি ধ্বংসাত্মক মতা সম্পর্কে অবহিত হয়। কিন্তু পরমাণূ অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত চুক্তি বা এনপিটি প্রণয়ন করতে বিশ্ব সমাজ আরো দুই দশক সময় নেয়। বিশ্ব সমাজ ১৯৬৯ সালে এ চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। এ চুক্তি স্বারিত হবার পর আমেরিকা ও রাশিয়া তাদের পরমাণূ অস্ত্রগুলোর সংখ্যা কমানোর জন্যে আরো কয়েকটি চুক্তি স্বার করে। এ চুক্তিগুলো সল্ট-এক, সল্ট-দুই, স্টার্ট-এক ও স্টার্ট দুই নামে পরিচিত। কিন্তু পরমাণূ অস্ত্রের অধিকারী কোনো দেশই এনপিটিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী পরমাণূ অস্ত্র কমিয়ে ফেলতে রাজী হয়নি। সল্ট-এক, সল্ট-দুই, স্টার্ট-এক ও স্টার্ট দুই প্রভৃতি চুক্তিগুলোও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ঘটনায় প্রভাবিত হয়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পরমাণূ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যে পরমাণূ অস্ত্র পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার চুক্তি তথা কমপ্রিহেন্সিভ টেষ্ট ব্যান ট্রিটি বা সংক্ষেপে সি টি বি টি চুক্তি স্বারিত হয়। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বেশী পরমাণূ অস্ত্রের অধিকারী দেশ আমেরিকা এখনও এ চুক্তি অনুমোদন করতে রাজী হয়নি। আর এ থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা বিশ্বে পরমাণূ অস্ত্রের বিস্তার রোধ করতে আগ্রহী বলে যে প্রচার চালিয়ে থাকে তা সত্য বা আন্তরিক নয়। আসলে মার্কিন সরকার শুধু বিশ্বব্যাপী নিজের আধিপত্য ও কতৃর্ত্ব বিস্তারের স্বপ্নে বিভোর।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-554165117578770762?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/554165117578770762/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=554165117578770762' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/554165117578770762'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/554165117578770762'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2007/06/blog-post_2414.html' title='পারমানবিক বোমা দেশে দেশে'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-2664561081351651650</id><published>2007-06-01T05:01:00.000-07:00</published><updated>2007-06-01T05:05:26.816-07:00</updated><title type='text'>এই পৃথিবীতে সবার প্রিয় মধুর নাম যে 'মা'</title><content type='html'>&lt;span style="font-size:130%;"&gt;পৃথিবীতে বাবা-মাই আমাদেরকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসেন। জন্মের পর থেকেই প্রতিটি বাবা-মা নিজেদের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে সন্তানের সুখ ও নিরাপত্তার জন্য যতটা পেরেশান হয়ে পড়েন অন্য কেউই এমনটি করেন না। সন্তান যেন আদর্শ মানুষ হয় এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয় সেজন্য বাবা-মা শৈশব থেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করেন। আর এজন্যই পৃথিবীর সব ধর্মই বাবা-মাকে বিশেষ সম্মান দিয়েছে। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;পবিত্র কুরআনে বাবা-মা :&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;পবিত্র কোরআনের অন্ততঃ পনের জায়গায় পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। সুরা লোকমানের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি কেননা তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। আমি আরো নির্দেশ দিয়েছি আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে।' অন্যদিকে সূরা বনি ইসরাইলের ২৩ ও ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে 'উহ' শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিওনা। তাদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণভাবে কথা বলো।&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;'রাসূলের দৃষ্টিতে বাবা-মা :&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;রাসূলে খোদা মায়ের মর্যাদা দিতে গিয়ে বলেছেন, জান্নাত মায়ের পদতলে। অন্যদিকে পিতার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, পিতার সন্তুষ্টির ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টির ওপর আল্লাহর অসন্তুষ্টি নির্ভর করে। পিতামাতার সাথে অসৎ আচরনের পরিণাম সম্পর্কে তিনি বলেছেন, সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ কী তা কি আমি তোমাদের জানাব? তা হচ্ছে- আলাহর সঙ্গে শিরক করা ও পিতা-মাতার সঙ্গে অসদাচরণ। এ প্রসঙ্গে হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, পিতামাতাকে অসম্মান করা বড় ধরণের পাপ। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;'কার মর্যাদা বেশী ?&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;পিতামাতা দুজনই সন্তানের কাছে মর্যাদাবান হলেও ইসলামে মায়ের মর্যাদা পিতার চেয়েও বেশী দেওয়া হয়েছে। কারণ সন্তানকে লালনপালন করার ক্ষেত্রে মা-ই বেশী ভূমিকা পালন করে থাকেন। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর জন্মের আগেই বাবা এবং মাত্র ছয় বছর বয়সেই মাকে হারান। বাবার স্নেহ ও মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হলেও নবীজি তাঁর দুধমা হালিমাকে মায়ের মতোই ভালোবাসতেন। এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ঘটনা নিম্নরুপঃ 'রাসূল (সাঃ) একদিন তাঁর সাহাবীদের সাথে আলাপ করছিলেন। এমন সময় এক বৃদ্ধা সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। নবীজি বৃদ্ধাকে দেখে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন এবং তাঁর গায়ের চাদরটি মাটিয়ে বিছিয়ে তাকে বসতে দিলেন। তারপর অত্যন্ত দরদ দিয়ে বৃদ্ধার সাথে কথাবার্তা বললেন। বৃদ্ধা চলে গেলে সাহাবীরা বিষ্মিত হয়ে নবীজিকে জিজ্ঞেস করলেন,' কে এই মহিলা যার জন্য আপনার এতো দরদ, এতো আন্তরিকতা?' নবীজি উত্তরে বললেন, তিনি আমার দুধমাতা হালিমা। তিনি আরো জানালেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পরেই মায়ের স্থান এবং মায়ের পায়ের নিচেই সন্তানের বেহেশত।&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt; বায়েজীদ বোস্তামীর মাতৃভক্তি :&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;কেবল রাসূল (সাঃ)-ই নন, যুগে যুগে অসংখ্য মানুষ মাতৃভক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ইরানের বিখ্যাত সাধক হযরত বায়েজীদ বোস্তামীর নাম কে না জানে?। ইরানের মাজানদারান প্রদেশের বোস্তাম নগরে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। কবি কালিদাস রায় তার 'মাতৃভক্তি' কবিতায় বায়েজিদ বোস্তামীর মাতৃভক্তির এক বিষ্ময়কর কাহিনী তুলে ধরেছেন। এই কবিতায় আমরা দেখতে পাই- একদিন হযরত বায়েজিদ বোস্তামীর মা হঠাৎ করে রাতে ঘুম থেকে জেগে পানি খেতে চাইলেন। বালক বায়েজিদ দেখলেন, ঘরের কলসিতে পানি নেই। তখনি তিনি ছুটলেন বহু দুরের ঝর্ণা হতে পানি আনতে। পানি নিয়ে এসে দেখলেন, মা এরই মধ্যে ঘুমিয়ে গেছেন। মায়ের ঘুম ভাঙানো অপরাধ হবে ভেবে তিনি সারারাত পানির গ্লাস হাতে মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে রইলেন। আর প্রতিজ্ঞা করতে লাগলেন- কখন মায়ের ঘুম ভাঙবে? এক সময় রাত কেটে গেল। ফজরের আযান হলো। মা জেগে দেখলেন, বায়েজিদ দাঁড়িয়ে আছেন। মায়ের প্রতি ভক্তি দেখে আনন্দে মা কেঁদে ফেললেন। কবি কালিদাসের ভাষায়-কহিল মা, মরি মরি!বাছারে আমার পানি হাতে করে সারা রাত্রটি ধরিদাঁড়াইয়া আছো? ঘুমাওনি আজ? চোখে এলো জল ভরি।এ ঘটনার পর কান্না ভেজা চোখে মা সেদিন বায়েজিদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। আর মায়ের দোয়ার বরকতে হযরত বায়েজিদ বড় হয়ে বিশ্ব বিখ্যাত আউলিয়াদের একজন হয়ে গেলেন। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;মা মাকড়সার আত্মত্যাগ :&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;মা মাকড়সার ডিম ফুটে যখন বাচ্চা বের হয় তখন তারা ক্ষুধার জ্বালায় মা-মাকড়সার শরীর ঠুকরে ঠুকরে খেতে থাকে। এভাবে খেতে খেতে এক সময় মায়ের পুরো শরীরটাই তারা খেয়ে ফেলে। সকল যন্ত্রণা মা নীরবে সহ্য করে। এভাবে নিজের জীবন দিয়ে তারা সন্তানের জীবন বাঁচায়।&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;বাংলা সাহিত্যে 'মা' :&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;বাংলা সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মায়ের উপস্থিতি। এমন কোন কবি হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি মাকে নিয়ে কবিতা লিখেন নি। বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম লিখেছেন-যেখানেতে দেখি যাহা মা-এর মতন আহাএকটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,মায়ের যতন এত, আদর সোহাগ সে তোআর কোনখানে কেহ পাইবে না ভাই। অন্যদিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন-মা বুঝি গান গাইতো আমারদোলনা ঠেলে ঠেলেমা গিয়েছে, যেতে যেতেগানটি গেছে ফেলে। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;মা যদি হারিয়ে যায় !&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;পৃথিবীতে যে মানুষটি আমাদের এতো আপন সেই মা-ই যদি কোন সময় হারিয়ে যায়; তাহলে কেমন লাগবে একবারও কি ভেবে দেখেছেন কখনো? যাদের মা নেই তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই আমাদের সবার উচিত মা-বাবাকে সম্মান করা এবং যাদের মা নেই তাদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;এই পৃথিবীতে সবার প্রিয় মধুর নাম যে 'মা'&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;কি যেন জাদু 'মা' নামেতে ভুলতে পারি না।&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-2664561081351651650?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/2664561081351651650/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=2664561081351651650' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/2664561081351651650'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/2664561081351651650'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2007/06/blog-post_01.html' title='এই পৃথিবীতে সবার প্রিয় মধুর নাম যে &apos;মা&apos;'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8369408770205563264.post-3134695281149786560</id><published>2007-06-01T04:38:00.000-07:00</published><updated>2007-06-01T04:51:01.822-07:00</updated><title type='text'>বন্ধুত্ব কি এবং কেন?</title><content type='html'>&lt;span style="font-size:130%;"&gt;বন্ধুহীন জীবন নাবিক বিহীন জাহাজের মতো। তাই মানুষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একজন ভালো বন্ধুর প্রয়োজন অনুভব করে। কারণ, একজন প্রকৃত বন্ধু জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার অংশীদার হয়। প্রকৃত বন্ধুই পারে আত্দার আত্মীয় হয়ে কিছুণের জন্য হলেও দুঃখ-কষ্টকে ভুলিয়ে রাখতে। প্রাচীন প্রবাদে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হতো, 'সম্পর্ক যখন জ্বরে পুড়ে তখন তার নাম হয় ভালবাসা, আর ভালবাসা যখন জ্বরে পুড়ে তার নাম হয় বন্ধুত্ব। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এরিস্টটল বলেছেন, 'দুটি দেহে একটি আত্মার অবস্থানই হলো বন্ধুত্ব।' এমারসন বলেছেন, 'প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব।' নিটসে বলেছেন, 'বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রাণরাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো।'&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;এবার দেখা যাক বন্ধুত্ব সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, 'মুমিনগণ যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এমনটি করবে, আল্লাহ তাদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখবেন না। হাদিসে বলা করা হয়েছে, 'মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে ওঠে। সুতরাং বন্ধু নির্বাচনের সময় খেয়াল করা উচিত সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।' এর মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, সব ধরনের লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। রাসূল (সা.) বলেছেন, 'দুনিয়াতে যার সঙ্গে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রয়েছে, পরকালে তার সঙ্গেই হাশর হবে ।' এজন্য বন্ধু নির্বাচনের আগে তাকে পরীক্ষা করে নেয়া জরুরি। ইমাম গাযযালী (রহঃ) বলেন, 'সবাইকে বন্ধু নির্বাচন করা যাবে না, বরং ৩টি গুণ দেখে বন্ধু নির্বাচন করা উচিত। গুণ তিনটি হল- ১. বন্ধুকে হতে হবে জ্ঞানী ও বিচণ ২. বন্ধুর চরিত্র হতে হবে সুন্দর ও মাধুর্যময় এবং ৩. বন্ধুকে হতে হবে নেককার ও পুণ্যবান।' &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;ফরাসী এক প্রবাদে বলা হয়েছে, 'বন্ধুত্ব হলো তরমুজের মতো। ভালো একশটিকে পেতে হলে এক কোটি আগে পরীা করে দেখতে হয়।' ইরানের বিখ্যাত মনীষী শেখ সাদী (রহঃ) বলেছেন, 'সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ' । এ উক্তির মুলকথা হচ্ছে, একজন উত্তম বন্ধু যেমন জীবনের গতি পাল্টে দিতে পারে, তেমনি একজন অসৎ বন্ধু জীবনকে ধ্বংসের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দিতে পারে । তাই যাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে তাকে আগেই যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। জ্ঞানী, সৎ, ন্যায়পরায়ণ, ত্যাগী, নিঃস্বার্থ, চরিত্রবান, সহজ-সরল ইত্যাদি গুণাবলি দেখে বন্ধু নির্বাচন করলে আশা করা যায় সে উত্তম বন্ধু হতে পারে। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;ইমাম জয়নুল আবেদীন (রহঃ) পাঁচ শ্রেণীর মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন। ওই পাঁচ শ্রেণীর মানুষ হলো- মিথ্যাবাদী, ইতর, কৃপন, অভদ্র ও নির্দয়। অন্যদিকে ইমাম জাফর সাদেক (রহঃ) তিন শ্রেণীর লোকের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন। ওই তিন শ্রেণী হলো- বিশ্বাসঘাতক, নির্মম ও মিথ্যাবাদী। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, শেষ বিচারের দিন সকল বন্ধুই শত্রুতে পরিণত হবে তবে একমাত্র সৎ বন্ধুই সেদিন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেবে। তাই বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, আমানতদারি, সত্যবাদিতা, বিশ্বস্থতা প্রভৃতি গুণের প্রতি ল্য রাখতে হবে। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;তবে ভালো গুণ দেখে বন্ধুত্ব করার পরও অনেক সময় বন্ধুর মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা খারাপ গুণগুলো প্রকাশ পেয়ে যায়। এক্ষেত্র যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সে বন্ধুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। যেমনটি করেছিলেন, আহলে বাইতের ষষ্ঠ ইমাম হযরত জাফর সাদেক (রহঃ)। 'ইমাম জাফর সাদেকের এক বন্ধু ছিলো; যে সব সময় ইমামের সাথে ঘোরাফেরা করতো। একদিন ইমাম বাজারে গেলেন। সঙ্গে সেই বন্ধু ও তার কাজের ছেলেটি ছিলো। বাজারে ঘুরতে ঘুরতে কাজের ছেলেটি কৌতুহল বশতঃ এটা ওটা দেখছিলো এবং মাঝে মাঝে পরিচিত লোকদের সাথে কথা বলছিলো। এতে সে তার মনিবের কাছ থেকে একটু পিছিয়ে পড়লো। আর এদিকে ইমাম ও তার বন্ধুটি বাজারের মাঝখানে চলে গেল। হঠাৎ পেছনের দিকে তাকিয়ে কাজের ছেলেকে না দেখে ইমামের বন্ধুর মেজাজ বিগড়ে গেল। কিছুন পর ছেলেটি ফিরে এলে মনিব তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। ইমামের সামনেই সে কাজের ছেলেটির বাপ-মা তুলে গালি দিলো। লোকটির অশ্লীল কথাবার্তা শুনে ইমাম অবাক হয়ে তার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বললেন, 'হায় আল্লাহ! একি করলে তুমি! ছেলেটির বাপ-মা তুলে গালি দিলে? আমি তো মনে করেছিলাম তুমি একজন ধার্মিক ও খোদাভীরু লোক। এখন দেখছি সামান্য তাকওয়াও তোমার মধ্যে নেই!'ইমামের কথা শুনে লোকটি বলল, আপনাকে আর কি বলবো, এই ছেলেটি আসলেই বদ। তার মা সিন্ধু থেকে এসেছিলো। ওই বেটির জন্মেরও কোন ঠিক ছিল না। তাছাড়া সে মুসলমানও ছিল না। সেক্ষেত্রে তাকে কিছু বলা মোটেও অন্যায় হয়নি।'ইমাম বললেন, 'আমি জানি ওই মহিলা একজন অমুসলিম ছিল। কিন্তু তোমার জানা দরকার, প্রত্যেক ধর্মেরই নিজ নিজ আইন কানুন আছে। একজন অমুসলিম তার নিজ ধর্মের আইন অনুযায়ী বিয়ে করলে অশুদ্ধ হয় না। তাদের বিয়ের পর সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করলেও তা অবৈধ হয় না। তুমি ছেলেটির মাকে অন্যায়ভাবে অপবাদ দিয়েছো। তাই তোমার সাথে বন্ধুত্ব রাখা আমার পক্ষে আর সম্ভব না। আজ থেকে তোমার সাথে আমার সম্পর্কের অবসান হলো। এ ঘটনার পর ইমাম জাফর সাদেকের সাথে ওই লোকটিকে আর কখনই দেখা যায়নি।' &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;অসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু এ কথা সবাই জানে। যে লোক রোদ উঠলে ছাতা ধার দেয় আর বৃষ্টি শূরু হলেই ছাতা নিয়ে নেয় সে কখনো বন্ধু প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। এ সম্পর্কে একটি বহুল প্রচলিত গল্প আছে। 'একবার দুই বন্ধু জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ একটি ভাল্লুক তাদেরকে আক্রমন করতে এলো। দু'বন্ধুর মধ্যে যে গাছে উঠতে জানতো সে অন্যজনকে সাহায্য করার চেষ্টা না করে দৌড়ে গিয়ে গাছে উঠলো। অন্যজন কোন উপায় না দেখে মাটির ওপর মরার মতো শুয়ে রইলো। ভাল্লুক এসে লোকটির মুখ শুঁকে মৃত ভেবে চলে গেল। ভাল্লুক চলে যেতেই গাছের ওপর থেকে লোকটি নিচে নেমে এসে তার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলো, 'বন্ধু! ভাল্লুক তোমার কানে কানে কি বলল?' লোকটি জবাব দিলো- ভাল্লুকটি আমাকে বলেছে , যে বন্ধু বিপদ দেখে পালিয়ে যায়, সে প্রকৃত বন্ধু নয়; তাকে কখনো বিশ্বাস করো না।'এ গল্প থেকে বুঝা যায় যে, সত্যিকারের বন্ধু কখনো বন্ধুর বিপদ দেখে পালিয়ে যেতে পারে না। বরং তারা বিপদে- আপদে পরস্পরকে সাহায্য করে। সে সাহায্য কোন দয়া-দাণ্যি কিংবা অনুগ্রহ নয়। সে সাহায্য জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যদি এ রকম সাহায্য না পাওয়া যায় তাহলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকে না। &lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;/span&gt;
&lt;span style="font-size:130%;"&gt;বন্ধুত্ব যেমন সামাজিক জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তেমনি বন্ধুত্ব করা ঈমানের অঙ্গও বটে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসল, তাঁর জন্যই কাউকে ঘৃণা করল, তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাউকে দান করল এবং তা থেকে বিরত থাকল তবে নিঃসন্দেহে সে নিজ ঈমানকে পূর্ণতা দান করল।' তাই বন্ধুত্ব যদি করতে হয় তাহলে ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে বন্ধু নির্বাচন করা উচিত। তাহলেই আমাদের জীবন হবে বিপদমুক্ত, নির্মল, ও আনন্দময়। #&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8369408770205563264-3134695281149786560?l=ashraf-rahman.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/feeds/3134695281149786560/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8369408770205563264&amp;postID=3134695281149786560' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/3134695281149786560'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8369408770205563264/posts/default/3134695281149786560'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://ashraf-rahman.blogspot.com/2007/06/blog-post.html' title='বন্ধুত্ব কি এবং কেন?'/><author><name>আশরাফ রহমান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/07344830275543806447</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='26' height='32' src='http://4.bp.blogspot.com/_sragSmHfwEg/S5eyNtRYh8I/AAAAAAAAAF8/be7D4P5Ecr0/S220/2.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry></feed>
